reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ৩০ জুন, ২০২২

বাজেট পাস, কার্যকর শুক্রবার থেকে

আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে। এই বাজেটে ঘাটতি ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাজেট সমাপনী অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট পাশ হয়। আগামীকাল শুক্রবার থেকে এ বাজেট বাস্তবায়ন শুরু হবে।

গত ৯ জুন সংসদে এই বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এটি আওয়ামী লীগ সরকারের ২৩তম ও বাংলাদেশের ৫১তম বাজেট।‘কোভিড অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন’ শিরোনামে আজকের বাজেট। গত দুবছর করোনা মহামারির কারণে থমকে ছিল সব ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। সেখান থেকে বেরিয়ে আগামী দিনগুলোয় উন্নয়নের গতিধারা ফিরে আসবে— এমন স্বপ্ন দেখছেন অর্থমন্ত্রী। যদিও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকট এরই মধ্যে ঝুঁকিতে ফেলছে বিশ্বসহ দেশের অর্থনীতিকে। কঠিন মূল্যস্ফীতির চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। আয়ের তুলনায় ব্যয় বেড়েছে বহুগুণ। এটি এবারের বাজেটের চ্যালেঞ্জ।

এই বাজেট কার্যকরের ফলে বাড়তি আয়ের লক্ষ্য অর্জনে একদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যেমন নতুন উদ্যমে মাঠে নামবে, অন্যদিকে করদাতাদের ওপর বাড়তি করারোপের একটা চাপও তৈরি হবে। যে কারণে কোনো ক্ষেত্রে পণ্য ও সেবা ক্রয়ে বাড়তি অর্থ গুনতে হবে, আবার সেটি কোনো কোনো ক্ষেত্রে আগের চেয়ে কম দামেও পাওয়ার পথ তৈরি হবে।

এ ক্ষেত্রে ভোক্তাপর্যায়ে পণ্য ও সেবামূল্যের হ্রাস-বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে অর্থমন্ত্রী বাজেট পদক্ষেপের মাধ্যমে নিয়েছেন আয় বাড়ানোর নানা পরিকল্পনা। এ জন্য বিভিন্ন রকম কর্মসূচি বাস্তবায়নসহ পণ্য ও সেবা সহজলভ্য রাখতে উৎপাদন বাড়িয়ে সরবরাহ বাড়াতে রেখেছেন এ-যাবৎকালের সর্বোচ্চ প্রণোদনা ও ভর্তুকি ব্যয়ের পরিকল্পনা।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত ৯ জুন সংসদে এই বাজেট উপস্থাপন করেন। এরপর অধিবেশনজুড়ে সংসদ সদস্যরা প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। করোনা মহামারির গত দুই বছর পর সংসদ সদস্যদের স্বশরীরে উপস্থিতি এবং প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর দীর্ঘ আলোচনা এবারই প্রথম।

প্রস্তাবিত বাজেটে পাচার হওয়া স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ দেশে আনার ক্ষেত্রে যে সুযোগ রাখা হয়েছিল তা বাতিল করা হয়েছে। তবে কেউ ঘোষণা দিয়ে নগদ অর্থ আনতে পারবে। সে ক্ষেত্রে সাড়ে ৭ শতাংশ কর দিয়ে তা আনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে কম হারে করপোরেট কর সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সংশোধন আনা হয়েছে। যেসব কোম্পানি বছরে ৩৬ লাখ টাকার বেশি ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করবে, তারা কম হারে করপোরেট কর পরিশোধের সুবিধা পাবে। প্রস্তাবিত বাজেটে এই সীমা ছিল বছরে ১২ লাখ টাকা।

এ ছাড়া সব সেবার ক্ষেত্রে ই-টিআইএন (করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর) যুক্ত করে রিটার্ন দাখিলের যে বাধ্যবাধকতা ছিল তাতেও ছাড় দেয়া হয়েছে। কেবল ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর আগে বাজেট উপস্থাপনের পর গত ১৩ জুন বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট সংসদে পাস হয়।

এদিকে অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর প্রায় মাসব্যাপী আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে ব্যয়ের আকারসহ অন্যান্য মৌলিক ইস্যুতেগুলোতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

ফলে বাজেটের সমাপনী অধিবেশনেও ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার ব্যয়ের বাজেট জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় করা হবে মোট ৪ লাখ ৩১ হাজার ৯৯৮ কোটি টাকা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা।

এবার অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবিত বাজেটে মূল লক্ষ্য হলো করোনার অভিঘাত পেরিয়ে দেশকে উন্নয়নের ধারায় প্রত্যাবর্তন। সেই লক্ষ্যে এই বাজেটের মূল নজর হচ্ছে অর্থনীতির সব খাতে সক্ষমতার উন্নয়ন। এ জন্য এই বাজেটে আয়ের চেয়ে বেশি ব্যয় করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে সামগ্রিক ঘাটতির পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি রাখা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ দশমিক ৬ শতাংশের সমান।

অন্যদিকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভোক্তাকে মূল্যস্ফীতি থেকে সুরক্ষা দেয়ার লক্ষ্য রয়েছে এই বাজেটে। এ জন্য অর্থমন্ত্রী আগামী বছরজুড়ে দেশের মূল্যস্ফীতিকে ৫ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য নিয়ে তার আর্থিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
বাজেট পাস,কার্যকর,শুক্রবার
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close