জিয়াউদ্দিন রাজু

  ১৯ জানুয়ারি, ২০২১

দ্বিতীয় ধাপের পৌর ভোট

শেখ হাসিনার প্রতি আস্থার প্রতিফলন

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সদ্য সমাপ্ত দ্বিতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয়কে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর জনগণের আস্থার প্রতিফলন এবং তার নেতৃত্বে উন্নয়ন অগ্রযাত্রার বিজয় হিসেবে দেখছেন দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। তারা বলছেন, নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি অংশগ্রহণমূলক ভোটের বার্তা দিয়েছে। যারা নির্বাচনব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচারের জবাব দিয়েছে। জয়ের এই নিরঙ্কুশ ধারা পরবর্তী ধাপেও বজায় রাখতে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী নিরুৎসাহিত করতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুশিয়ারি এসেছে ক্ষমতাসীন দলটির পক্ষ থেকে।

দ্বিতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, এ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছে। দেশের জনগণ বুঝে গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার থাকলে দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। তাই এত জনস্রোত নেমেছে ভোটের মাঠে এবং নৌকার পক্ষে রায় দিয়েছে।

সামনের ধাপের নির্বাচনে দলের অবস্থানের বিষয়ে নানক বলেন, আমরা দলের বিদ্রোহীদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে। আমাদের নেত্রীও (শেখ হাসিনা) দলের বিদ্রোহীদের ব্যাপারে কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, দেশে যে ভোটের স্বাধীনতা রয়েছে, নির্বাচন কমিশন যে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য, তা এই পৌরসভা নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে। ভোট নিয়ে বিএনপির অপপ্রচার ব্যর্থ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তার কারণে জনগণ নৌকার পক্ষে রায় দিয়েছে। সহিংসতার বিষয়ে তিনি বলেন, ভোটের দিন এবং ভোটের পরে যে সহিংসতা হয়েছে, এগুলো বিচ্ছিন ঘটনা। ভোটার উপস্থিতিই প্রমাণ করেছে ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে।

ভোটের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয়সহ বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির ক্ষেত্রে যে খরা চলছিল, গত শনিবারের পৌরসভা নির্বাচনে সেই চিত্র দেখা যায়নি। ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছেন। তবে বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন সহিংসতাও হয়েছে। বিশেষ করে কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছে। সিরাজগঞ্জ পৌরসভায় সন্ধ্যায় ভোটের ফল ঘোষণার পরপরই প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় নিহত হয়েছেন বিজয়ী কাউন্সিলর পদপ্রার্থী তারিকুল ইসলাম খান। এ ছাড়া কয়েকটি এলাকায় ভোট কারচুপি বা অনিয়মের অভিযোগে হামলা ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। অনেক পৌরসভায় ভোট বর্জনও করেন বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থীরা।

তবে সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দফায় ৬০টি পৌরসভা নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল আশাব্যঞ্জক।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের মতে, ১৬ জানুয়ারির নির্বাচনে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ভোট পড়েছে। এত ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি শেখ হাসিনার সরকার ও নির্বাচনব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছে আওয়ামী লীগ। এ নির্বাচন স্থানীয় রাজনীতিতে প্রাণসঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।

দ্বিতীয় ধাপে ৬০ পৌরসভায় উৎসবমুখর ভোটগ্রহণকে ‘ভোটের জয়, ভোটারদের জয়, নৌকার জয়’ বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। জয়ের এই নিরঙ্কুশ ধারা পরবর্তী ধাপগুলোয়ও বজায় থাকবে বলে মনে করেন তিনি। গত রোববার ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রতি কঠোর হুশিয়ারি বার্তা দিয়ে বলেছেন, পরবর্তী ধাপের নির্বাচনে যারা দলের সিদ্ধান্ত মানবেন না এবং দলের শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ করবেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত শনিবার দ্বিতীয় ধাপের ৬০ পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ৪৬টি, স্বতন্ত্র ৮, বিএনপি ৪, জাতীয় পার্টি ১ এবং জাসদ ১টিতে জয় লাভ করে।

পিডিএসও/হেলাল

আস্থা,শেখ হাসিনা,পৌরসভা নির্বাচন,আওয়ামী লীগ
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close