সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

  ২৯ নভেম্বর, ২০২০

প্রধানমন্ত্রী আজ বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন

বঙ্গবন্ধু সেতুর পর পদ্মা সেতু, এরপর আরেকটি স্বপ্নের যাত্রা হচ্ছে আজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রোববার প্রস্তুাবিত বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এর মধ্য দিয়ে আরেকটি স্বপ্নের যাত্রা হবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর উত্তরবঙ্গের কয়েক কোটি মানুষের প্রাণের দাবি আলোর মুখ দেখবে বলে আশায় বুক বাঁধছেন তারা। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম ও পূর্বপ্রান্তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম প্রান্ত থেকে অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে যমুনা নদীতে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর চাপ কমবে। ঝুঁকিও হ্রাস পাবে বঙ্গবন্ধু সেতুর। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি (বাস ট্রাক কার) ও রেল চলছে। ঝুঁকি এড়াতে ধীরগতিতে চলে রেল কোচ। সেতুর ওপর চলাচলের আগে দুই প্রান্তেই বিরতি দিয়ে ইঞ্জিন ও কোচ চেক করতে হয়। বর্তমানে ওই সেতুতে অনুমোদিত গতিবেগ ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার। সেতু পার হতে লাগে প্রায় আধা ঘণ্টা। কিন্তু যমুনা নদীর ওপর পৃথক রেল সেতু নির্মাণ হলে সে ঝুঁকি আর থাকবে না এবং সময়ও লাগবে কম। জ্বালানি খরচও কমবে রেল বিভাগের। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গ থেকে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা সহজ হবে, কমবে পণ্য পরিবহন খরচ; যা ওই অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সামাজিক জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এটা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করে সরকার।

সূত্র জানায়, ডুয়েলগেজ ডাবল-ট্র্যাকের বঙ্গবন্ধু রেল সেতু হবে দেশের সবচেয়ে বড় রেল সেতু। এটি রাজধানীর সঙ্গে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগব্যবস্থা আরো সহজ ও উন্নত করবে। এ ছাড়া ট্রেন শিডিউল বিপর্যয় কমাতেও এ সেতু সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে ৩০০ মিটার উত্তর দিকে সমান্তরালভাবে বঙ্গবন্ধু রেল সেতু নির্মাণ হবে।

রেল সেতুটি নির্মাণ করবে জাপানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা। সূত্র জানায়, বর্তমানে বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে ৪৪টি ট্রেন চলাচল করে। নতুন এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে রেললাইন তুলে নেওয়া হবে। নতুন সেতুতে ডাবললাইনে ট্রেন চলাচল আরো সহজ হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, সেতুর কাজ শুরুর যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ ও প্রকল্প এলাকায় একটি জাদুঘর নির্মাণে প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে।

এদিকে রেল মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকার ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ট্রেন পরিচালনার কথা ভাবছে। এজন্য চিলাহাটি-হলদিবাড়ী ৭ কিলোমিটার রেললাইন সংযোগ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী ১৭ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে এ রেল চলাচল উদ্বোধন করবেন। এটি চালু হলে ঢাকা-শিলিগুড়ি রুটেও ট্রেন চালু করা সম্ভব হবে বলে সূত্র জানায়।

বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর কাজ শুরু প্রসঙ্গে এ প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী কামরুল আহসান জানান, মূল সেতুটি দুটি প্যাকেজের আওতায় নির্মাণ হবে। নির্মাণ ব্যয়ের সিংহভাগ (৭২ শতাংশ) ঋণসহায়তা দেবে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা। এ সেতুর পূর্ব অংশ নির্মাণ করবে জাপানি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওবায়শি করপোরেশন, টিওএ করপোরেশন এবং জেএফই। এ অংশের জন্য ব্যয় হবে ৬ হাজার ৮০১ কোটি টাকা। অন্য জাপানি কোম্পানি আইএইচআই ও এসএমসিসির যৌথ উদ্যোগে নির্মাণ হবে পশ্চিম অংশ। এ অংশের জন্য ব্যয় হবে ৬ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাইট বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা আসতে শুরু করেছেন। এ প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

পিডিএসও/হেলাল

শেখ হাসিনা,প্রধানমন্ত্রী,বঙ্গবন্ধু রেল সেতু,প্রকল্প
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close