রায়হান আহমেদ তপাদার

  ২১ অক্টোবর, ২০২২

জাতিসংঘ সনদ বনাম বিশ্ব বাস্তবতা

জাতিসংঘ নামটি এসেছে ১৯৪২ সালের ১ জানুয়ারি ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও সোভিয়েত ইউনিয়ন যে ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছিল সেই ঘোষণাপত্রের মধ্য দিয়ে। এ চারটি দেশ এক ঘোষণাপত্রে আটলান্টিক চার্টারে বর্ণিত নীতি ও আদর্শের প্রতি তাদের সমর্থনের কথা ব্যক্ত করেছিলেন, যা জাতিসংঘ ঘোষণা নামে পরিচিত। পরে ২ জানুয়ারি আরো ২২টি রাষ্ট্র এ ঘোষণার প্রতি সমর্থন জানায়। জাতিসংঘ গঠনের প্রেক্ষাপট হিসেবে মস্কো ঘোষণা, তেহরান সম্মেলন, ডুম্বারটন ওকস সম্মেলন ও ইয়াল্টা সম্মেলন উল্লেখযোগ্য। ১৯৪৩ সালের নভেম্বরে তেহরানে বিশ্ব রাজনীতির তিন শীর্ষ নেতা, রুজভেল্ট, স্ট্যালিন ও চার্চিল অপর এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জানান, একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় যোগদানের জন্য বিশ্বের সব ছোট ও বড় দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। সম্মেলনে একটি বিশ্ব সংস্থা গঠন ও এর কাঠামো সম্পর্কে প্রস্তাব গৃহীত হয়। নিরাপত্তা পরিষদ গঠনে স্থায়ী ও অস্থায়ী সদস্যের প্রস্তাব করা হয়। বলা হয়, পাঁচটি দেশ স্থায়ী সদস্য ও ছয়টি দেশ অস্থায়ী সদস্যপদ পাবে। স্থায়ী সদস্যদের ভেটোর অধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইয়াল্টায় একটি শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে যোগ দেন রুজভেল্ট, স্ট্যালিন ও চার্চিল। ওই সম্মেলনে বৃহৎ পাঁচটি শক্তি যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ব্রিটেন, চীন ও ফ্রান্সকে ভেটো ক্ষমতা দেওয়া হয়। ইয়াল্টা শীর্ষ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একটি সনদ রচনা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকো শহরে ১৯৪৫ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত ৫০টি দেশের প্রতিনিধিরা মিলিত হন। ২৬ জুন ১১১টি ধারা সংবলিত সনদটি অনুমোদন হয় এবং তাতে বৃহৎ পঞ্চশক্তির ভেটো ক্ষমতা স্বীকার করে নেওয়া হয়। তবে সর্বসম্মতভাবে সনদটি স্বাক্ষর হয় ২৪ অক্টোবর। ৫১টি দেশ মূল সনদে স্বাক্ষর করেছিল। এ কারণে প্রতি বছর ২৪ অক্টোবরকে জাতিসংঘ দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়ে থাকে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এবং বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বে উত্তেজনা হ্রাস, জাতিগত দ্বন্দ্বের অবসান, যুদ্ধ বন্ধ, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ সৃষ্টিতে জাতিসংঘের ভূমিকা বারবার আলোচনা হয়ে আসছে। জাতিসংঘের এ ভূমিকার পাশাপাশি যোগ হয়েছে পরিবেশগত সমস্যা কিংবা নারী উন্নয়ন সম্পর্কিত সমস্যাবলি। ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ দিবস বিশ্বের সব স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে উদযাপন হয়। ১৯৪১ সালের আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল আটলান্টিক চার্টার সনদে স্বাক্ষর করেন। এ সনদে বিশ্বের সব জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার, বাকস্বাধীনতা, স্থায়ী শান্তি স্থাপনের উদ্দেশ্যে আক্রমণকারীদের নিরস্ত্রীকরণের কথা বলা হয়েছিল। এসব আদর্শের ওপর ভিত্তি করেই পরে জাতিসংঘ সনদ রচিত হয়। পৃথিবীতে বৈশ্বিক শান্তি রক্ষায় সর্বপ্রথম সংস্থাটি হলো সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ। সংস্থাটি প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তিপত্র বা নিয়মপত্র প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো সম্মিলিত নিরাপত্তাব্যবস্থা ও অসামরিকীকরণের মাধ্যমে যুদ্ধ এড়ানো এবং সমঝোতা ও সালিসের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দ্বন্দ্বের নিরসন করা।

