মেয়ররা সব কাজ করবেন : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, মেয়ররা জনসেবামূলক সব ধরনের কাজ করবেন। তবে যেখানে আপনাদের কাজের অনুমতি নেই, সেই বিষয়টা সম্পর্কে আমাকে অবহিত করবেন। আমি সেই বিষয়টা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গে সমন্বয় করবো। 

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সিটি করপোরেশন এলাকাসহ নগরবাসীর জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় সারাদেশে চিকিৎসা বর্জ্যের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা এবং এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় বিষয়ে পর্যালোচনার জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নুর তাপস, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন। 

অন্যান্যের মধ্যে ডিএসসিসি'র নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম আমিন উল্লাাহ নুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মো. তাজুল ইসলাম বলেন, আমরা বর্জ্য ইনসিনারেশন (ভস্মীকরণ) প্ল্যান্ট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। উত্তর সিটি করপোরেশনের জন্য আমিন বাজারে এই প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। আর দক্ষিণের মেয়রও এ ব্যাপারে আমাদের কাছে ছয়টি আবেদন পাঠিয়েছেন, সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এই প্ল্যান্ট স্থাপনে কোনো বিনিয়োগ করতে হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, কারণ এই টেকনোলজি আমরা খুব ভালো করে হ্যান্ডল করতে পারি না। আমরা শুধু বর্জ্য ও জায়গা দেব। তারা সেখানে প্ল্যান্ট স্থাপন করে প্রতিযোগিতামূলক দামে আমাদের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করে বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাবে। এ রকম একটি প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা কাজ করছি। 

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অনেক কাজ করছে কিন্তু আমরা লক্ষ করছি, এসব মেডিকেল বর্জ্য সিটি করপোরেশনকে দিয়ে দিচ্ছে। সিটি করপোরেশন যখন ক্যারি করছে সেখানে আরেকটা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। সেটি হল- করপোরেশনের যে লোকটা বর্জ্য নেবে সে সংক্রমিত হবে কিন্তু সে তো জানবে না। বাড়িতে গিয়ে সে পরিবারের অন্যদের সংক্রমিত করবে, তাদের মাধ্যমে পুরো সমাজে ছড়িয়ে পড়বে।

কী কী ‘ফ্যাসিলিটিজ’ থাকলে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোকে লাইসেন্স দেওয়া হবে, তা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কেই নিশ্চিত করতে হবে বলে মত দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এমন ব্যবস্থা নেবে আগামী তিন, ছয় মাস বা একটা পার্টিকুলার টাইম লাইনের ভেতর যেসব বর্থ্যতা ও লজিস্টিক সাপোর্ট নেই সেগুলো নিশ্চিত করবেন। আর তা না হলে ক্লিনিক বন্ধের জন্য আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মেয়রদের উদ্বুদ্ধ করব।

সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপস বলেন, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের মূল অনুমোদন দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীনে সেটা দেয়া হয়। আজকের কার্যপত্রেই আছে, ‘মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক, ল্যাবরেটরি অর্ডিন্যান্স ১৯৮২’ এ আবেদনের সঙ্গে আবশ্যিক ডকুমেন্টের তালিকায় হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিভিন্ন তথ্যের কথা বলা হয়েছে। আমি অত্যন্ত মর্মাহত, এখানে অবকাঠামো বিষয়ে কোনও নির্দেশনা নেই। জনবলের বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে বলা আছে, কিন্তু সেই হাসপাতাল-ক্লিনিকের বর্জ্যগুলো কীভাবে ব্যবস্থাপনা করবে, তাদের অবকাঠামো কী থাকবে, কী নিশ্চিত করতে হবে- এ বিষয়ে এখানে কিছু বলা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯’ এর ১১২ ধারায় বলা হয়েছে, এ আইন কার্যকর হওয়ার তারিখে বা তৎপর করপোরেশনের এলাকায় করপোরেশনের নিবন্ধন ব্যতীত কোনো প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, প্যারামেডিকেল ইনস্টিটিউট পরিচালনা করা যাবে না। সে ক্ষেত্রে আমরা এ আইনটি বাস্তবায়ন করতে চাই। এর আগে এখন পর্যন্ত জানা মতে, কোনো বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক আমাদের নিবন্ধন নেয়নি।

সভায় ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিক বলেন, ‘বিভিন্ন হাসপাতাল যেভাবে মানুষ থেকে ডাকাতির মতন করে... তারা পয়সা নিচ্ছে। হাসপাতালে ঢোকার আগে পয়সা দিতে হচ্ছে।... জমিজমা বেইচ্যা হাসপাতালের বিল পরিশোধ করছে।

‘অত্যন্ত ব্যয়বহুল চিকিৎসা করছে বিভিন্ন হাসপাতাল। বিভিন্ন চেকআপের বিল কিন্তু অনেক বেশি। আপনি একটা চেকআপ করতে দেন- ইউরিন চেকআপ করেন, ব্লাড চেকআপ করেন, কথায় কথায় চেকআপ হচ্ছে ভালো কথা, কিন্তু তাদের যে বিল, তাদের যে হাসপাতালের বিল, তাদের বিভিন্ন পরীক্ষার যে বিল এটি সম্পূর্ণ একটি ডাকাতির মতন কিন্তু, এটি হতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজে দেখেছি, আমার কাছে ছবি আছে যে বিভিন্ন ক্লিনিক, হাসপাতালে ট্রিটমেন্ট করার পরে ইউরিন, ব্লাড, স্টুলের স্যাম্পল রাস্তার উপর ফেলে দিয়েছে, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক, এটিই হল বাস্তবতা। তাই ক্লিয়ার মেসেজ দেওয়া দরকার, কোনো ধরনের বর্জ্য রাস্তায় তো ফেলার প্রশ্ন ওঠে না আইনকেও তারা বৃদ্ধাগুলি দেখাচ্ছে। কবে থেকে নির্দিষ্ট জায়গায় হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোকে যার যার চিকিৎসাবর্জ্য ফেলতে হবে, সেই তারিখ বেঁধে দেওয়া ছাড়া অন্য বিকল্প নেই বলে মত দেন মেয়র আতিক। 

ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘সবকিছুই কিন্তু অবৈধ হয়ে যাচ্ছে। গ্যাসের লাইন অবৈধ, ইলেকট্রিক লাইন অবৈধ, বিলবোর্ড অবৈধ, সাইনবোর্ড অবৈধ, রাস্তার মধ্যে যত ধরনের রড, সিমেন্ট, বালি সবই অবৈধ। এটা কিন্তু আর দেওয়া যাবে না মাননীয় মন্ত্রী।