সম্পাদকীয়

  ২২ জুন, ২০২১

সব জটিলতার অবসান হোক

সমন্বয়হীনতা যেন সর্বব্যাপী। মিল নেই কথা ও কাজে। এ অপসংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। তবে কবে নাগাদ মুক্তি এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর আপাতত জানা নেই। দুষ্টচক্র দিন দিন যেভাবে সবকিছু গ্রাস করছে, এতে জাতির অনেক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ম্লান হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। তা থেকে পরিত্রাণের পথ অবশ্যই খুঁজতে হবে। মানুষকে দেখাতে হবে স্বস্তির পথ। গুটিকয়েক ব্যক্তির অনিয়মের কারণে হয়রানির শিকার হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। অথচ অনিয়ম করেও তারা পার পেয়ে যাচ্ছেন। কিছুই বলা যাচ্ছে না। সেসব দুষ্টচক্রকে এবার চিহ্নিত করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে আনতে হবে আইনানুগ ব্যবস্থা। রুখতে হবে সেসব অপরাধীকে। নতুবা এর ফলে দেশ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনি বাধাগ্রস্ত হবে জাতির অমূল্য অর্জন।

বলা সংগত, ১৫ মাস ধরে অফিসে নেই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. নির্মল চন্দ্র সাহা। এমন দায়িত্বপূর্ণ পদে থেকে কীভাবে একজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকতে পারেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়। এর ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমেও চলছে এক ধরনের স্থবিরতা। বিশেষ করে পরীক্ষায় পাস করেও যথাসময়ে সনদ পাচ্ছেন না শিক্ষার্থীরা। এতে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে নিয়োগ পেতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে তাদের। করোনার কারণে এমনিতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। তদুপরি এই উটকো ঝামেলা শিক্ষার্থীদের জন্য চরম বিব্রতকর। অন্যদিকে পরীক্ষা নিয়েও ফল প্রকাশ করতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন বিভাগ।

শুধু তাই নয়, পরীক্ষা আয়োজন, শিক্ষকদের কাছে খাতা পাঠানোসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথিতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। কিন্তু দপ্তর প্রধান না আসায় তার স্বাক্ষর সংগ্রহে বিপাকে পড়ছে বিভিন্ন বিভাগ ও শিক্ষার্থীরা। যা উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমকে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। পাশাপাশি মনোবল ধ্বংস করছে শিক্ষার্থীদের। গত বছরের মার্চ থেকে চলতি জুন পর্যন্ত ১৫ মাসে ড. নির্মল চন্দ্র মাত্র সাত দিন দপ্তরে এসেছেন। কিন্তু এ সময়ে বিভিন্ন বিভাগ পরীক্ষা নিয়ে কোর্স শেষ করেছে। কিন্তু সেই ফল আটকে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে দপ্তরে আসার তাগাদা দিলেও তিনি তা কর্ণপাত করেননি। বরং ব্যক্তিগত গাড়ির অজুহাত তুলে বাসা থেকেই দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করছেন। এতে নানা রকম ঝুঁকি নিয়েই অধস্তনদের কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। তারা গোপনীয় নথি আনা-নেওয়া করছেন গণপরিবহনে। এতে বাড়তি খরচ যেমন হয়; তেমনি এটি অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণও বটে।

করোনা সংক্রমণ রোধে গত বছরের মার্চের শেষ দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম ও সীমিত পরিসরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তর চালু রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমানসহ অন্য কর্মকর্তারা রুটিনমাফিক অফিসে করলেও আসেন না পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. নির্মল চন্দ্র সাহা। একজন দায়িত্বপূর্ণ ব্যক্তি কর্মস্থল থেকে এত দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকতে পারেন না। নিঃসন্দেহে এটি স্বেচ্ছাচারিতার শামিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কথার রেশ ধরে আমরা আশা করতে পারি, দ্রুত এই জটিলতার অবসান ঘটবে। শিক্ষা কার্যক্রমে গতি আসবে বিশ্ববিদ্যালয়টির আর এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।

পিডিএসও/হেলাল

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জটিলতা,সম্পাদকীয়,অনিয়ম
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close