মিজান রহমান

  ২২ জুন, ২০২১

একাত্তরে প্রবাসে জনমত গঠন

১২ বিশিষ্টজন পাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি

একাত্তরে প্রবাসে থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠন করা ১২ প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে সব প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগিরই তাদের স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ করবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। গেজেট জারির পর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকার নির্ধারিত সম্মানী ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও পাবেন তারা।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ মে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) এক সভায় প্রবাসী ১২ ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব ওঠে। যে প্রস্তাবে এরই মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক অনুমোদন দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় প্রবাসে যারা পাকিস্তানি গণহত্যার বিপক্ষে এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে ভূমিকা রেখেছিলেন তাদের সরকার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই মধ্যে গেজেট প্রকাশের সব প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগিরই গেজেট প্রকাশ করা হবে। আর গেজেট জারির পর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকার নির্ধারিত সম্মানী ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা পাবেন তারা। তিনি জানান, দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হয়েছিল। যেসব আবেদন পাওয়া গেছে তার মধ্য থেকে ১২ জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। আর যেসব আবেদন আছে সেগুলো বিধি অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে নতুন করে কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

প্রবাসী ব্যক্তি হিসেবে যারা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাচ্ছেন তারা হলেন বর্তমান যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ, সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক, আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, জাতীয় জাদুঘরের সাবেক মহাপরিচালক ড. এনামুল হক, দৈনিক মানবকণ্ঠের সাবেক সম্পাদক প্রয়াত জাকারিয়া চৌধুরী, সাবেক রাষ্ট্রদূত রাজিউল হাসান, বিশিষ্ট গার্মেন্ট ব্যবসায়ী আবদুল মজিদ চৌধুরী, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সৈয়দ মোজাম্মেল আলী, পাট ও পাটজাত দ্রব্য ব্যবসায়ী আবুল খায়ের নজরুল ইসলাম, যুক্তরাজ্যের চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেট সিলেটের মাহমুদ আবদুর রউফ, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী এবং হবিগঞ্জ জেলা আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর আফরাজ আফগান চৌধুরী।

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তারা সবাই যুক্তরাজ্যে অবস্থান করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এবং পাকিস্তানের গণহত্যা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমত গঠনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন। তারা তৎকালীন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদেরও সদস্য ছিলেন।

সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবীর প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘এটা নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। তবে আরো যারা স্বীকৃতির বাইরে রয়েছেন তাদেরও এর আওতায় আনতে হবে।’

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রবাসে ভূমিকা রাখার জন্য এর আগে ২০১৯ সালে প্রথম নরসিংদীর আজিজুল হক ভূঁইয়াকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্য শাখা স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি ছিলেন।

এদিকে, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী চললেও দেশের অভ্যন্তরে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে ভূমিকা পালনকারীদের এখনো স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। বিশিষ্টজন বলছেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রবাসে কাজ করা ব্যক্তিদের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে ভূমিকা পালনকারীদেরও স্বীকৃতির আওতায় আনা উচিত।

অবশ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির জন্য ২০১৮ সালে যে সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে দেশের অভ্যন্তরে সংগঠকের ভূমিকায় থাকা ব্যক্তিদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

দেশের অভ্যন্তরে ভূমিকা পালনকারীদের বিষয়ে শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘কবি সুফিয়া কামাল, শহীদ শরীফুল আলম ইমাম আহমেদ, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম, বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, স্থপতি শামসুল ওয়ারেসসহ আরো অনেক ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে নানাভাবে ভূমিকা রেখেছিলেন। তাদের স্বীকৃতির বিষয়েও সরকার অচিরেই পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশা করছি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ভূমিকা পালনকারীদের স্বীকৃতির প্রশ্নে আইন কোনো বাধা হতে পারে না।’

পিডিএসও/হেলাল

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি,বিশিষ্টজন,জনমত গঠন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close