অনলাইন ডেস্ক
  ১৮ জানুয়ারি, ২০২১

নতুন শিক্ষাবর্ষে ফিরে আসুক স্কুলজীবন

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু। করোনাকালীন দীর্ঘ ছুটির একঘেয়েমিতে ক্লান্ত শিক্ষার্থীরা। এখন তারা স্কুলের দিকে ছোটার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। প্রায় সবার হাতে পৌঁছে গেছে নতুন বই। কাটেনি ক্লাস ও স্কুলের অনিশ্চয়তা। কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে থাকতে এখন তারা ত্যক্তবিরক্ত। মুখিয়ে আছে মুক্তির প্রত্যাশায়। কবে আসবে সেই মুক্তি, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে। অপেক্ষার পালা কি আরো দীর্ঘায়িত হবে এ কথাও জানে না কেউ। পাশাপাশি অনিশ্চয়তার বৃত্তে আটকে আছে করোনা সংক্রমণ। কবে সরবে, তাও নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। প্রকৃত অর্থে বিশ্বই যখন এই অনিশ্চয়তা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি; তখন আমরা কখন এই মহামারির কবল থেকে বেরিয়ে আসতে পারব, তা নিশ্চিত করে বলা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। তবে তুলনামূলক বিচারে আমরা যে অনেকের চেয়ে ভালো অবস্থানে আছি, এ কথা সত্য। আর সেই সত্যের ওপর দাঁড়িয়ে বলা যায়, শিক্ষার্থীদের প্রশ্নে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে।

স্কুল খোলা ও ক্লাস নিয়ে এই প্রশ্ন আর অনিশ্চয়তা শুধু কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নয়, অভিভাবক এমনকি শিক্ষকদেরও। অনেক শিক্ষকও জানেন না, স্কুল খোলা নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে। গত বছরের মতোই চলতি শিক্ষাবর্ষে অনলাইনে ক্লাস চলবে, নাকি সহসা স্কুল খোলার ঘোষণা আসবে এ সম্পর্কে কারো কাছে কোনো তথ্য নেই। অভিভাবকদের মতে, করোনাভাইরাস মহামারির আঘাতে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত কয়েক কোটি শিক্ষার্থীর জীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। স্কুলভিত্তিক শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগী হচ্ছে না। অবসর সময় কাটছে মোবাইল-কম্পিউটারে খেলাধুলা করে। এমনকি দীর্ঘদিন স্কুলের বাইরে থাকায় অনেক শিক্ষার্থীর মানসিক সমস্যা শুরু হয়েছে। দিনের বেশির ভাগ সময় ঘরে বসে টিভি-কম্পিউটারের সামনে কাটানোর ফলে তাদের ক্ষুধামন্দা, ঘুমের সমস্যা, এমনকি শারীরিক দুর্বলতাও দেখা দিচ্ছে। ফলে অনলাইন ক্লাসের প্রশ্নে তাদের অনীহা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে শিক্ষায় গতি ফিরিয়ে আনতে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আগামী ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার আভাস দিয়েছেন। এ ছাড়া চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পিছিয়ে জুন মাসে এবং এইচএসসি পরীক্ষা জুলাই-আগস্টে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। পাশাপাশি ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এসএসসি পরীক্ষার্থীদের এবং ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য স্কুল খুলে দিয়ে ক্লাস করানোর পরিকল্পনার কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনার দাবি অভিভাবকদেরও। তাদের মতে, ১১ মাসের অধিক সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে বইয়ের দূরত্ব বেড়েছে। বেড়েছে অনৈতিক চিন্তা। কঠিন হলেও এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদের আগামী প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য স্কুল একটি অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান। কীভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সচল করা যায়, সে প্রশ্নে ইতিবাচক সিদ্ধান্তে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা মনে করি, সব বাধা মোকাবিলা করে যেভাবে আমরা আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল করেছি; একইভাবে শিক্ষাব্যবস্থাকেও সফল করতে সক্ষম হব বলেই আমাদের বিশ্বাস।

পিডিএসও/ জিজাক

স্কুলজীবন,নতুন শিক্ষাবর্ষ,শিক্ষার্থী,কোভিড১৯
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close