অনলাইন ডেস্ক
  ২৬ জানুয়ারি, ২০২১

বাল্যবিয়ে রুখতে হবে

বাল্যবিয়ে জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা। কোভিড-১৯ মহামারিতে এই প্রবণতা আরো তীব্র করে তুলেছে। বিশেষ করে দারিদ্র্য, মেয়েদের নিরাপত্তার অভাব এবং মেয়েদের পবিবারের জন্য বোঝা মনে করার মানসিকতা থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, একটি সমাজ এবং একটি দেশ হিসেবে অবশ্যই বাল্যবিয়ের ধ্বংসাত্মক প্রভাব স্বীকার করতে হবে। যা শেষ পর্যন্ত সমগ্র সমাজের পাশাপাশি জাতির বিকাশের লক্ষ্যকেও সংকুচিত করে। বাল্যবিয়ের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মেয়েশিশু এবং কিশোরীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কাজ ও আয় করার অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া। ঘরোয়া সহিংসতার শিকার হওয়া। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যা তাদের মৃত্যুর কারণও হতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য বাল্যবিয়ের প্রভাব অশুভ। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০ এর কোটায় বয়স এমন প্রায় ৫০ শতাংশেরও বেশি নারীর বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই এবং ১৮ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৫ বছর বয়স হওয়ার আগে। করোনা মহামারির কারণে এই সংখ্যাটি কয়েক গুণ বেড়েছে। এবার বাল্যবিয়ের অভিশাপ থেকে জাতিকে মুক্তি দিতে ভোলা জেলার গ্রামে গ্রামে চলছে পুথিগানের আসর। পুথিগানের আসরের মাধ্যমে গ্রামের মানুষকে বাল্যবিয়ের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করতে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন। গানে গানে বাল্যবিয়ের নেতিবাচক দিকগুলো সুন্দরভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। আয়োজকরা বলছেন গ্রামের মানুষকে বাল্যবিয়ে সম্পর্কে সচেতন করতে গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া পুথিগানকে বেছে নিয়েছেন তারা। গত ২০ জানুয়ারি থেকে চলছে এই গানের আসর। গতকাল প্রতিদিনের সংবাদে প্রকাশিত ‘বাল্যবিয়ে রুখতে পুথির আসর’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোলার সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোলার সামাজিক সংগঠন স্বপ্নীল শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক সংগঠনের তরুণ-তরুণীরা পুথিগানের আসর করছেন। তাদের মূল লক্ষ্য এই জেলা থেকে বাল্যবিয়ে সম্পূর্ণ রোধ করা। ইউনিসেফ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কোস্ট ট্রাস্টের শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষা ত্বরান্বিতকরণ প্রকল্পের মাধ্যমে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে পুথিগানের পাশাপাশি নাটকও পরিবেশন করেন। ব্যতিক্রমী এই আয়োজন গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যেও বেশ সাড়া জাগিয়েছে। কারণ কম বয়সে মেয়েরা সংসার জীবন সম্পর্কে এতটা বুঝে না। এ ছাড়া কম বয়সে বিয়ের পর নানা কারণে মৃত্যুর ঝুঁকিও থাকে। এই মহতি উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি আমরা চাই, সারা দেশের মানুষ এ থেকে অনুপ্রাণিত হবে এবং বাল্যবিয়ে রোধে যে যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হবে।

বলা সংগত, বাংলাদেশে ১৮ বছরের আগে বাল্যবিয়ের হার ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ। শুধু ভোলা জেলায় এই হার ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ। বর্তমানে আমরা যে পরিসংখ্যানের মুখোমুখি হয়েছি, আমাদের উচিত দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া। মেয়েশিশু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার এবং সমাজের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তারা যাতে রাস্তায় কোনো হয়রানির শিকার না হয়, যৌন সহিংসতার শিকার না হয়, নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে এবং নিজেদের স্বপ্নপূরণ করতে পারে, সবাই মিলে তা নিশ্চিত করতে পারলেই দেশে বাল্যবিয়ে রোধ করা সম্ভব। আর এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

পিডিএসও/ জিজাক

বাল্যবিয়ে,বিয়ে
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close