৫৮টি সদস্যরাষ্ট্র নিয়ে প্রায় ২৭ বছরের রাজত্বকালের পুরোটাই ছিল ব্যর্থতার গল্প। তাই আর বেশি দূর এগোতে পারেনি। অল্প কিছু সাফল্য এবং শুরুর দিকে বেশ কটি ব্যর্থতার পর অবশেষে ত্রিশের দশকে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ অক্ষশক্তির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে প্রচণ্ডভাবে ব্যর্থ হয়। জার্মানির সঙ্গে সঙ্গে জাপান, ইতালি, স্পেন ও অন্যান্য দেশ সংস্থাটি থেকে সরে দাঁড়ায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুতেই এটা প্রমাণ হয়ে যায় যে আরেকটি বিশ্বযুদ্ধ এড়াতে জাতিপুঞ্জ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী সংস্থাটির উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ শান্তিভঙ্গের হুমকি ও আক্রমণাত্মক প্রবণতা ও কার্যকলাপ দূর করে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সব মানুষের সমান অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে বিভিন্ন জাতির মধ্যে সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব জোরদার করা। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পুরো জাতির মধ্যে সহযোগিতা গড়ে তোলা, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবার স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলা। আন্তর্জাতিক আইনের সাহায্যে আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করা। প্রত্যেক জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের স্বীকৃতি এবং তা সমুন্নত রাখা। উদ্দেশ্যগুলো বাস্তবায়নের জন্য জাতিসংঘের কার্যধারা অনুসরণ করা।

কিন্তু সংস্থাটি উদ্দেশ্য পূরণে কতটুকু সফল হতে পেরেছে তা বিশ্ব পরিস্থিতিই বলে দিচ্ছে। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর অভিযান শুরু হওয়ার পর মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। জাতিসংঘের বক্তব্য অনুযায়ী, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে এখনো ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা রয়েছে, যাদের মধ্যে এক লাখের বেশি রোহিঙ্গা বিভিন্ন ক্যাম্পে আটক রয়েছেন। ২০১৭ সালের পর এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘ কোনো জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি। কারণ বিশ্বের পরাক্রমশালী কিছু রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ। আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় এখানে প্রশ্নবিদ্ধ জাতিসংঘ।

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক স্থিতি, দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ইসরায়েল ও আমেরিকার সঙ্গে আরববিশ্বের দ্বন্দ্বের চিরস্থায়ী অবসানের ক্ষেত্রে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সমস্যার চিরস্থায়ী একটা সমাধান হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা বিশ্বের রাজনীতি-সচেতন মানুষের অজানা থাকার কথা নয়। এই ‘ইসরায়েল বনাম ফিলিস্তিন, ইসরায়েল বনাম আরববিশ্ব’ মনোভাব বা দ্বন্দ্ব আরব ভূখণ্ডের গণ্ডি পেরিয়ে সময়ের সঙ্গে ক্রমেই ‘ইসরায়েল বনাম মুসলিম বিশ্ব’ মনোভাব বা দ্বন্দ্ব হিসেবে রূপ নিয়েছে। ইহুদিবাদী ইসরায়েল জাতিসংঘ প্রদত্ত প্রস্তাব ও ম্যাপ মেনে নিলেও ফিলিস্তিনি মুসলিমরা স্বভাবতই তা প্রত্যাখ্যান করে। কেননা ৩২ শতাংশ ইহুদি জনগণকে যেখানে ফিলিস্তিনি ভূমির ৫৬ শতাংশ প্রদান করা হয়, সেখানে ৬৮ শতাংশ মূল আদিবাসী মুসলিম আরবদের দেওয়া হয় মাত্র ৪৪ শতাংশ ভূমি। এই প্রস্তাবকে ফিলিস্তিন প্রত্যাখ্যান করবেÑ এটাই স্বাভাবিক। কারণ কেউ চায়না নিজ দেশ পরবাসী হয়ে থাকতে। এদিকে জাতিসংঘ নিয়ন্ত্রিত জেরুজালেমে ইহুদি ও মুসলিমদের প্রস্তাবিত সংখ্যা ছিল সমান সমান চার লাখ করে। জাতিসংঘ কমিটির দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েলকে অধিক পরিমাণে ভূমি দেওয়ার পেছনে যুক্তি ছিল ওই এলাকায় ভবিষ্যৎ ইহুদি অভিবাসীদের সংকুলানের ব্যবস্থা রাখা।

বিশ্বশান্তি রক্ষায় প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘ এ রকম অসংখ্য সংকট সমাধানে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। বিশ্বনেতারা এসব লক্ষ্যকে সামনে রেখেই জাতিসংঘের সনদ রচনা করেন। জাতিসংঘ সনদে বলা হয়েছে, এসব লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে প্রতিটি রাষ্ট্র সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করবে। প্রতিটি রাষ্ট্র সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণ করবে এবং শান্তিতে বসবাস করবে। নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া সশস্ত্র বাহিনীকে ব্যবহার না করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ যাতে একটি রাষ্ট্রের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে পারে জাতিসংঘের সনদে এ বিষয়টিরও উল্লেখ আছে। জাতিসংঘ প্রতিটি জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার স্বীকার করে এবং সমতার ভিত্তিতে প্রতিটি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করার নীতিতে বিশ্বাসী।

