মাওলানা মাসউদুল কাদির

  ০৪ মে, ২০২১

তুচ্ছ কারণে ভেঙে যেতে পারে রোজা

তুচ্ছ কারণেও ভেঙে যেতে পারে রোজা। সারা দিন অনাহারে থেকেও কোনো পুণ্যই পাবেন না রোজাদার। তাই সিয়াম সাধনার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রোজাদারকে সচেতন থাকতে হবে। ত্রুটিযুক্ত রোজা কবুল হয় না। দোষত্রুটিমুক্ত রোজাদারই পূর্ণ সওয়াবের অধিকারী হয়।

ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভাঙলে কাজা ও কাফ্ফারা দুটোই ওয়াজিব হয়। রমজানে রোজা রেখে দিনে স্ত্রী সহবাস করলে বীর্যপাত না হলেও স্বামী-স্ত্রী উভয়ের ওপর কাজা ও কাফফারা ওয়াজিব হবে। একটি দীর্ঘ হাদিসে আছে, ‘এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল, আমি রোজা অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করেছি। নবীজি তাকে কাফফারা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন।’ (সহিহ বোখারি)। মুহাম্মদ ইবনে কাব (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ওই ব্যক্তিকে কাফফারা আদায়ের সঙ্গে কাজা আদায়েরও আদেশ করেছিলেন।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক)

রোজা রেখে স্বাভাবিক অবস্থায় ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে কাজা ও কাফফারা উভয়টি জরুরি হবে। হাদিস শরিফে আছে, ‘এক ব্যক্তি রমজানে রোজা রেখে ইচ্ছাকৃত পানাহার করল। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে আদেশ করলেন, যেন একটি দাস আজাদ করে বা দুই মাস রোজা রাখে বা ষাটজন মিসকিনকে খানা খাওয়ায়।’ (সুনানে দারাকুতনি)

ইমাম জুহরি (রহ.) বলেন, ‘রমজানে রোজা রেখে যে ইচ্ছাকৃত পানাহার করবে তার হুকুম ইচ্ছাকৃত দিনে সহবাসকারীর অনুরূপ।’ অর্থাৎ তাকে কাজা ও কাফফারা উভয়টি আদায় করতে হবে। (মাবসুত, সারাখসি)। বিড়ি-সিগারেট, হুক্কা পান করলেও রোজা ভেঙে যাবে এবং কাজা ও কাফফারা উভয়টি জরুরি হবে। (রদ্দুল মুহতার)

‘সুবহে সাদিক হয়ে গেছে জানা সত্ত্বেও আজান শোনা যায়নি বা এখনো ভালোভাবে আলো ছড়ায়নি এ ধরনের ভিত্তিহীন অজুহাতে খানাপিনা করলে বা স্ত্রী সহবাসে লিপ্ত হলে কাজা-কাফফারা দুটোই জরুরি হবে।’ (সুরা বাকারা : ১৮৭)

একটি রোজার জন্য দুই মাস ধারাবাহিকভাবে রোজা রাখতে হবে। কোনো কারণে ধারাবাহিকতা ছুটে গেলে আবার নতুন করে রোজা রাখতে হবে। পেছনের রোজাগুলো কাফফারার রোজা হিসেবে ধর্তব্য হবে না। তবে নারীদের হায়েজের কারণে ধারাবাহিকতা নষ্ট হলে অসুবিধা নেই।

ইবরাহিম নাখায়ি (রহ.) বলেন, ‘যার ওপর কাফফারা হিসেবে দুই মাস ধারাবাহিকভাবে রোজা রাখা জরুরি। সে যদি মধ্যখানে অসুস্থ হওয়ার কারণে রোজা রাখতে না পারে, তাহলে আবার নতুন করে রোজা রাখা শুরু করবে।’

বিখ্যাত সব ফতোয়ার কিতাবগুলোয় রোজা ভাঙার দায়ে এ নীতিগুলোর কথা বলা হয়েছে। রোজাদার অবশ্যই নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা পাবেন। সময়মতো একটি রোজা কাজা রেখেই মুক্তি পাবেন। তবে কাফফারা আদায়টা অনেক কঠিন। এজন্য ইচ্ছাকৃত কোনো ক্ষেত্রেই রোজা না ভাঙা উচিত।

লেখক : সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক
[email protected]

পিডিএসও/হেলাল

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
রমজান,রোজা,মাসউদুল কাদির
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close