সম্পাদকীয়

  ২৪ নভেম্বর, ২০২০

রাজউকের নজরদারি আরও বাড়াতে হবে

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তথা রাজউক সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা ততটা সুখকর নয়। এ ধারণার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। এ জন্য কাজের অগ্রগতি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রয়োজন। অথচ রাজউক প্রসঙ্গে বারবার এসব কথা ওঠে আসে। এমনই একটি বিষয় হচ্ছে, রাজধানীতে রাজউকের অনুমোদিত নকশা ছাড়া একের এক ভবন গড়ে উঠছে। কিন্তু ইমারত নির্মাণ বিধিমালার তোয়াক্কা না করে ভবন বানানো হলেও সেদিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই। ফলে অট্টালিকার ঝঞ্জালে পরিণত হচ্ছে রাজধানী। এতে ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের দৌরাত্ম্য।

বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুন লাগার পর ত্রুটি-বিচ্যুতি খুঁজে বের করতে রাজধানীতে নির্মিত বহুতল ভবনগুলো পরিদর্শন করার উদ্যোগ নিয়েছিল রাজউক। কিন্তু ১ হাজার ৮১৮টি ভবন পরিদর্শনের পর থেমে যায় সে উদ্যোগ। পরিদর্শনকালে ১ হাজারের বেশি ভবনে নির্মাণ ত্রুটি পেলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংস্থাটি, যা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। রাজউকের এই তদারকি থেমে যাওয়া নগরীর জন্য অশনিসংকেত বলে মনে করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। তারা বলছেন, আবার বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলে মনে হয় টনক নড়বে না রাজউকের। তবে রাজউক কর্মকর্তারা বলছেন, অনুমোদিত নকশা ছাড়া নির্মিত ভবন তদারকির জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে। তারা সুপারিশ দিলেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল প্রতিদিনের সংবাদে প্রকাশিত ‘হাজারো ভবনে ত্রুটি পেয়েও চুপ রাজউক’ শিরোনামের বিশেষ প্রতিবেদনে বিষয়টির উল্লেখ করে বলা হয়, রাজউকের প্রধান কাজ রাজধানীতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প তদারকি করা। অথচ প্রতি বছরই রাজধানীতে অহরহ নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ হচ্ছে। কিন্তু তদারকির কোনো বালাই নেই। আমরা মনে করি, রাজউক নকশাবহির্ভূত ভবন তদারকির জন্য যে কমিটি করেছে, তারা যেন মাঠে গিয়ে তদারকি করে এবং নকশাবহির্ভূত ভবনগুলো ভেঙে ফেলে। নতুবা আবার কোনো বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়বে মানুষ; যা কারোরই কাম্য হতে পারে না।

বলা প্রাসঙ্গিক, ভবনের নকশা অনুমোদন থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত পুরোটাই তদারকি করার কথা রাজউকের। শুধু নকশা দিয়ে কাজ শেষ এটা কাজ না। বরং নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ হচ্ছে কিনা তা শুরু থেকে তদারকি করা তাদের দায়িত্ব। কিন্তু তারা তদারকি না করায় রাজউকে গৃহীত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবন নির্মাণ হচ্ছে। এসব নিয়মবহির্ভূত ভবন ঢাকা মহানগরীকে যেমন ঝুঁকিতে ফেলছে, তেমনি তার সৌন্দর্যও নষ্ট করছে। এদিকে রাজউককে আরো নজর দিতে হবে।

রাজধানীতে নিয়ম-কানুন না মেনে বানানো ভবন বা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অঞ্চলভিত্তিক সমীক্ষার তথ্যানুযায়ী প্রায় ৭০ হাজার ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। নানা তথ্য মতে, এ সংখ্যা লক্ষাধিক। ফলে ভূমিকম্পসহ অবকাঠামোগত ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি অপরিকল্পিত অবকাঠামোর কারণে যানজট আর জলাবদ্ধতার নগরীতে পরিণত হয়েছে ঢাকা। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা অব্যবস্থা। তা থেকে এই মহানগরীকে মুক্ত করতে হবে। তা না হলে অদূর ভবিষ্যতে কংক্রিটের বস্তিতে পরিণত হবে ঢাকা।

পিডিএসও/হেলাল

নজরদারি,রাজউক,সম্পাদকীয়,রাজধানী
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়