মেহেদী হাসান, ঢাকা

  ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২

ভারতে বেশি সংখ্যক পর্যটক বাংলাদেশের

ছবি: সংগৃহীত

ভারত ও বাংলাদেশ এক অপরের পরম বন্ধু। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পেছনে ভারতের অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনী জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছে। তার ফল আজকের বাংলাদেশ। সে সময় কিছু মানুষ বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে তারা মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।

বর্তমানেও দেশে কিছু মানুষ আছেন যারা চান না ভারত বাংলাদেশর সম্পর্ক অটুট থাকুক। কিন্তু তারাই আবার জীবন বাঁচাতে উন্নত চিকিৎসা বা ভ্রমণের জন্য ভারতকে প্রথম পছন্দের স্থানে রাখেন। বাজারে গিয়ে ভারতীয় পণ্য খোঁজেন।

স্বাধীন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের সূচনা হয় ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারত কর্তৃক বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানের মধ্য দিয়ে। এরপর সেই সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ইন্দিরা গান্ধীর কূটনৈতিক প্রজ্ঞা ও আদর্শিক নেতৃত্বের মাধ্যমে। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তির পর স্বাধীন বাংলাদেশে ফেরার পথে বঙ্গবন্ধু ভারতে যাত্রাবিরতি করেন এবং ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের সার্বিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন।

দুই দেশের সাথে সাংস্কৃতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষাগত, ঐতিহ্যগত এবং শিল্পকলা এবং সংস্কৃতির প্রতি আবেগ প্রায় একই রকম। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে দুই দেশই একে অপরের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে কাজ করেছে। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে সম্পাদিত হয় ঐতিহাসিক গঙ্গা চুক্তি। সন্ত্রাসবিরোধী কর্মে বাংলাদেশ এবং ভারত কৌশলী অংশীদার হয়ে উঠে। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার।

দ্বিপাক্ষিক নির্ভরতা

ভৌগলিকভাবে বাংলাদেশের তিনদিকেই ভারত এবং একদিকে বঙ্গোপসাগর। মিয়ানমারের সাথে ২৮০ কিলোমিটারের সীমান্ত থাকলেও স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তারা কখনোই বাংলাদেশকে ভালভাবে নেয়নি। এ অঞ্চলে ভারতকে ছাড়া বাণিজ্যিক প্রবৃদ্ধি প্রায় অসম্ভব। দুই দেশের মধ্যে ৭০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য হয়। এই বাণিজ্য বন্দরের মাধ্যমে ১০০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ২০১৩-১৪ সালে ভারত বাংলাদেশের ব্যবসা হয় ৬.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এবং যেখানে ভারত রপ্তানি খাত থেকে আয় করে ৬১০ কোটি মার্কিন ডলার আর বাংলাদেশ আয় করে ৪৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। পাঁচ বছর আগে এই ব্যবসা ছিল ২.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের যা বর্তমানে দ্বিগুণ।

বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা ভারতের সাথে বাণিজ্য ব্যবস্থার ক্ষেত্রে পূর্বোক্ত ব্যবস্থা নতুন করে তৈরি করে, যার ফলে উভয় দেশই দুই দেশের স্থল ও জলপথ ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে দ্রব্য পাঠাতে পারবে। এর ফলে আঞ্চলিক সীমানা কোনো বাধা তৈরি করবে না। ভারত এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে মিয়ানমারে পণ্য রপ্তানি করতে পারবে। এটি এমন এক বিধান তৈরি করেছে; যার ফলে যদি না কোনো দেশের আপত্তি থাকে, তবে এই ব্যবস্থা ৫ বছর পরেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহাল থাকবে।

চিকিৎসা সেবা

ভারতীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা বিশ্বমানের হওয়ায় এবং খরচের দিক থেকে কম হওয়ায় প্রতিবছরই বহু বাংলাদেশি চিকিৎসার জন্য সে দেশটিতে যায়। ভারতের হাসপাতালগুলোও বাংলাদেশিদের চিকিৎসার জন্য উন্মুক্ত। সহজে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য তারা বিদেশি কোটা রেখেছে।

ভারতীয় চিকিৎসকেরা বলেছেন, প্রতিবছর বিদেশ থেকে ভারতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের ২২ শতাংশ বাংলাদেশি। ভারতীয় দূতাবাসের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবছর ১০ থেকে ১২ লাখ লোক ভারত ভ্রমণে যান। এদের ৬০ শতাংশ অর্থাৎ ৬ থেকে ৭ লাখ লোক যান চিকিৎসার জন্য।

পর্যটন ভারতের ব্যুরো অফ ইমিগ্রেশন দপ্তরের হিসেব মতে দেশটিতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পর্যটক যায় বাংলাদেশ থেকেই। ২০১৭ সালে যেসব দেশ থেকে বেশি সংখ্যায় পর্যটক ভারতে গেছে তার শীর্ষে আছে বাংলাদেশ।

উন্নয়নে সহযোগিতা

ভারত বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে বেশ সক্রিয়।

২০১৪ সালে ভারত বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দেয়। ভারতের বিএইচইএল,

আরআইটিইএস থেকে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ক্রয় করার জন্য ৮৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়।

ক্ষুদ্র উন্নয়ন উদ্যোগ

বিভিন্ন ক্ষুদ্র প্রজেক্টে ভারত বাংলাদেশের জন্য ১০ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের ঘোষণা দেয় এবং নিশ্চিত করে বাণিজ্যে অসম ব্যবস্থা গুলোর দ্রুত মীমাংসা করা হবে।

সামরিক সম্পর্ক

২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লীতে চারদিনের সফরে বাংলাদেশ ভারত দুইটি সামরিক চুক্তি সই করেন। ভারতের সাথে ভিন্ন কোনো দেশের সামরিক চুক্তি এটিই প্রথম ছিল। এই চুক্তি অনুসারে দুই দেশ যুগ্মভাবে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও মহড়ার আয়োজন করবে। উভয় দেশই ব্যবহার করে এমন প্রতিরক্ষা পণ্য নির্মাণ ও মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে সহায়তা করবে এবং বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও রসদ সরবরাহ করবে। ভারত প্রথমবারের মত সামরিক খাতে অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জামাদি ক্রয়ের জন্য বাংলাদেশকে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রদান করতে সম্মত হয়।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
ভারত,বাংলাদেশ,পর্যটক
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close