মো আশিকুর রহমান শুভ, ঢাবি প্রতিনিধি

  ১৬ আগস্ট, ২০২২

১৫ আগস্ট স্মরণে ঢাবি বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের আলোচনা সভা

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবসহ পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের সকল শহিদের স্মরণে আলোচনা সভা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগ।

সোমবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় হল পাড়ার মাঠে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে বঙ্গবন্ধু পরিবারকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এই শোক স্মরণেই মাসব্যাপী আলোচনা সভা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। তারই অংশ হিসেবে পালিত হয় এই আলোচনা সভা।

বঙ্গবন্ধু হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের সঞ্চালনায় ও হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান শান্তর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম। শুরুতে শোকাবহ আগস্টের কথা স্মরণে ১ মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়।

৭৫'র ১৫ আগস্টের সেই ভয়ানক রাতকে স্মরণ করে সভার প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ৪৭ বছর আগে ১৪ আগস্ট দিনগত রাত কেমন কেটেছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। কথাছিলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৫ আগস্ট আসবেন তার প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে। এখানে শিক্ষক, ছাত্র ছাত্রী, কর্মকতা কর্মচারী সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে যাবেন। সেই উপলক্ষ্যে সারাদিন ব্যাপী ছিলো কর্মসূচি। আমরা ১৪ আগস্ট দিবাগত রাত এখানে কাটিয়েছি। শেষ রাত পযন্ত এখানে কাটিয়েছি। বেলা ১ টার দিকে আমাদের ছাত্রলীগের প্রিয় নেতা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল বিদায় নিয়ে চলে গেলেন কলাভবন থেকে। আর বললেন তোমরা সবাই থাকো আমি বাসাই গিয়ে তৈরি হয়ে আসছি। আমাকে শেষ গাড়িতে উঠার আগে শেখ কামাল বললেন, এখন হলে গিয়ে বিশ্রাম নিয়ে সকালে চলে এসো।

এদিকে আমাদের সেই রাত কেটেছিলো শুধু কামানের গোলার শব্দে, লাইট মেশিনগানের গোলার শব্দে। আমাদের ঘুম ভেঙ্গে গেল সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় এক আতঙ্কিত এলাকায় পরিণত হলো। এর মধ্যে রেডিওতে ভেসে আসলো কে যেন একজন বলছেন আমি মেজর ডালিম বলছি শেখ মুজিবকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা একটি মানুষ বিশ্বাস করতে পারছিলাম না৷ বাংলাদেশের একটি মানুষ বিশ্বাস করতে পারিনি। সব হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিলো। যে মুজিবকে যে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হত্যা করতে পারে নাই। সেই বঙ্গবন্ধু মুজিবকে এই বাংলায় কোন বাঙালি হত্যা করবে এটি কারো পক্ষেই নিজের কাছে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। আমি বলবো আপনারা সচেতন মানুষ আপনাদের সচেতন বিবেক রয়েছে। আপনাদের জানতে হবে এই হত্যা কান্ডের পূর্ব এবং এই হত্যা কান্ডের জন্য কি ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়েছিল ৭২ থেকে ৭৫ 'য়ের ১৪ আগস্ট পযন্ত। আপনাদেরকে খুঁজতে হবে।

৭২ থেকে ৭৫ 'য়ের আগে যদি আসি একাত্তরের পাকিস্তানি সেনাবাহিনীদের, এদেশে রাজাকারও আল-বদরদের পরাজয়, স্বাধীনত্তোর বাংলাদেশের তাদের পরাজিত শক্তির কি ছিলো তাদের অবস্থা। সেটিও আপনাদেরকে বের করতে হবে।

পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু ফিরে এলেন। বঙ্গবন্ধু মুজিবের এইসারা বাংলায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী গ্রাম-গঞ্জ জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছে। পাটের গুদাম জ্বালিয়ে দিয়েছে, সমস্ত রেললাইন উপড়ে ফেলে দিয়েছে, আমাদের ব্রিজ উড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের খাদ্য গুদাম গুলি ধ্বংস করে দিয়ে লাল মাটি করার সেই হীন ষড়যন্ত্র সবল হয়েছিল । মিত্রবাহিনীর সহযোগিতায় ১৬ ই ডিসেম্বর যখন পরাজিত হয়ে আত্মসমর্পণ করে রেসকোর্স ময়দানে, সেই দিন থেকে সূচনা হলো আরেকটি নতুন অধ্যায়।

পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু মুজিবকে বারবার হত্যা করার চেষ্টা করলো, তারা সব ছিলো একাত্তরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শক্তি যারা পরাজিত হয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর কাছে। সেই শক্তি কিন্তু চুপ করে বসে ছিলো না। তারা ষড়যন্ত্র করেছে শেখ মুজিবকে ব্যর্থ করে দেওয়ার জন্য।

তিনি আরো বলেন, মনে রাখতে এই বাংলাদেশ আবার সেই পরিস্থিতি হয়েছে। যারা পরাজিত হয়ে গেল ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে। যারা পরাজিত হয়ে গেল ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালালো বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের খ্যাতি ও নেত্রী বৃন্দদের হত্যা করে এখানে তান্ডব প্রতিষ্ঠা করতে চাইলো যে খালেদা তারেকরা, তারা কি বসে থাকবে। যে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে, তাতে সারা বাঙালি আনন্দিত হয়েছে। আর যাঁরা বেঁচে আছে তারা সবাই মিলে এক সুতো বন্ধনে গাঁথা। তারা কেউ বসে নেই। তারাই তো এখন এক অসুস্থ পরিবেশ তৈরি করতে চায়। তারাই শেখ হাসিনার শাসন ব্যবস্থাকে নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চায়। তারাই তো এই বাংলাদেশ যে দুর্বাল গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, সেই বাংলাদেশকে আর দেখতে চায় না। তারা শেখ হাসিনার শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ দেখতে চায় না, তাই আমাদেরকে সর্তক থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আকরাম হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বরিকুল ইসলাম বাধন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রহমান।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
ঢাবি,জাহাঙ্গীর কবির নানক,১৫ আগস্ট
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close