পেঁয়াজ নিয়ে সরকারের নতুন উদ্যোগকে স্বাগত

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২০, ০৮:১৬

সম্পাদকীয়

এ দেশে সবকিছুতেই কিছু না কিছু ‘তেলেসমাতি’ চোখে পড়ে। শব্দটি তাই বহুল প্রচলিত। প্রতিনিয়তই চোখের সামনে শব্দটি তার কেরামতি দেখিয়ে আমাদের বিভ্রান্ত করছে। করছে দুর্দশাগ্রস্ত। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, এ দুর্দশা থেকে মুক্তি পাওয়ার যেন কোনো পথ খোলা নেই। ফি বছর এ দেশে পেঁয়াজ নিয়ে যে তেলেসমাতি হচ্ছে, তা অনেকটা বাধ্যগত ছাত্রের মতো আমরা গিলছি। বুঝে না বুঝে তা হজম করতে বাধ্য হচ্ছি। কিন্তু এভাবে কতকাল? জবাবটা কঠিন নয়। যত দিন না বিকল্প পথের সন্ধান মিলবে, তত দিন এভাবেই চলবে। অপ্রতিরোধ্য গতিতে এবং বহাল তবিয়তে থাকবে তেলেসমাতি।

আমরা ভাবছি। বিশেষজ্ঞরাও ভাবছেন। ভাবছে সরকার। তবে শেষ মুহূর্তে এসে সরকারের ভাবনায় কিছুটা হলেও ইতিবাচক সম্ভাবনা যোগ দেখা যাচ্ছে। আর সেই ভাবনাটি হলো আর আমদানিনির্ভরতা নয়। পেঁয়াজ সংকট এড়াতে উৎপাদনে স্বনির্ভর হওয়া। সেদিকেই সরকারের লক্ষ্য। আগামী দুই বছরের মধ্যে পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে বিশেষ কর্মকৌশল প্রণয়ন করেছে সরকার। সরকারের এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। উদ্যোগটি সফল হলে সাশ্রয় হবে ২ হাজার কোটি টাকা। বেঁচে যাবে বৈদেশিক মুদ্রা। আর আমদানি নয়, উৎপাদন বাড়িয়ে দেশজ চাহিদা মিটিয়ে রফতানির কথাও ভাবছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিন মন্ত্রণালয় গ্রহণ করেছে সমন্বিত উদ্যোগ। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য চাহিদা মোতাবেক পেঁয়াজ উৎপাদন। তিন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য, কৃষি ও অর্থ। পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে একটি কর্মকৌশল প্রণয়ন করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পরে তা কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কর্মকৌশল বাস্তবায়নে অর্থের প্রয়োজন হবে। সে কারণেই অর্থকে যুক্ত করা হয়েছে। আগামী মৌসুম থেকেই নতুন উদ্যোগের যাত্রা হবে।

কৌশলের অংশ হিসেবে রয়েছে, বীজের সরবরাহ বাড়ানো। চাষাবাদে ভূমির পরিমাণ বৃদ্ধি করা। সংরক্ষণে হিমাগার নির্মাণ। কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সঠিকভাবে বাজারজাতকরণ ও গ্রীষ্মকালীন উৎপাদনে গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করা। এ ছাড়া পেঁয়াজ উৎপাদনে সমৃদ্ধ চার জেলাকে নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বীজ, সার ও কীটনাশক ক্রয়ে কৃষকের দেওয়া হবে বিশেষ ভর্তুকি। কেন্দীয় ব্যাংক দেবে বিশেষ ব্যবস্থায় ‘পেঁয়াজ ঋণ’। পেঁয়াজ ঋণ হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি বিশেষ কর্মসূচি। এই কর্মসূচিতে স্থানীয় কৃষি ব্যাংক থেকে কৃষককের সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ঋণ দেবে সরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কর্মকৌশল নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব।

সংশ্লিষ্টদের এই মন্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত হয়ে বলা যায়, সত্যই আমরা পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারি। তবে এখানে একটি যদির প্রশ্ন থেকেই যায়। যদি আমরা এ কাজে আন্তরিক হই, সততার পরিস্ফুটন ঘটাতে পারি এবং আমাদের মাঝে দেশপ্রেমের নিদর্শন থাকে; তাহলে এ কাজ আমাদের কাছে কঠিন কিছু নয়। যদিও এসব প্রশ্নে আমাদের ঘাটতি অনেক। এ ঘাটতি অতিক্রম করতে পারলে শিগগিরই আমরা ‘দুর্বৃত্তদের তেলেসমাতি’র হাত থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে সক্ষম হব বলেই আমাদের বিশ্বাস।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমদানি ব্যয়ের অর্ধেক সঠিকভাবে এ প্রকল্পে ব্যবহার করতে পারলে পেঁয়াজের সংকট মিটিয়ে বাংলাদেশ পণ্যটির রফতানিকারক দেশে রূপান্তরিত হতে পারে। আমরাও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বলতে চাই, আমরা পারব এবং নতুন করে প্রমাণে সক্ষম হব ‘দেশপ্রেম এবং দেশপ্রেমের কোনো বিকল্প নেই’।

পিডিএসও/হেলাল