দূষিত বাতাস প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:০৯

সম্পাদকীয়

কথায় আছে, ‘পাপী মরে দশ ঘর নিয়ে’। পৃথিবীতে প্রায় ৭০০ কোটি মানুষের বসবাস। পাপীর সংখ্যা ১ শতাংশও নয়। আমরা সেসব পাপীর কথা বলছি, যাদের পাপের পরিমাণ ৫১ শতাংশের ঊর্ধ্বে। পাশাপাশি বলে রাখা ভালো, বিশ্ব পরিমন্ডলে পাপ করেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। যেখান থেকে শুরু সেখানেই ফিরে যাওয়া যাক, ‘পাপী মরে দশ ঘর নিয়ে’। অর্থাৎ এই ১ শতাংশ মানুষের কারণে বিশ্বই আজ অস্থির। বিপদগ্রস্ত মানব সম্প্রদায়, প্রাণিকুল ও প্রকৃতি।

প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, ‘দূষিত বাতাসে প্রতি বছর বিশ্বে মারা যাচ্ছে ৭০ লাখ মানুষ’। প্রশ্ন হচ্ছে এই বাতাস দূষিত করছে কে? জবাব একটাই। সেই ১ শতাংশ মানুষই বায়ুদূষণের জন্য দায়ী। আর এদের অনৈতিক কর্মকান্ডের কারণে বছরে ৭০ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু হচ্ছে। প্রাণী প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটছে। প্রকৃতি করছে বিদ্রোহ।

বিশুদ্ধ বাতাসের প্রয়োজন নিয়ে অনলাইনে ‘ডক্টরস্ ফর ক্লিন এয়ার’-এর আলোচনায় উঠে এলো এমনই এক তথ্য। জাতিসংঘের ‘ক্লিন এয়ার ফর ব্লু স্কাইজ’-এর প্রথম আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে ভারতের সাতটি চিকিৎসক সংগঠন যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে। সভায় গর্ভবতী ও সদ্যজাতদের ওপর দূষিত বাতাসের প্রভাব এবং একই সঙ্গে হৃৎপিন্ড, ফুসফুস ও মস্তিষ্কের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে দূষণ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আলোচকরা জানিয়েছেন, দূষিত বাতাসের জন্য বিশ্বে অকালমৃত্যু ঘটছে ৭০ লাখ মানুষের। ভারতে এই সংখ্যাটা ১০ লাখ ২০ হাজার।

এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, জীবাশ্ম থেকে তৈরি হওয়া জ্বালানি পোড়ালে সব থেকে বেশি পরিমাণে দূষণ ঘটে। এই দূষণে আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

মানুষ তার সীমাহীন ভোগের চাহিদাকে মেটানোর জন্য সামস্টিক লাভ-ক্ষতির কথা বিবেচনায় না রেখে ব্যক্তি লাভের দিকে ছুটে চলার কারণেই এ সমস্যা ঘনীভূত হচ্ছে। বিশ্ব জনসমষ্টির দিকে তাকালে দেখা যায়, এদের সংখ্যা খুবই নগন্য। কিন্তু শক্তির দিক থেকে এরা পরাক্রমশালী। একটি সিস্টেম তাদের এতটা শক্তিশালী করে রেখেছে। বিভাজন প্রক্রিয়া এই সিস্টেমের মূল চাবিকাঠি। বিভাজন প্রক্রিয়া যতটা ত্বরান্বিত হচ্ছে, তাদের শক্তিও ততটা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ প্রক্রিয়ার শেষ কোথায় এ মুহূর্তে বলা কঠিন হলেও এ কথা সত্য যে, এ প্রক্রিয়ার মূলোৎপাটন হতে হবে। পৃথিবী ও মানব সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখতে হলে মূলোৎপাটন ব্যতীত দ্বিতীয় কোনো পথ খোলা নেই। বিশ্বকে হতে হবে একটি রাষ্ট্র এবং ৭০০ কোটি মানুষকে হতে হবে সমমর্যাদার নাগরিক। এই ৭০০ কোটি মানুষের ঐক্যমতে পৌঁছাতে না পারা পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষায় থাকতে হবে। বিশেষ করে ১ শতাংশ মানুষকে একঘরে করতে পারলেই আমরা অনেকটা এগিয়ে যেতে পারি। অন্যথায় মুক্তি নাই।

সুতরাং বিশ্বকে পরিচ্ছন্ন রাখতে, দূষণমুক্ত রাখতে বিশ্বের সকল দেশ-জাতি-রাষ্ট্রকে এক নৌকার যাত্রী হতে হবে। বলতে হবে পৃথিবীকে আমরা নান্দনিক করে গড়ে তোলার পথে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাব। কেননা আমরা বিশ্বাস করি, অনৈক্য এক দিন পৃথিবী ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে, যা বিশ্বের ৯৯ শতাংশ মানুষেরই কাম্য নয়।

পিডিএসও/হেলাল