মেজর সিনহা হত্যা : ৭ আসামির জিজ্ঞাসাবাদ শুরু

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২০, ১৫:৫৪ | আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২০, ১৬:১৩

কক্সবাজার প্রতিনিধি

মেজর (অবঃ) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার সাত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কারাগার থেকে নিয়ে গেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১৫)। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে র‍্যাবের একটি গাড়ি বহর কক্সবাজার জেলা কারাগারে গিয়ে সাত আসামিকে নিয়ে যান।পরে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। 

র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, এই সাত আসামির জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। সাত আসামির জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হওয়ার পরই ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দদুলাল রক্ষিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

সাত আসামির মধ্যে চারজন পুলিশ সদস্য। তারা হলেন- কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন ও এএসআই লিটন মিয়া। অন্য আসামিরা পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষী। তারা হলেন- টেকনাফের মারিষবুনিয়া গ্রামের মো. আইয়াস, নুরুল আমিন ও নাজিম উদ্দিন।

বুধবার কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই সাত আসামিকে র‍্যাবের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। কক্সবাজার জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক (জেল সুপার) মোকাম্মেল হোসেন বলেন, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে র‍্যাবের কয়েকটি গাড়ি কারাগার ফটকে আসেন। পরে চার পুলিশসহ সিনহা হত্যা মামলার সাত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কারাগার থেকে নিয়ে যায় র‍্যাব।

মোকাম্মেল হোসেন বলেন, একই মামলার অন্য তিন আসামি টেকনাফ মডেল থানার সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও থানার এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত বর্তমানে কারাগারে আছেন। আদালত সূত্র জানায়, গত বুধবার কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এই হত্যা মামলায় চার পুলিশসহ সাত আসামির সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে চার পুলিশ সদস্যকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। সেই জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার তাদের ১০ দিন করে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করে র‍্যাব। আদালত এই চার পুলিশ সদস্যকে সাত দিন করে রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দেন। একই সঙ্গে পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষীরও সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরও আগে ওসি প্রদীপসহ তিনজনের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত।

সিনহা হত্যার ঘটনায় সত্য উদঘাটনে গণশুনানির ডাক দিয়েছে তদন্ত কমিটি। ১৬ আগস্ট সকাল ১০টায় এই গণশুনানি হবে টেকনাফের শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইনচার্জের কার্যালয়ে। ৩ জুলাই মেজর (অবঃ) সিনহা মো. রাশেদ খানের সঙ্গে শিপ্রা দেবনাথ, সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও তাহসিন রিফাত নূর কক্সবাজার আসেন জাস্ট গো নামের ইউটিউব চ্যানেলের জন্য ভ্রমণবিষয়ক ভিডিওচিত্র ধারণ করতে।

৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিশবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে বাহারছড়া শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা মো.রাশেদ খান। এ সময় পুলিশ সিনহার সঙ্গে থাকা সিফাতকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। পরে রিসোর্ট থেকে শিপ্রাকে আটক করা হয়। দুজনই বর্তমানে জামিনে মুক্ত আছেন।

এ ঘটনায় তার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস পুলিশের ৯ জনকে আসামি করে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত ৫ আগস্ট হত্যা মামলা দায়ের করেন। অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে এর আগে রামু ও টেকনাফ থানায় ৩টি মামলা দায়ের করা হয়। এই ৩টি মামলায় আসামি করা হয়েছে সিনহার সঙ্গি সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও শিপ্রা রাণী দেবনাথকে। ৪টি মামলারই তদন্তভার দেয়া হয়েছে র‌্যাবকে।

পিডিএসও/এসএম শামীম