ঢাকা-১৮ উপ-নির্বাচন

আওয়ামী লীগে প্রার্থী বেশি, প্রতিযোগিতা কম!

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২০, ১৬:৫৪ | আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২০, ১৯:৩৪

বদরুল আলম মজুমদার

সদ্য শূন্য ঘোষিত ঢাকা-১৮ আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সংখ্যা দিন যত যাচ্ছে ততই বাড়ছে। ব্যক্তিগত প্রচার ফেষ্টুন দেখে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০/৩২ জন প্রার্থী মাঠে নামার কথা শোনা যাচ্ছে। তবে দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, প্রার্থী বেশি হলেও নমিনেশন প্রতিযোগিতা একেবারেই কম। কারণ হিসেবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, এখন পর্যন্ত প্রার্থীর দৌড়ঝাপ দেখে বা যারা মাঠে নেমেছেন তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারই বলে দেয় তারা নমিনেশনের জন্য নামেননি। কয়েকজন ছাড়া অনেকেরই উদ্যেশ্য হচ্ছে শূন্য আসনে প্রচার-প্রচারণার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে প্রচার করা। তবে কিছু ব্যতিক্রমও আছে। আবার নমিনেশন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে এমন দুই-একজন প্রচার ‘সিনে’ নেই। তারপরও তারাই ঘুরে-ফিরে আসছেন আলোচনায়, সঙ্গে আছে স্থানীয় এক প্রার্থীর জোরালো অবস্থান। সব মিলিয়ে নমিনেশন দৌঁড়ে খুব বেশি হাক-ডাক না হলেও স্থানীয়রা এবার বেশি সিরিয়াস।  

আগামী ২৩ আগষ্ট ঢাকা-১৮ আসন উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। সব ঠিক থাকলে সামনের মাসের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এ আসনের নির্বাচন। নির্বাচন এত আগে হবে এমনটা অনেকের চিন্তার বাইরে থাকলেও কমিশনের তৎপরতা দেখে বুঝা যায়, এ আসনের নির্বাচন মোটামুটি এক মাস আগে করে ফেলার তোড়জোড় আছে। দুই মাস আগে ঢাকা-৫ খালি হলেও উল্লেখিত তারিখে ঢাকা-৫ এর তফসিল হচ্ছে না। আগেরটা আগে না করে পরেরটা আগে করার বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতা বলেন, এটা কমিশনের ব্যপার। সাংবিধানিক ভাবে তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত। যখন ইচ্ছা নির্বাচন করার এখতিয়ার তাদের আছে। কিন্তু স্থানীয় একজন নেতা মনে করছেন আসনটির গুরুত্ব বিবেচনায় হয়তো আগে আগে নির্বাচন হচ্ছে। হয়তো বা এখানে প্রার্থীরও চমক থাকতে পারে। 

কে পাচ্ছেন এ আসনে মনোনয়ন, এমন জল্পনা শুরু থেকেই নেতাদের মুখে আছে। অনেকেই বলছেন, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এখান থেকে মনোনয়ন পাবেন। কিন্তু স্থানীয় নেতারা শুরু থেকেই কোনও ব্যবসায়ীকে চাই না-এমন একটি ঐক্যবদ্ধ ‘মত’ গত কয়েকদিন থেকেই তুলে ধরছেন। তাদের কথা রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ থেকে দলীয় মনোনয়ন যাকে দেওয়া হোক তাকেই তারা মেনে নিবেন। তবে কোনও ব্যবসায়ীকে তারা চান না। এজন্য নেতারা এক টেবিলে বসে বেশ কড়া ভাষায় বক্তব্যও রেখেছেন। নেতাদের এমন অবস্থানের পক্ষে নেতাকর্মীরাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জোরালো ট্যুইট করছেন।

তবে ব্যবসায়ী থেকে আলোচনা ঘুরিয়ে দিতে স্থানীয় কয়েকজন নেতার পৃষ্টপোষকতায় প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় নেতা বাহাউদ্দিন নাসিমের পক্ষে প্রচারণা চালানো হয়েছিল। তবে বাহাউদ্দিন নাসিম তার পক্ষে প্রচারণা বা কথা বলার জন্য কাউকে আগ বাড়িয়ে কিছু বলেননি বলে জানা গেছে। তবে গত কয়েক দিন থেকে নাসিমের প্রচারণাও আর চোখে পড়ছে না। দলীয় একটি সূত্র জানায়, গত দুই দিন থেকে সরকারি সাবেক এক আমলার কথা শোনা গেলেও এখনো কিছুই স্পষ্ট হয়নি। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে সেটিও স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে। 

এদিকে স্থানীয় প্রার্থীদের মধ্যে দলীয় নমিনেশন পাওয়ার অন্যতম দাবিদার হিসেবে শক্তভাবে মাঠে আছেন নগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বৃহত্তর উত্তরা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিব হাসান। তিনি গত তিনটি নির্বাচনে তৃণমুলের ভোটে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু দলের সর্বোচ্চ হাই কমান্ডের ইচ্ছাকে সম্মান দেখিয়ে বারবারই সরে গেছেন। গত একযুগে দলীয় রাজনীতিতে নিজেকে আরও পোক্ত এবং সামাজিক সাহায্যে সহযোগিতায় আরও অনেক উদার হওয়া এ নেতা এবার মনোনয়ন দৌড়ে বেশ এগিয়েছেন। মাঠে অনেক প্রার্থী থাকলেও ঢাকা-১৮ আসনের নেতাদের মুখে ঘুরে ফিরে সিদ্দিকুর রহমান বা স্থানীয় হিসেবে হাবিব হাসানের নামই বেশি আলোচিত। অনেকের মতে প্রতিযোগিতা হবেও এ দুজনের মধ্যে। তবে শেষ পর্যন্ত ঢাকা-১৮ আসনটি বাহাউদ্দিন নাসিমের হাতেও উঠতে পারে বলে মত আছে।