ফাঁকা ঢাকায় নিরাপত্তার ঝুঁকিতে এটিএম বুথ

প্রকাশ | ১৪ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনার কারণে ফাঁকা ঢাকায় অপরাধমূলক নানা কাজের শঙ্কা বাড়ছে। ফার্মেসি ও এটিএম বুথের মতো জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে সবচেয়ে ঝুঁকিতে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে নিরাপত্তা ব্যবস্থার তাগিদ বিশ্লেষকদের। আর প্রশাসন বলছে, নগরীতে অপরাধ শূন্যের কোঠায় চলে এলেও অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে সতর্কতার বিকল্প নেই। কোভিড-১৯ এর বিস্তার ঠেকাতে মানুষ ঘরে থাকায় দিনভর ফাঁকাই থাকছে রাজধানী। এরই মধ্যে গত ১ এপ্রিল নগরীর কলেজগেট এলাকায় খোলা থাকা একটি ফার্মেসিতে ডাকাতি হয়। গত রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহাদাত হোসেন সোমা জানান।

এরা হলেন ডাকাত দলের নেতা সোহেল (৩৬), সোহরাব হোসেন (৩০), নেওয়াজ (২২), শাহীন (২৫), ও রাজু (২৫)। সোহেলের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে হলেও মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় থাকেন। শাহিনের বাড়ি বরিশালে ও সোহরাবের বাড়ি শরীয়তপুরে, তারা দুজনেই কেরানীগঞ্জ এলাকায় বাস করেন। নেওয়াজ থাকেন মিরপুর চিড়িয়াখানা এলাকায়।

উপকমিশনার শাহাদাত বলেন, গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ছোট একটি ট্রাক, চাপাতি, লোহার রড ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে সম্প্রতি মাদকের টাকা লেনদেনের জেরে খুন হন পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি। তাকেও গ্রেফতার করে ডিএমপির রমনা বিভাগ।

ডিএমপি রমনা বিভাগ সহকারী পুলিশ কমিশনার এস এম শামীম রিপন নামের একটা ছেলে তার কাছে কোনো ছুরি বা ফোন ছিল না। মগবাজার ফ্লাইওভারের নিচেই আমরা আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে পেয়ে গেলাম। এই পরিস্থিতিতে আমরা হুটার বাজিয়ে চলাফেরা করি। তাতে করে অপরাধীরা ও সাধারণ জনগণ বুঝতে পারে আমরা তৎপর আছি।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, জননিরাপত্তার পাশাপাশি বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে খোলা থাকা জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে। প্রয়োজনে বাড়তি নিরাপত্তা কর্মীর ব্যবস্থা করার পরামর্শ তাদের।

অপরাধ বিশ্লেষক হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব সংস্থা লকডাউন বাস্তবায়ন করতে কাজ করে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আবেদন করতে পারে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় ফোর্স দেওয়া জন্য।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, রাজধানীতে বাড়ানো হয়েছে টহল কার্যক্রম। পাশাপাশি দ্রুত অপরাধী ধরতে এবং অপরাধ কমাতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি সোহেল রানা বলেন, আমরা কোনো অপরাধের খবর পেলেই টিম পাঠিয়ে সেটি দমনের চেষ্টা করছি এবং আমরা তৎপর রয়েছি। রাজধানীজুড়ে অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

 

"