বদরুল আলম মজুমদার

  ১৮ নভেম্বর, ২০২২

১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশ : নয়াপল্টন, সোহরাওয়ার্দী নাকি অন্য কোথাও? 

ঢাকায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশস্থলের অনুমতি নিয়ে বিপাকে দলটির নেতারা। পুলিশের পক্ষ থেকে ঢাকার বাইরে পূর্বাচল বা টঙ্গী ইজতেমা মাঠে বিভাগীয় সমাবেশ করার প্রস্তাব আসে। প্রশাসনের এমন প্রস্তাব সামনে রেখে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন বিএনপি নেতারা। যদিও এরই মধ্যে তিন বিকল্প ভেন্যু নিয়ে বিএনপির প্রস্তাবে এখনো সাড়া দেয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে শেষ পর্যন্ত সমাবেশস্থল হিসেবে বিএনপি নয়াপল্ট বা সোহরাওয়ার্দীতে অটল থাকতে পারেন বলে দলটির নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে।

নেতাদের মতে, যেকোনো মূল্যে নয়াপল্টনে বা মহানগরের কেন্দ্রবিন্দুতেই ১০ ডিসেম্বর মহাসমাবেশ করতে অনড় থাকবে বিএনপি। নয়াপল্টনের বিকল্প হিসেবে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও আরামবাগ মোড়ে সমাবেশের অনুমতি চাইবে দলটি। অবশ্য বিকল্প তিন জায়গায় অনুমতির বিষয়ে সন্দিহান দলটির সিনিয়র নেতারা। তাই শেষ মুহূর্তে নয়াপল্টনেই সমাবেশ করতে হবে বলে মনে করছেন তারা। একই সঙ্গে নেতারা বলছেন, অতীতেও এখানে বিএনপি ও ২০-দলীয় জোটের মহাসমাবেশ হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ওইসব সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রেখেছেন। সেই পদাঙ্ক অনুসরণ করে এবারও তারা নয়াপল্টনেই সমাবেশ করতে চান। তবে সেখানে না দিলে শেষ বিকল্প হিসেবে তারা সোহরাওয়ার্দীতে অনড় থাকতে পারেন। কোনো অবস্থায় রাজধানীর বাইরে মহাসমাবেশ করতে রাজি হবেন না তারা।

বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আগামী ১০ ডিসেম্ভর ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশের জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে তিনটি স্থানকে সামনে রেখে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঢাকার বাইরে সমাবেশ করার জন্য যে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে বলে আমরা শুনেছি, সেটাতে যাব না। রাজধানীতেই আমরা সমাবেশ করব। সেটা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সমাবেশের অনুমতি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু নাটক তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সমাবেশের জন্য আমাদের প্রথম পছন্দ হচ্ছে নয়াপল্টন। আর দ্বিতীয় পছন্দ হচ্ছে সোহরাওয়ার্দী। এ দুটি ভেন্যুর বাইরে আমরা যেতে চাই না।’

তবে বিএনপি নেতাদের শঙ্কা, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঢাকা মহানগরের এক পাশে কিংবা বাইরে পূর্বাচলের মতো দূরবর্তী স্থানে সমাবেশ করার পরামর্শ দেওয়ার পেছনে সরকারের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। ওইসব স্থানে ক্ষমতাসীন দলের হামলা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন তারা। নয়াপল্টনে সমাবেশ হলে নেতাকর্মীর শৃঙ্খলা, নিরাপত্তাসহ সবকিছু তাদের অনুকূলে থাকবে। সবকিছু বিবেচনা করে নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের স্থানটি বিএনপির হাইকমান্ডের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে।

ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান এ প্রতিবেদককে বলেন, তারা বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে নয়াপল্টন ছাড়াও ওই তিনটি স্থানকে উপযুক্ত মনে করেছেন। ওইসব জায়গার অনুমতি না দিলে তাদের প্রথম পছন্দ মহানগরের কেন্দ্রবিন্দু নয়াপল্টনেই সমাবেশ করবেন তারা। তাদের অন্যান্য গণসমাবেশের স্থানও বিভাগীয় শহরের কেন্দ্রে হয়েছে। ওইদিন শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় জনজীবনে ভোগান্তিও কম হবে।

রাজধানীর নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি পেতে গত মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দলটির একটি প্রতিনিধিদল। এ সময় পুলিশের পক্ষ থেকে বিএনপিকে নয়াপল্টনের বিকল্প কোনো জায়গা ভাবার ব্যাপারে বলা হয়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে সমাবেশের স্থান দেখার জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম ও দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও আরামবাগ তিন রাস্তার মোড়সহ আরো কয়েকটি স্থান ঘুরে দেখেন। বিকল্প হিসেবে ওই তিনটি স্থানকে কিছুটা উপযুক্ত মনে করছেন তারা। স্থানগুলো নিয়ে দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে বৈঠক করে দু-এক দিনের মধ্যে প্রশাসনকে বিকল্প পছন্দের তালিকা দেবেন দলটির নেতারা।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম বলেন, ‘নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েছি আমরা। বিভিন্ন দিক বিবেচনা করেই পার্টি অফিসের সামনে সমাবেশ করতে চেয়েছি। সরকারি দল যেভাবে ফ্যাসিবাদের দিকে যাচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় অবরোধ করছে, তাতে নয়াপল্টনে সমাবেশ করলে সরকারি দল তেমন কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারবে না।’

বিএনপি নেতারা দাবি করছেন, জনইস্যুতে তারা অন্যান্য বিভাগীয় গণসমাবেশের মতোই ঢাকায় শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশ করতে চান। তবে সরকার ভীত হয়ে অহেতুক উত্তেজনার পরিবেশ সৃষ্টি করছে। কিন্তু যতই চেষ্টা করুক, তারা মহাসমাবেশকে সফল করতে বদ্ধপরিকর। এ ক্ষেত্রে বাধা দিয়েও কোনো লাভ হবে না। গণপরিবহন বন্ধ করে, পথে পথে বাধা সৃষ্টি করে জনস্রোত ঠেকাতে পারবে না। বরং এতে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠবে, যা সরকার সামাল দিতে পারবে না।

অবশ্য বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও গতকাল বলেছেন, এটি তো একটি সমাবেশ। এটি নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা, মন্ত্রীরা বিভিন্নভাবে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি। অথচ আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যে মনে হয় যে, সামনে একটি যুদ্ধ হবে। ঢাকা বিভাগীয় মহাসমাবেশ নিয়ে আওয়ামী লীগ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
বিএনপির সমাবেশ,নয়াপল্টন,সোহরাওয়ার্দী
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close