নিজস্ব প্রতিবেদক

  ২৯ নভেম্বর, ২০২০

মেট্রোরেল স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতেই

দিন-রাতের কর্মযজ্ঞে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে দেশের প্রথম মেট্রোরেলের একের পর এক স্টেশন। অনেকটাই প্রস্তুত ডিপো এলাকা, ওয়ার্কশপ ও বিরতিতে ট্রেন রাখার ছাউনি। উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশে উড়ালপথ নির্মাণও প্রায় শেষ। সরকারের লক্ষ্য করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যেই মেয়াদের তিন বছর আগে দেশের প্রথম মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ শেষ করার। এ লক্ষ্যে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই চলছে কাজ। বিশেষ করে রাতের বেলায় কাজ এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একইসঙ্গে দিনের বেলায়ও যথারীতি প্রকল্পের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতেই চলাচল শুরু করবে মেট্রোরেল।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই জাপানে মেট্রোর পাঁচ সেট কোচ তৈরি শেষ হবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ কোচ দেশে এনে তারা নতুন বছরের শুরুতে ট্রায়াল রান শুরু করতে চান।

ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন সিদ্দিক বলেন, নতুন লক্ষ্য অনুযায়ী কোভিড-১৯-এর কারণে প্রকল্পটির যেসব বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শক নিজ নিজ দেশে গিয়ে আটকে পড়েছেন, তাদের বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে ঢাকায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্প এলাকায় কাজে ফিরেছেন প্রায় ৬০ শতাংশ বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শক, যাদের বেশিরভাগ জাপানি।

তাদের জন্য এর মধ্যে প্রকল্প এলাকায় কোভিড-১৯ বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু করার কথা তুলে ধরেন তিনি। সিদ্দিক বলেন, মেট্রোরেলের কাজ আগামী বছরের মধ্যে শেষ করতে এখন থেকে এরই মধ্যে আমরা ২৪ ঘণ্টা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিশেষ করে রাতের বেলায় কাজ এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দিনের বেলায়ও যথারীতি প্রকল্পের কাজ চলমান থাকবে।

২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। উত্তরা থেকে শুরু হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এই উড়াল রেলসেতু ২০২৪ সালের মধ্যে শেষ করার মেয়াদ ছিল। কিন্তু অক্টোবর পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক গড় অগ্রগতি ৫২ দশমিক ২৪ শতাংশ। সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তরা দিয়াবাড়ী এলাকার উত্তরা সেন্টার ও দক্ষিণ স্টেশন দুটির ছাদ পর্যন্ত নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ওই স্টেশন দুটির শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে; শ্রমিক প্রকৌশলী সবাই নিজ কাজে ব্যস্ত।

কাজের গতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রকৌশলী সামসুজ্জামান সাকলাইন বলেন, মহামারির কারণে গত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে কাজের গতি কমে গিয়েছিল। সম্প্রতি প্রকল্প কর্তৃপক্ষ লোকবল বৃদ্ধি, হাসপাতাল ও আইসোলেশনের ব্যবস্থা এবং ২৪ ঘণ্টা কাজ চালিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়ায় গতি বেড়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত রেললাইনের ভায়াডাক্ট বসানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

এদিকে, ছয়টি যাত্রীবাহী কোচ সংবলিত প্রথম মেট্রো ট্রেন সেট এবং দ্বিতীয় ট্রেন সেটের নির্মাণকাজ এরই মধ্যে জাপানে শেষ হয়েছে। জাপানের একটি কারখানায় আরো তিনটি মেট্রোরেল সেট তৈরির কাজ চলছে।

মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ বলছে, আসছে বছরের শুরুতে এই পাঁচ সেট ট্রেন দিয়ে তারা ট্রায়াল রান শুরু করতে চান। এ লক্ষ্যে মেট্রোলাইনের প্রথম তিনটি স্টেশন প্রস্তুত করার কাজও চলছে দ্রুতগতিতে।

জাপানের কাওয়াসাকিতে যখন মেট্রোরেলের তৈরি দুটি কোচের ফ্যাক্টরি ট্রায়াল চলছে, তখন এমন কর্মব্যস্ততা মেট্রোলাইনের ডিপো এলাকায়। এখান থেকেই প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে চলাচল শুরু করবে মেট্রোরেল।

মধ্যরাতের বিরতিতে হবে ধোয়ামোছা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ। এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শিল্ড। বসে গেছে ডিপো এলাকার ১৬ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রেললাইন।

মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ বলছে, এখান থেকেই তারা মেট্রোর পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু করতে চান। কিন্তু দেশের মাটিতে কবে পৌঁছবে মেট্রোরেল।

এম এ এন ছিদ্দিক বলেন, ডিসেম্বরের পরপরই এ বিষয়ে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করব। পরে যে ফরমালিটিস আসে সেটা করে আমরা নিয়ে আসব। জাপান অ্যাম্বাসি কিন্তু কাজ শুরু করেনি। যদি দেখি ডিসেম্বরের পরেও কোনো পরিস্থিতির পরিবর্তন না হয় সেক্ষেত্রে আমরা বিশেষ উদ্যোগ নেব।

উত্তরা থেকে আগারগাঁও উড়ালপথ নির্মাণে যে কয়েকটি ভায়াডাক্ট বা ব্যালেন্সড ক্যান্টিলিভার বসানোর কাজ বাকি ছিল তাও শেষপর্যায়ে। দূর থেকেই দেখতে পাওয়া যায় মেট্রোরেলের তিনটি স্টেশন।

দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে উড়ালপথের ওপর রেললাইন বসানোর কাজও। তবে চ্যালেঞ্জও আছে। সংকটাপন্ন না হলেও কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন মেট্রোরেলের প্রায় পৌনে ৩০০ কর্মী। একেবারে বয়োজ্যেষ্ঠ যারা, তারা কাজে ফিরতে পারেননি এখনো।

ছিদ্দিক বলেন, যারা বয়োজ্যেষ্ঠ তারা এখন বাংলাদেশে আসতেছেন না। সফিসটিকেডেট সফটওয়্যার আমরা ব্যবহার করি যার মাধ্যমে কাজের সুপারভিশনটাও বাইরে থেকে করা যায়। সীমিত কয়েকজনের জন্য কাজ বাধাগ্রস্ত হবে না। আমাদের যে টার্গেট আছে সে টার্গেট আমরা অর্জন করতে পারব।

ডিএমটিসিএল বলছে, উত্তরা থেকে আগারগাঁও প্রথম অংশের কাজের অগ্রগতি ৭৭ শতাংশের বেশি। সফটওয়্যার, সিস্টেমসহ ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল অংশ নিয়ে প্যাকেজের কাজও শেষ হয়ে গেছে অর্ধেক।

পিডিএসও/হেলাল

মেট্রোরেল,স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী,প্রকল্প
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close