নিজস্ব প্রতিবেদক

  ০৩ অক্টোবর, ২০২২

তোয়াব খানের শেষ বিদায়

প্রয়াত সাংবাদিক তোয়াব খান। ছবি : সংগৃহীত

বৃষ্টিস্নাত দিনে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধায় সিক্ত হয়ে শেষ বিদায় নিলেন একুশে পদক পাওয়া সাংবাদিক তোয়াব খান। সোমবার (৩ আক্টোবর) প্রথম নামাজে জানাজা তার সর্বশেষ কর্মস্থল দৈনিক বাংলা ও নিউজবাংলার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয় মরদেহ। সেখানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সবার শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ রাখা হয়। এরপর নেওয়া হয় জাতীয় প্রেসক্লাবে। এরপর তোয়াব খানের মরদেহ নেওয়া হয় গুলশানের আজাদ মসজিদে। বাদ আছর গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে এই সাংবাদিককে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাংবাদিক তোয়াব খানের মরদেহে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বর্ষীয়ান সাংবাদিকের মরদেহ শহীদ মিনারে পৌঁছালে প্রথমেই তাকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। এতে নেতৃত্ব দেন ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) শহিদুল ইসলাম। পরে তোয়াব খানের মরদেহবাহী কফিনে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান তার সহকারী সামরিক সচিব জাহাঙ্গীর আলম। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সহকারী সামরিক সচিব জি এম রাজিব আহমদ এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা জানানো হয়। ওই সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খানসহ অনেকে।

এ ছাড়া শাহরিয়ার কবিরের নেতৃত্বে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধু সংস্কৃতিক জোট, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, সম্প্রীতি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন বরেণ্য সাংবাদিকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। শহীদ মিনারে তোয়াব খানের পরিবারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন তার মেয়ে তানিয়া খান, বিশিষ্ট সাংবাদিক আবেদ খান, ভাগ্নে সাংবাদিক সেলিম খানসহ পরিবারের সদস্যরা।

এরপর দুপুর ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবে রাখা হয় তোয়াব খানের মরদেহ। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখানে মন্ত্রিসভার সদস্যসহ সাংবাদিক নেতা, সাংবাদিক সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষ তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

তোয়াব খানের জানাজা শেষে তার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। এ সময় তিনি বলেন, তোয়াব খান বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি সাংবাদিক। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন। স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের মাধ্যমে তিনি মুক্তিযুদ্ধের জন্য কাজ করেছেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দৈনিক পাকিস্তান যখন নাম পরিবর্তন করে দৈনিক বাংলা হলো, সেটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন তোয়াব খান। আজকের দিনে দৈনিক বাংলার সম্পাদক থাকা অবস্থায় তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। তার হাত ধরে বাংলাদেশের বহু প্রথিতযশা সাংবাদিকের জন্ম হয়েছে। তিনি সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে একজন পথিকৃত। তার মৃত্যু আমাদের সাংবাদিকতা জগতের জন্য শুধু নয়, পুরো জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তোয়াব খানের স্মৃতি ধরে রাখতে দৈনিক বাংলার পক্ষ থেকে তোয়াব খান স্মৃতি পুরস্কার” দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রতি বছর এটি দেওয়া হবে। এ ধরনের পদক চালুর মধ্য দিয়ে তোয়াব খানের স্মৃতিকে জাগরুক রাখার যে অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, সে জন্য দৈনিক বাংলাকে ধন্যবাদ জানাই। এই পুরস্কার ঘোষণা করে দৈনিক বাংলা-ই ধন্য হলো।

তোয়াব খানের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় তোয়াব খান বাংলাদেশের বস্তুনিষ্ঠ ও সাহসী সাংবাদিকতার পথিকৃত ছিলেন। তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।

প্রেসক্লাবে দ্বিতীয় জানাজার নামাজের আগে তোয়াব খানের ছোট ভাই ওবায়দুল কবির খান বলেন, ‘গত শনিবার দুপুরে আমার বড় ভাই মৃত্যুবরণ করেন। যদি উনি কখনো আপনাদের সঙ্গে ভুল ব্যবহার বা অন্য কোনো কিছু করে থাকে তবে তাঁকে ক্ষমা করে দেবেন। একই সঙ্গে তার আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়া রাখবেন।’

বক্তব্যরাখেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক,

জানাজা শেষে প্রেসক্লাবের টেনিস গ্রাউন্ডে রাখা অস্থায়ী বেদিতে তোয়াব খানের মরদেহ রাখা হয়। এ সময় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে জাতীয় প্রেসক্লাব, প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ সাব-এডিটর কাউন্সিল, প্রথম আলো, কালেরকণ্ঠ, জনকণ্ঠ, সমকাল, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট, নারী সাংবাদিক কেন্দ্র, মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক ফোরাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি।

গত শনিবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৭ বছর বয়সে মারা যান সাংবাদিক তোয়াব খান।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
তোয়াব খানের শেষ বিদায়,তোয়াব খান,সাংবাদিক তোয়াব খান
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close