রাজধানীর নয়াটোলায় করোনা আক্রান্ত যুবক মুঠোফোনে যা বললেন

প্রকাশ | ০৯ এপ্রিল ২০২০, ২০:৫৯ | আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২০, ২২:৪৮

রাজধানীর মগবাজার এলাকায় নয়াটোলা চেয়ারম্যান গলিতে হাতিরঝিল থানাধিন একটি বাড়িতে বসবাস করা যুবক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাতিরঝিল থানার ওসি মো. আব্দুর রশিদ প্রতিদিনের সংবাদকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, নয়াটোলার চেয়ারম্যান গলির ৪৮৮/২ নম্বর বাড়িতে বসবাস করতেন মো. শরীফ আহম্মেদ (৩২), পিতা গোলাম মোস্তফা। আক্রান্ত যুবকের বাড়ি বাক্ষ্রণবাড়িয়ার কালিকাপুরে। আক্রান্ত শরীফ বর্তমানে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। 

যুবকের শরীরে করোনা পজেটিভ হওয়ার পরপরই হাতিরঝিল থানার পক্ষ থেকে ৪৮৮/২ নম্বর বাড়িটি লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। 

এরপর থেকে চেয়ারম্যান গলিতে বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার জন্য মাইকিং করা হয় বলে জানা গেছে। 

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা হাতিরঝিল থানার এস আই সুব্রত দেবনাথ প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ৪৮৮/২ নম্বর বাড়িতে বসবাস করা যুবকের শরীরে করোনা পজেটিভ। আমরা সঙ্গে সঙ্গে বাড়িটি লকডাউন করে দিয়েছি। 

তিনি আরও বলেন, বাড়িতে বর্তমানে আক্রান্ত যুবকের স্ত্রী ও সন্তান কোয়ারেন্টাইনে আছেন। আর রোগীর সঙ্গে হাসপাতালে আছেন মা। 

বৃহস্পতিবার রাতে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় আক্রান্ত যুবক শরীফ আহম্মেদের সঙ্গে। তিনি মুঠোফোনে জানালেন, দুই দিন আগে থেকে তার জ্বর ও গলা ব্যথা হলে তিনি বুধবার শাহবাগ পিজি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। সেখান ডাক্তার তাকে পরীক্ষা দিয়ে ওষুধ দেন। তারপর তিনি বাসায় চলে আসেন। 

তিনি আরও জানালেন, বৃহস্পতিবার সকালে তাকে ফোন করে তার শরীরে করোনা পজিটিভ জানালে তিনি নিজেই কুর্মিটোলা হাসপাতালে মাকে সঙ্গে নিয়ে চলে যান। এরপর তার মা বাসায় চলে আসেন বলেও জানান তিনি। হাসপাতালে বর্তমানে ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন শরীফ আহম্মেদ। 

এইরকম লক্ষণ নিয়ে পিজি হাসপাতালে যাওয়া এবং করোনা পজেটিভ জানার পর একাই কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নিয়ে স্থানীয় অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক শিক্ষক বলেছেন, আমরা অসচেতন এটাই প্রমাণ হলো। কারণ বারবার বলা হয়েছিল লক্ষণ দেখা গেলে আইইডিসিআর এর নাম্বারে যোগাযোগ করতে। তারাই বাড়ি এসে নমুণা সংগ্রহ করবে। কিন্তু তিনি তা না করে একাই চিকিৎসা নিতে গেছেন। এমনকি করোনা জানার পর একাই হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হয়েছেন। এতে করে কি আশপাশের কারো শরীরে তার স্পর্শ লাগেনি?