সম্পাদকীয়

  ১৩ জানুয়ারি, ২০২১

রাজধানীতে কমাতে হবে মোটরসাইকেলের চাপ

বর্তমান সমাজে জনসংখ্যার চাপ বেড়েই চলেছে। গণপরিবহনে যাত্রীদের চাপ এবং ব্যক্তিগত কাজে দ্রুত ও যাতায়াত ব্যবস্থাকে সহজলভ্য করে তোলার জন্য ব্যক্তিগত যানবাহনের চাপ বাড়ছে জ্যামিতিক হারে। সেক্ষেত্রে সহজলভ্যতা ও সাশ্রয়ী হওয়ার দরুন মোটরসাইকেল হলো সর্বাধিক জনপ্রিয় বাহন। কিন্তু বর্তমান সময়ে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি এক প্রকার ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। শখের বশে বা সন্তানের জেদের আবদার মেটানোর জন্য অভিভাবকরা মোটরসাইকেল কিনে দিচ্ছেন এবং এমন বেখেয়ালিপনায় নিজেদের সন্তানকে চরম উচ্ছৃঙ্খল পথে ধাবিত করছেন। রাস্তায় নিরাপত্তাহীনভাবে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর ফলে প্রায়শই ঘটছে দুর্ঘটনা। অকালে ঝরে যাচ্ছে শত শত সম্ভাবনাময়ী জীবন।

পরিসংখ্যান মতে, ২০১৯ সালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৯৮; যা মোট দুর্ঘটনার ১৯ শতাংশ। ২০২০ সালে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৭৮; যা মোট দুর্ঘটনার ২৯ দশমিক ১০ শতাংশ। গত বছর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৪৬৩ জন নিহত হয়েছে। ২০১৯ সালে যার পরিমাণ ছিল ৯৪৫ জন। এসব দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতের সংখ্যা সিংহভাগই তরুণ।

শুধু ঢাকা শহরেই যত মোটরসাইকেল রয়েছে সমগ্র দেশে তা নেই। আর সে কারণেই রাজধানীর রাস্তায় মোটরসাইকেলের চাপ যেন আজ এক অসহনীয় পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। দিন দিন তা বাড়ছে জ্যামিতিক হারে। বাড়ছে পরিবেশ ও শব্দদূষণ। শহরে যানজট সব সময়ই ছিল, এখন যেন তার মাত্রা আরো কিছুটা বাড়ল। আর এভাবে বাড়তে থাকলে নিকট ভবিষ্যতে তা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা বলা খুবই কঠিন। সম্ভবত লাগাম টানার সময় এসেছে। কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই বিষয়টি নিয়ে ভাববেন। পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে মোটরসাইকেলের পরিবর্তে সাইকেলের কথা ভাবা যেতে পারে। পরিবেশ রক্ষায় সাইকেল খুবই সময়োপযোগী বলেই আমাদের ধারণা। যেহেতু ঢাকাকে এখন আমরা নান্দনিক শহরে রূপান্তর করার কথা ভাবছি, মোটরসাইকেলের চাপ কমানোর কথা আমাদের মাথায় নিতে হবে।

সহজেই অনুমেয়, মোটরসাইকেল মানবজীবনের কত বড় মৃত্যফাঁদে পরিণত হয়েছে! প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে এবং অপ্রয়োজনে মোটরসাইকেলের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। গণপরিবহনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে যানজট নিরসনে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে চলমান মোটরসাইকেলের মিছিলে নতুন করে আর যেন কোনো মোটরসাইকেল যুক্ত হতে না পারে; সেজন্য নতুনের ক্ষেত্রে লাইসেন্স পেতে মোটা অঙ্কের করারোপ করা যেতে পারে। পাশাপাশি শহরজুড়ে সাইকেল লেন গড়ে তোলাও হবে একটি ইতিবাচক সংযোজন।

আমরা মনে করি, সড়ক দুর্ঘটনায় এমনিতে মৃতের সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। এবার যুক্ত হলো মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। সাধারণত মোটসাইকেলচালকের বেশির ভাগই তরুণ। আর তরুণের মাঝে তারুণ্য স্বভাবজাত। স্বভাবজাত কারণেই একটু বেপরোয়া। গতিতে ছোটাই তাদের স্বভাব। তাদের এই বেপরোয়া গতিই তাদের হাতে তুলে দেয় মৃত্যুর পরোয়ানা। সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা তাদের হাতে এই পরোয়ানা তুলে দিতে পারি না। তাই লাগাম টেনে ধরাটাই আজ জরুরি। কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিষয়টি ভেবে দেখবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস। আমরা মনে করি, দুর্ঘটনায় সড়কে রক্তের প্রবাহ আর নয়—এই হোক সবার অঙ্গীকার।

পিডিএসও/হেলাল

মোটরসাইকেল,রাজধানী,সম্পাদকীয়,সড়ক দুর্ঘটনা
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়