জাতিসংঘ কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ ঘটনায় হস্তক্ষেপ করবে না। কিন্তু যদি ওই রাষ্ট্র বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি হুমকি হয়ে দেখা দেয় তাহলে ওই রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ঘটনায় হস্তক্ষেপকে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী নিরাপত্তা পরিষদের মূল দায়িত্ব হচ্ছে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা। প্রতিটি সংস্থারই সাফল্য যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে ব্যর্থতা। জাতিসংঘের ক্ষেত্রেও এ কথাটা প্রযোজ্য। জাতিসংঘের সাফল্য যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে এর ব্যর্থতাও। বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা জাতিসংঘের অন্যতম উদ্দেশ্য। অথচ দেখা গেল বিভিন্ন দেশের মধ্যে যেসব যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, বিশেষ করে চীন-ভিয়েতনাম যুদ্ধ, আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসন, ভিয়েতনাম কর্তৃক কম্পুচিয়ায় আগ্রাসন কিংবা কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ, ইরান-ইরাক যুদ্ধ এসব প্রতিরোধ করতে জাতিসংঘ প্রায় ব্যর্থ হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দুটি বৃহৎ শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে আন্তপ্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে যে স্নায়ুযুদ্ধের জন্ম হয়েছিল, সেই স্নায়ুযুদ্ধ রোধ করা কিংবা উত্তেজনা হ্রাস করার ব্যাপারে জাতিসংঘ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

যদিও তুলনামূলক বিচারে জাতিসংঘের সাফল্য বেশি। বিশেষ করে শান্তিরক্ষা, পরিবেশ কার্যক্রম কিংবা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হয়ে জাতিসংঘ উন্নয়নশীল বিশ্বের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। আমেরিকা ও ইউরোপের সঙ্গে চীন-রাশিয়া বা বড় শক্তি হয়ে ওঠা দেশগুলোর তফাত এখন দৃশ্যমান। আমেরিকা বা ইউরোপ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে রাখার জন্য মরিয়া, কিন্তু বাস্তবে অন্যরাই হয়ে উঠেছে শক্তিশালী। ভারসাম্যের এই খেলায় জাতিসংঘ পারেনি তার জায়গা ঠিক রাখতে। পারলে আজ এই আসন্ন বিশ্বযুদ্ধের ইঙ্গিত থামাতে পারত। কে শুদ্ধ আর কে ভুল সেটা বড় বিষয় না, বিষয় হচ্ছে সাধারণ মানুষ। যেকোনো যুদ্ধেই সাধারণ মানুষ আর তাদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হয়। এমনিতেই করোনার কারণে সব দেশের অর্থনীতি নাজুক। মানুষ আছে ঘোর সংকটে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম। তেলের দাম বাড়া মানেই সব জিনিসের দাম বাড়তে থাকা। দুনিয়ার নাজুক ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর বিষফোঁড়া এই যুদ্ধ জাতিসংঘ থামাতে পারবে? মনে হয় না। কারণ পুতিনের দেশের আছে ভেটো পাওয়ার। আর সেই পাওয়ার এরই মধ্যে ব্যবহার করেছে রাশিয়া। তা ছাড়া বড়সড় কয়েকটি দেশ না ঘর না ঘাটকা হয়ে কিছুই বলছে না। সব মিলিয়ে ইউক্রেনের বিপদ শিগগির কাটবে বলে মনে হয় না। সবচেয়ে যেটা বড় তা হলো জানমালের নিরাপত্তা। আর সভ্যতা বা নিরীহ মানুষকে বাঁচানো। দম্ভ বা শক্তি পরাজিত হয় বটে; কিন্তু রেখে যায় তার পদরেখা। ভয়াবহ সেই পদরেখা থামাতে না পারলে জাতিসংঘের দরকার বা ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থাকবেই। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অন্তত বিশ্বকে এটা স্বীকার করতে বাধ্য করছে, আমাদের আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো মারাত্মকভাবে ব্যর্থ। বিশেষ করে, তারা যুদ্ধাপরাধের জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভদ্মাদিমির পুতিনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারবে বলে মনে হয় না। ফলে চলমান যুদ্ধটি এখনো জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের আবশ্যকতার কথা বলছে, যাতে ভবিষ্যতে আমাদের নিজেদের এমন পরিস্থিতিতে দেখতে না হয়।

লেখক : গবেষক ও কলামিস্ট

[email protected]

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জাতিসংঘ সনদ,বিশ্ব বাস্তবতা
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close