সড়কে নৈরাজ্য থামাতে কৌশল পাল্টানো জরুরি

প্রকাশ | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪:০১ | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪:০৫

সম্পাদকীয়

অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কোনোভাবেই পথে ফেরানো যায়নি। সড়কে থামেনি নৈরাজ্য। বাসের প্রতিযোগিতায় যাচ্ছে প্রাণ। কেউ মানছেন না গতিসীমা। লেন দখলে ফাঁকা সড়কেও যানজট। ঠোকাঠুকিতে সড়কজুড়ে ভাঙা কাচ। আগস্টেই সড়কে ঝরেছে ৪৫৯ প্রাণ। সরকার যেন কোনোভাবেই চালকদের সুস্থ মানসিকতায় ফেরাতে পারছে না। কিন্তু কেন! জবাবে বলতে হয়, প্রেসক্রিপশনে কাজ হচ্ছে না। ভুল ওষুধ দেওয়া হয়েছে। তাই বদলাতে হবে চিকিৎসা পদ্ধতি। নতুন করে তৈরি করতে হবে নতুন ব্যবস্থাপত্র। তা না হলে কোনোভাবেই থামানো যাবে না এই ধারাবাহিক মৃত্যু। যাকে মৃত্যু না বলে অপমৃত্যুই বলা ভালো।

মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদ বলছে, ২৩ সেপ্টেম্বর বেলা ২টা ২৭ মিনিট। অফিসটাইম না হওয়ায় রাস্তাঘাট মোটামুটি ফাঁকা। তার পরও খিলক্ষেত ওভারপাসের নিচের এয়ারপোর্টমুখী সড়কটি যানজটে বন্ধ। সড়কটির সবকটি লেন দখল করে যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ১২-১৩টি বাস। হঠাৎ দুই বাসের মধ্যে ঘর্ষণে সড়কে ঝনঝন করে ভেঙে পড়ল কাচ। ১০ সেকেন্ডের মধ্যে ফের বন্ধ হয়ে যায় সবকটি লেন। ব্যস্ততম সড়কটির বাকি অংশ ফাঁকা থাকলেও ওই স্থানটির পেছনে যানজটে আটকে ছিল প্রায় অর্ধশত গাড়ি। শুধু খিলক্ষেত বাস স্টপেজেই নয়, এমন নৈরাজ্যের চিত্র রাজধানীর প্রায় প্রতিটি সড়ক ও স্টপেজে। এতে শুধু যানজটই বাড়ছে না, বলি হচ্ছে অনেক তাজা প্রাণ। দেশের সর্বত্রই চলছে গণপরিবহনের এমন উগ্র প্রতিযোগিতা। বিভিন্ন সংস্থার তথ্যমতে, গত চার মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে প্রায় দেড় হাজার মানুষ। সাজা বাড়িয়ে নতুন সড়ক পরিবহন আইন পাস ও দফায় দফায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানেও সড়কে ফেরেনি শৃঙ্খলা। থামেনি মৃত্যুর কাফেলা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার কারণে দীর্ঘদিন সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকার পর ১ জুন ফের চালু হয়। এরপর পরিবহন মালিক ও চালকরা যেন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। ফলে বেড়েছে দুর্ঘটনা। বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু গত আগস্টেই দেশের সড়ক-মহাসড়কে ৩৮৮টি দুর্ঘটনায় মারা গেছে ৪৫৯ জন। আহতের সংখ্যা ৬১৮। এ ব্যাপারে বাস মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, একই কোম্পানির গাড়ি রাস্তায় নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করছে। কোম্পানির নাম একটা, গাড়ি ভিন্ন ভিন্ন মালিকের। কিছু গাড়ি আছে চুক্তিভিত্তিক চলে। এগুলোই বেশি প্রতিযোগিতা করে। তারা এর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। বর্তমানে রাজধানীতে ৩০ শতাংশ গাড়ি চুক্তিভিত্তিক চলছে। আগে ছিল ৭০ শতাংশ। প্রতিযোগিতা কমাতে পার্কিং বে-নির্মাণ ও সব কোম্পানির গাড়ির কাউন্টার করে দিতে হবে। বাস রুট রেশনালাইজেশন হলে স্থায়ী সমাধান হবে। এক কোম্পনির অধীনস্ত হবে সব গাড়ি। আলাদা ব্যক্তিমালিকানায় গাড়ি থাকবে না। সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং তা বাস্তবায়নের দিকে যাচ্ছে।

আমরা সড়ক দুর্ঘটনায় আর প্রাণ বিসর্জন দিতে চাই না। অপমৃত্যুকে বরণ করতে চাই না। আমরা নিরাপদ এবং শঙ্কামুক্ত সড়ক পেতে চাই। তা যেকোনো উপায়ে হোক না কেন। তবে অবস্থা বিচারে আমরা বিশ্বাস করি, পুরোনো তরিকায় কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। চাই নতুন প্রেসক্রিপশন এবং কার্যক্ষম নতুন ওষুধ।

পিডিএসও/এসএম শামীম