প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা

প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:৪৬ | আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:৫৯

জিয়াউদ্দিন রাজু

দিনটি ছিল আনন্দের। তাই আয়োজনও স্বাভাবিকভাবেই হবে জাঁকজমকপূর্ণ। কিন্তু না। জন্মদিনে কোনো আনুষ্ঠানিকতা চাননি তিনি। চেয়েছেন মানুষের দোয়া। যাতে যত দিন বেঁচে থাকেন যেন সম্মানের সঙ্গেই বাঁচতে পারেন। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল ছিল তার ৭৪তম জন্মদিন। দিনটিতে কোনো ধরনের জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান না করতে আগেই নির্দেশনা দিয়েছিলেন। ফলে নেতাকর্মীরা তার নির্দেশনা মেনে সীমিত পরিসরে দিনব্যাপী সারা দেশে তার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও খাবার বিতরণের মতো মানবিক কর্মসূচিতেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে জন্মদিনের শুভেচ্ছায় সিক্ত করেছেন সবাই। এদিকে, জন্মদিনে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছায় প্রিয় নেত্রীকে সিক্ত করতে না পারার আক্ষেপ ছিল নেতাকর্মীদের মনে।

দিনটিতে করোনাভাইরাসের স্বাস্থ্যবিধি মেনে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, মৎস্যজীবী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন বিশেষ দোয়া ও মাহফিলের আয়োজন করেছে। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ দোয়া হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংঘ আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

অন্যবার জন্মদিনে রাজধানীর প্রধান সড়কে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানানো এবং তার বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরা হলেও এবার কোনো ধরনের জাঁকজমকপূর্ণ বা বড় কোনো ধরনের সভা করতে নিষেধ করেছেন শেখ হাসিনা নিজেই।

ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রতি বছর জাতিসংঘ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কারণে জন্মদিনের সময় প্রধানমন্ত্রী বিদেশে থাকেন। এক যুগ পর জন্মদিনটি দেশের মাটিতে কাটালেও করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার ঘটা করে আয়োজন হয়নি।

আওয়ামী লীগের দফতর থেকে জানানো হয়েছে, দলীয় সভাপতির জন্মদিনের আলোচনা সভা হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে তা বাতিল করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে সীমিত পরিসরে আলোচনা সভা হলেও সেখানেও প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হননি। জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের পক্ষে থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর কথা থাকলেও করোনার কারণে সেটাও বাতিল করা হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় নির্দেশে দিনটি সকাল থেকে সারা দেশের মসজিদে মিলাদসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়েছে। সেসব ধর্মীয় উপাসনালয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ছিলেন।

সকালে নিজ সরকারি বাসভবনে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিকালে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনায় মিলাত, দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অমানিশার আঁধারে পথ দেখানোর বাতিঘর দেশরত্ন শেখ হাসিনা। সরকারপ্রধান হয়ে অতিসাধারণ জীবনযাপন তাকে করে তুলেছে অসাধারণ। প্রিয় নেত্রী আজকের এই দিনে আপনাকে আমরা জানাই সশ্রদ্ধ সালাম ও শুভেচ্ছা। দলীয়ভাবে কৃষি ইনস্টিটিউটে আমরা আলোচনা সভা করতে চেয়েছিলাম। চেয়েছিলাম দিবসটিকে উৎসমুখর করতে। আপনি রাজি হননি, আপনার উদারতার মাঝে আমরা মহত্ত্ব খুঁজে নিয়েছি।’

দোয়া মাহফিলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মতিন খসরু, আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল-আলম হানিফ, ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল, আহমদ হোসন, এস এম কামাল, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, শ্রম সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, উপদফতর সম্পাদক সায়েম খান, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ, সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি প্রমুখ ছিলেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনটি স্মরণীয় করে রাখতে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন বৃহত্তর উত্তরা আওয়ামী লীগের নেতা ও ঢাকা-১৮ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হাবিব হাসান। রাজধানী উত্তরার ১৪টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে একজন করে গরিব মানুষের হাতে উপহার হিসেবে রিকশা তুলে দেন হাবিব হাসান।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীর উপস্থিতিতে শেখ হাসিনার জন্মদিনের কেক কাটা হয়। অনুষ্ঠানে হাবিব হাসান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে আমরা সবাই তার জন্য দোয়া করব, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যাতে উনাকে আরো নেক হায়াত দান করেন এবং দেশবাসীর ভাগ্যোন্নয়নে আরো বেশি কাজ করতে পারেন।’

বিকালে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপকমিটির উদ্যোগে আগারগাঁও এসওএস শিশুপল্লীতে শিশুদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। দৃষ্টি ও বাকপ্রতিবন্ধীদের খাবার ও বস্ত্র উপহার দিয়েছে যুবলীগ। সকাল ১০টায় মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও আলোচনা সভা করেছে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ৭৪টি বৃক্ষরোপণ করেছে ছাত্রলীগ। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল করেছে কৃষক লীগ।

পিডিএসও/হেলাল