নিজস্ব প্রতিবেদক

  ০৪ ডিসেম্বর, ২০২১

সাংবাদিকদের ওয়াসার এমডি

সেবায় এক নম্বরে ঢাকা ওয়াসা

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান বলেছেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সেবা সংস্থাগুলোর বার্ষিক কর্মসম্পাদনের তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে ঢাকা ওয়াসা। বার্ষিক কর্ম সম্পাদনের ১০০ নম্বরের মধ্যে ওয়াসার অর্জন ৯৮ দশমিক ২৭ নম্বর। একইসঙ্গে অডিট রিপোর্টও ক্লিন পেয়েছি। অর্থাৎ এক বছরের আয় ও ব্যয়ের হিসাবে কোনো গরমিল পাওয়া যায়নি।

শনিবার (৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ওয়াসা ভবনের বুড়িগঙ্গা হলে ঢাকা ওয়াসা আয়োজিত ‘ঢাকা ওয়াসার চলমান কর্মকাণ্ড নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায়’ এ তথ্য জানান তিনি।

ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান বলেন, ঢাকা ওয়াসা সরকারি কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের ২০টি দপ্তর, সংস্থা, সিটি করপোরেশনের মধ্যে প্রথম স্থান লাভ করেছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির প্রতিবেদন ও প্রমাণসহ মূল্যায়নে ১০০ নম্বরের বিপরীতে ঢাকা ওয়াসা ৯৮ দশমিক ২৭ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে। গত অর্থবছরে ঢাকা ওয়াসা তৃতীয় স্থান লাভ করেছিল এবং তার আগের বছর আমরা প্রথম হয়েছিলাম। এ মূল্যায়ন ঢাকা ওয়াসার সার্বিক কাজের অগ্রগতির একটি বড় সূচক।

রাজধানীতে পানির সমস্যা নেই জানিয়ে তাকসিম এ খান বলেন, ঢাকা শহরে পানির সমস্যা কোথাও নেই। কিছু জায়গায় কারিগরি সমস্যা বা পকেট সমস্যা রয়েছে। সেগুলো সমাধানে আমরা প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি। ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন না করে নদীর পানিকে পরিশোধন করে ব্যবহারের উপযোগী করতে কাজ করছে ঢাকা ওয়াসা। বর্তমানে ৩৪ শতাংশ পানি আসছে নদী থেকে, যা ৭০ শতাংশে নিয়ে যেতে চায় ঢাকা ওয়াসা। এখন পর্যন্ত ৩৪ শতাংশ ভূ-উপরিস্থ পানি ও ৬৬ শতাংশ ভূগর্ভস্থ পানি দিচ্ছি। আমাদের দুটি প্রকল্প চলমান আছে। সেগুলো শেষ হলে ৭০ শতাংশ ভূ-উপরিস্থ পানি সরবরাহের লক্ষ্য আমরা অর্জন করতে পারব।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ঢাকা শহরে পানি সরবরাহের নেটওয়ার্ক পদ্ধতি নতুন করে সাজাচ্ছে ওয়াসা। এ কাজের অর্ধেক এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। ১৪৪টি ডিএমএ নেটওয়ার্কে মধ্যে ৭১টি ডিএমএ প্রস্তুত করতে পেরেছি। এই নেটওয়ার্ক কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চলবে। এর মাধ্যমে ঢাকা শহরের পানি সরবরাহের সমস্যা অনেকাংশে সহজতর হবে।

সিস্টেম লসের বিষয়ে ওয়াসার এমডি বলেন, সিস্টেম লস দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ৩৫ শতাংশ। কোনো কোনো দেশে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত। আমাদের যাত্রার সময় ৩৫ শতাংশ ছিল। ডিএমএ করার পর ৫ শতাংশ, ৬ শতাংশ এমনকি কোথাও ১ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ২৫ শতাংশটা সন্তোষজনক। তবে আমরা অনেক আগেই এর নিচে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশে সিঙ্গেল ডিজিটে সিস্টেম লস নেই। আমাদের সম্পূর্ণ ডিএমএ হলে পানির কোনো সমস্যা থাকার কথা না। কোয়ালিটি নিশ্চিত হবে।

শীতকালে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পানির সংকট দেখা দেয়, এমন প্রশ্নের জবাবে তাকসিম এ খান জানান, নদীতে পানি কমে যাওয়া এবং গভীর নলকূপের পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় শীতকালে কিছু এলাকায় পানির সমস্যা হয়। পানির পাম্পগুলোতে যাতে সমস্যা না হয়, সে জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোনো এলাকায় পানির সংকট হলে তাৎক্ষণিকভাবে পানি সরবরাহে ওয়াসার গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা ওয়াসার পরিচালক (উন্নয়ন) আবুল কাশেম, বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক উত্তম কুমার রায়, সচিব শারমিন হক আমির ও প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নিশাত মজুমদার।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
ওয়াসা,তাকসিম এ খান
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close