নিজস্ব প্রতিবেদক

  ০২ অক্টোবর, ২০২২

আমিরের বিরুদ্ধে অজ্ঞান ও মলম পার্টি সংক্রান্ত ১৫টিরও বেশি মামলা রয়েছে

১৫ বছরে ৩০০ মানুষকে অজ্ঞান : ভিন্ন পেশার আড়ালে গড়ে তুলেন অজ্ঞান পার্টি

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় একটি ফাস্টফুডের দোকানে চাকরির আড়ালে অজ্ঞান পার্টির চক্র গড়ে তুলেন আমির হোসেন। তার নেতৃত্বে গত ১৫ বছরে তিন শতাধিক বিদেশফেরত যাত্রীকে অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুট করেছে চক্রটি। আমিরের বিরুদ্ধে অজ্ঞান ও মলম পার্টি সংক্রান্ত ১৫টিরও বেশি মামলা রয়েছে। বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগও করেছেন তিনি। তবে জামিনে বের হয়ে ফের একই অপকর্মে জড়িয়ে পড়তেন।

শনিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর বিমানবন্দর ও কদমতলী থানা এলাকা থেকে অজ্ঞান ও মলম পার্টি চক্রের মূলহোতা আমির হোসেন এবং তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে মোবাইল, অজ্ঞান কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম, যাত্রীর ছদ্মবেশ ধারণে ব্যবহৃত লাগেজ ও চোরাই স্বর্ণ জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তার অন্য তিন ব্যক্তি হলেন লিটন মিয়া ওরফে মিল্টন (৪৮), আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে পারভেজ (৩৫) এবং জাকির হোসেন (৪০)। রবিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যারের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, ব্যাংকপাড়ায় সাধারণ যাত্রী ও ব্যাংকে লেনদেন করা মানুষদের টার্গেট করতেন। গত ২ সেপ্টেম্বর কুয়েত থেকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন এক প্রবাসী। বিমানবন্দরে ওতপেতে থাকা আমিরের অজ্ঞান পার্টি চক্রের সদস্যরা তাকে টার্গেট করেন। ঢাকা থেকে বগুড়া যাওয়ার পথে ওই প্রবাসীকে অজ্ঞান করে তার সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রবাসী ৬ সেপ্টেম্বর উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা করেন।

এরপর র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারি ও বিমানবন্দরসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শনিবার রাতে আমির ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানান, তারা বিভিন্ন পেশার আড়ালে ১৫ বছর ধরে বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের টার্গেট করে বিমানবন্দরের পাসপোর্ট ও লাগেজ নিয়ে প্রবাসফেরত যাত্রীর ছদ্মবেশ ধারণ করতেন। এ কৌশলে সাধারণ যাত্রীদের অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুট করে নিতেন। সংঘবদ্ধ এ চক্রের ৮-১০ জন সদস্য রয়েছে।

যেসব প্রবাসী বিমানবন্দরে স্বজন বা গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতেন। চক্রটি কৌশলে ওই প্রবাসীদের সঙ্গে কুশলবিনিময়ের মাধ্যমে সখ্য গড়ে একসঙ্গে বাসের টিকিট কাটা বা একসঙ্গে বাড়ি যাওয়া কথা বলতেন। পরে চক্রের সদস্যরা কৌশলে চেতনানাশক ওষুধ খাবারের সঙ্গে খাইয়ে ভুক্তভোগীদের অচেতন করে তাদের সঙ্গে থাকা লাগেজ নিয়ে পালিয়ে যেতেন।

অজ্ঞান পার্টির চক্রের মূলহোতা আমির বারবার গ্রেপ্তারের পরও একই অপকর্মে জড়ান? আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেÑ জানতে চাইলে র‌্যাবের মুখপাত্র বলেন, ১৫ মামলার আসামি আমির। র‌্যাব ও পুলিশের হাতে বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিনি বর্তমানে জামিনে। মূলত লুট করা টাকার একটি অংশ তিনি জামিন সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যয় করতেন।

আমিরের সহযোগী গ্রেপ্তার লিটন তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। পরবর্তী সময়ে তিনি মাইক্রোবাস চালাতেন। এর আড়ালে ৩-৪ বছর ধরে আমিরের অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। লিটনও একাধিকবার একই ধরনের মামলায় গ্রেপ্তার হন।

গ্রেপ্তার আবু বক্কর ৮-৯ বছর বিভিন্ন জুয়েলারি দোকানে কর্মরত ছিলেন। গত ৬-৭ বছর আগে নিজেই রাজধানীর শ্যামপুরে নিজের জুয়েলারির দোকান প্রতিষ্ঠা করেন। জুয়েলারি দোকানের আড়ালে তিনি ২-৩ বছর ধরে এই চক্রের লুট করা স্বর্ণ গ্রহণ, রুপা পরিবর্তন ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

গ্রেপ্তার জাকির হোসেন ছাপাখানার ঠিকাদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ৩-৪ বছর আগে আমিরের মাধ্যমে চক্রে যোগ দেন। তিনি লুট করা স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মালামাল রাজধানীর বিভিন্ন জুয়েলারি দোকানসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রয়ে জড়িত ছিলেন।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
অজ্ঞান পার্টি
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close