reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ২৫ এপ্রিল, ২০২১

‘পাকিস্তানি জঙ্গিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল মামুনুল হকের’

হেফাজতে নেতা মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে পাকিস্তানের একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল। ২০০৫ সালে মামুনুল হক পাকিস্তানে যায়। সেখান থেকে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা, অগ্নি সংযোগ ও সংহিসতার ঘটনা ঘটায়। এছাড়া সরকার উৎখাতে মামুনুল সব ধরনের পরিকল্পনাও করে। জানিয়েছেন ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. হারুন-অর-রশীদ।

রোববার বিকেলে রিমান্ডে থাকা মামুনুল হকের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

আরও পড়ুন : নারী দ্বারা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার, স্ত্রীসহ লাইভে এসে কাঁদলেন খোরশেদ

তিনি বলেন, পাকিস্তানের একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল মামুনুল হকের। ২০০৫ সালে মামুনুল হক পাকিস্তানে যায়। সেখান থেকে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা, অগ্নি সংযোগ ও সংহিতার ঘটনা ঘটায়। এছাড়া সরকার উৎখাতে মামুনুল সব ধরনের পরিকল্পনাও করে।পাকিস্তানে ৪০ দিন অবস্থান করে এবং সেখান থেকে জঙ্গি ও উগ্রবাদী মতাদর্শ নিয়ে দেশে ফেরে মামুনুল।

মামুনুল হক হেফাজতকে সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছিল বলে জানান হারুন-অর-রশীদ। তিনি বলেন, কওমি মাদরাসার ছাত্রদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফয়দা নেয়ার পায়তারা করছিল। রিমান্ডে শাপলা চত্বরে যাওয়া থেকে শুরু করে অনেক কথার বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। এছাড়াও বিভিন্ন বক্তব্যের বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি মামুনুল।

আরও পড়ুন : নারী পুলিশকে বিয়ে করতে না পেরে ভাইকে অপহরণ-নির্যাতন

ডিসি হারুন বলেন, ভগ্নীপতি নেয়ামত উল্লাহর মাধ্যমে পাকিস্তানি জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ হয় মামুনুলের। বঙ্গবন্ধুর খুনি মেজর ডালিম হচ্ছেন মাওলানা মামুনুল হকের আপন ভায়রা ভাই। পাকিস্তানি জঙ্গি গোষ্ঠী, গ্রেনেড হামলার আসামি এবং জামায়াতের শীর্ষ দুই নেতার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে কওমি মাদরাসার ছাত্রদের ব্যবহার করে সরকার উৎখাতের ছক এঁকেছিল হেফাজত নেতা মামুনুল হক। তার ভাই মাহফুজুল হক কোনও মামলায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক মোদিবিরোধী আন্দোলনের সময়ও সহিংসতা করায় একাধিক মামলায় মামুনুল হকের নাম রয়েছে।

এর আগে গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার রয়েল রিসোর্টে মামুনুল হককে ‘ঘেরাও’ করার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, মামুনুল এক নারীসহ আটক হয়েছেন। যদিও ওই নারীকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করেন মামুনুল হক। ওইদিন সন্ধ্যায় রিসোর্ট থেকে তাকে ছাড়িয়ে স্থানীয় একটি মসজিদে নিয়ে যান হেফাজত নেতাকর্মীরা।

এরপর হেফাজতের নেতাকর্মীরা রিসোর্ট, স্থানীয় আওয়ামী লীগের কার্যালয়, বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর এবং যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। এছাড়া তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
মামুনুল হক,পাকিস্তানি জঙ্গি,ডিসি হারুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close