জিয়াউদ্দিন রাজু

  ১৯ জানুয়ারি, ২০২৩

বিরোধীদের গণনায় রেখে আ.লীগের নির্বাচনী ছক

বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনের হুমকি বা বিদেশিদের সঙ্গে গাটছড়ার তৎপরতা গণনায় রেখেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ছকে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগ। তাই দিবসভিত্তিক কর্মসূচি পালনের গণ্ডির ভেতরে না থেকে দলকে নির্বাচনমুখী করতে নানা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে কাজ শুরু করেছেন দলীয় উচ্চপর্যায়ের নেতারা। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীদের নির্বাচনমুখী করতে একাধিক পরিকল্পনাও করছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। তাদের নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে দলীয় হাইকমান্ড। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে এসব বিষয়ে জানা গেছে।

দলের নেতারা মনে করেন, রাজপথের প্রধানবিরোধী দল বিএনপি এবং অন্যরা নির্বাচনমুখী হচ্ছে। কারণ, দেশের জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সখ্যের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে নির্বাচন। তা না হলে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় না থাকা বিএনপি নেতাকর্মীরা নিরাশ হয়ে যাবেন। তাই দল বাঁচাতে হলেও বিএনপি নির্বাচনে আসবে।

আওয়ামী লীগ নেতাদের কথোপকথনে জানা গেছে, সামনের দিনগুলোতে বিরোধীদের আন্দোলন আর নির্বাচনÑ এ দুটি বিষয় নিয়েই সরকারি দলের বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিরোধী পক্ষের বক্তব্য ও দাবি-দাওয়া না মানলেও আমলে নিচ্ছেন ক্ষমতসীন দলের নেতারা। বিরোধীদের আগামী দিনের কর্মসূচি দেখেই পরবর্তী করণীয়ও নির্ধারণ করবে সরকার ও দল।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি বলেন, নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হোক; কেননা, আওয়ামী লীগ খালি মাঠে গোল দিতে চায় না। প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিশালী হলে নির্বাচনও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে। শেখ হাসিনা সরকার ভালো একটি নির্বাচন বাংলাদেশে চায়। আওয়ামী লীগ দেশে ভালো একটা নির্বাচন হোক তা মনেপ্রাণে চায়। নির্বাচন বেশি দূরে নয়, আপনারা জোট করুন বা নিজেরা একা আসুন সেটা আপনাদের ব্যাপার। নির্বাচনে আসতে হবে, ক্ষমতার মঞ্চে কোনো পরিবর্তন চাইলে নির্বাচন ছাড়া বিকল্প পথ নেই।

আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা মনে করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আবারও এ দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। সেই বিশ্বাস দলের নেতাদের রয়েছে। জনগণের প্রতি অগাধ আস্থাও নেত্রীর রয়েছে। এ দেশের মানুষ উন্নয়ন দেখতে চান। সন্ত্রাসের রাজনীতি পছন্দ করেন না। সন্ত্রাস করে কেউ ক্ষমতায় যেতে পারবে না। তারা মনে করেন, বিএনপি-জামায়াত ২০১৩-১৪ সালে নির্বাচন বানচালের জন্য যেভাবে জ্বালাও-পোড়াও করেছে তাতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তারা সন্ত্রাসী দল হিসেবে চিহ্নিত। তৃণমূলে দলের সভা-সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতারা ভোটারদের মধ্যে এসব বিষয়ে বার্তা দিচ্ছেন। একই সঙ্গে বিগত ১৪ বছর টানা ক্ষমতায় থাকার ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান করছেন তারা।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও শরিক ১৪ দলের মুখপাত্র আমির হোসেন আমু সম্প্রতি বলেছেন, ২০১৪ সালের জানুয়ারির মধ্যে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগেরই বিজয় হবে। টানা ক্ষমতায় থাকার ফলে আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করেছে। জনগণ এর প্রতিদান দেবে, এটাই নিয়ম। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিরুদ্ধে বিএনপির কোনো ষড়যন্ত্রই কাজে আসবে না।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে সংসদ নির্বাচন হবে। সে পর্যন্ত বিএনপির হরতাল, অবরোধ, গণসমাবেশ, গণ-অবস্থান, মানববন্ধনসহ আন্দোলন আন্দোলন খেলা চলতে থাকবে। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। আর তারা যদি মনে করে সরকারের পতন ঘটিয়ে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। সেটি অবাস্তব ও সংবিধানবিরোধী। দেশে সংবিধান অনুযায়ী সময়মতো সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।

পিডিএসও/এমএ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
বিরোধীদের গণনা,আ.লীগের নির্বাচনী ছক
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close