আওয়ামী লীগে অগ্নিপরীক্ষা

করোনা-বন্যায় সেবায় এগিয়ে মাঠ নেতারা

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২০, ০৮:৩৯

জিয়াউদ্দিন রাজু

প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসে জবুথবু বিশ্ব। থমকে গেছে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিও। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। দেশটিতে মৃত্যু সাড়ে ৩ হাজারের কাছাকাছি। অন্যদিকে বন্যা পরিস্থিতিও মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। বন্যায় এরই মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩৯ জনের। ফসলের ক্ষতি হয়েছে ৫০০ কোটি টাকার।

এই অবস্থায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কারা কর্মীবান্ধব বা দেশের জন্য কাজ করছেন তা এখন পরিষ্কার। এ দুর্যোগে যেসব নেতারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের দলে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। তারা এগিয়ে আছেন অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণের তালিকায়। বিপরীতে যারা দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থেকেও কাজ করতে পারেননি তাদের নিয়ে দল এবং দলের বাইরে চলছে সমালোচনা। অনেকেই আবার নানা অজুহাত দেখিয়ে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তাদের কর্মকান্ড পর্যবেক্ষণ করছেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর মাঠে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের বিভিন্ন কর্মকান্ডের প্রশংসা করছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বাসভবন থেকে খুব একটা বের হচ্ছেন না। বিশেষ দিনে বিশেষ স্থানে কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। গণমাধ্যম বা ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নেতাকর্মীদের দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন।

এছাড়া মাঠ নেতাদের নির্দেশনা দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। ফলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে তাদের গুরুত্ব বেড়েছে। তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, করোনার ছোবল এবং বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে দলের অনেক নেতাকে মাঠে দেখা যায়নি। অনেক নেতাকে শুধু সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে। ফলে সঠিক নির্দেশনার অভাবে ঝিমিয়ে পরে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা। আর কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতা সরাসরি মাঠে সক্রিয় থেকে তৃণমূল নেতাদের দিক-নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করছেন মাঠ নেতাদের। এতে দলের মাঠ রাজনীতি সচল অবস্থানে ফিরতে শুরু করেছে। উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন মাঠ নেতারা। ফলে করোনা পরিস্থিতিতেও রাজনৈতিক মাঠে ও দলে ওই কেন্দ্রীয় নেতাদের গুরুত্ব বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে, করোনা ও বন্যার সংকটকালে মাঠ পর্যায়ে নেতাদের বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়ে চলেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী ও জাহাঙ্গীর কবির নানক। মতিয়া চৌধুরী দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে নানা সভায় অংশ নিয়ে কর্মীদের নির্দেশনা দিচ্ছেন।

সভাপতিমন্ডলীর আরেক সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ত্রাণ বিতরণ, অসুস্থ ও দুস্থ নেতাকর্মীদের দেখতে যাওয়াসহ দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশ মেনে নেতাকামীদের খোঁজখবর রাখছেন। মাঠে আছেন সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আবদুর রহমানও। তিনি একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

এছাড়া তাদের সঙ্গে যুক্ত থেকে দল এবং সামাজিক কর্মকান্ডে ভূমিকা রাখছেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, দলের দফতর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খাঁন।

এছাড়া দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারাও মাঠে থেকে কাজ করেছেন। বিশেষ করে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতারা মাঠে থেকে আস্থা কুড়িয়েছেন দলের ভেতর ও বাইরে থেকে। পাশাপাশি দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সভায় ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে করোনা ও বন্যা মোকাবিলায় মাঠ নেতাদের কর্মকান্ডের প্রশংসা করেছেন।

তৃণমূলের নেতারা জানান, কেন্দ্রীয় এসব নেতা তৃণমূলকে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনা তৃণমূলে পৌঁছে দিচ্ছেন। ফলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সামাজিক কর্মকান্ডে জনগণও সম্পৃক্ত হচ্ছেন।

পিডিএসও/হেলাল