অবৈধ গ্যাস সংযোগ বন্ধে পদক্ষেপ চাই

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:১৭

সম্পাদকীয়

অবৈধ গ্যাস সংযোগের ফলে সরকার বড় ধরনের রাজস্ব হারাচ্ছে। অপচয় হচ্ছে জাতীয় সম্পদের। এ বিষয়ে সরকারের বারবার সতর্কতা সত্ত্বেও কোনো উদ্যোগই ফলপ্রসূ হচ্ছে না। উল্টো তার দায়ভার সরকারকে বহন করতে হচ্ছে। অবৈধ গ্যাস সংযোগের কারণে গ্যাস দুর্ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের মসজিদে গ্যাস দুর্ঘটনা এর অন্যতম দৃষ্টান্ত। যে ঘটনায় অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। দু-একটি ঘটনার পর অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণের অভিযান শুরু হয়। তবে নানা প্রভাবশালী মহলের চাপে সে অভিযান শেষ পর্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারে না। এতে ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে মানুষের জীবন। এ অবস্থায় শুধু অবৈধ গ্যাস সংযোগ বন্ধ নয়, যারা অবৈধভাবে তা ব্যবহার করছেন তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত পদক্ষেপ নিতে হবে বলে আমরা মনে করি।

রাজধানীসহ এর আশপাশের জেলাগুলোতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ জালের মতো বিস্তার ঘটিয়েছে। গতকাল প্রতিদিনের সংবাদে প্রকাশিত ‘অবৈধ গ্যাস সংযোগে মরণফাঁদ’ শীর্ষক সরেজমিন প্রতিবেদনে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে গ্যাসের অবৈধ সংযোগের নানা চিত্র তুলে ধরা হয়। বলা হয়, মাটির ওপর দিয়ে প্লাস্টিকের পাইপ, জরাজীর্ণ লোহার পাইপ দিয়ে নেওয়া হয়েছে এসব সংযোগ। সংখ্যার হিসাবে এই ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ লক্ষাধিক। এতে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই অবৈধ সংযোগের মরণফাঁদ থেকে যেকোনো সময় ঘটতে পারে সম্প্রতি তল্লা জামে মসজিদে সংঘটিত হতাহতের মতো হৃদয়বিদারক ঘটনা।

প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১০ সালের ১৩ জুলাই থেকে আবাসিক গ্যাস সংযোগ বন্ধ ঘোষণা করা হলেও গত ১০ বছরে পুরো নারায়ণগঞ্জে ১৭৯ কিলোমিটার অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেওয়া হয়েছে। এর গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ২ লাখ। ২০১৩ সালের ৭ মে আবাসিক গ্যাস সংযোগ চালু করার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। কয়েক বছর ধরে হাজার হাজার বাড়িঘরে জ্বলছে গ্যাসের চুলা। শুধু আবাসিক বাসাবাড়িতেই নয়, বাণিজ্যিক লাইনেও রয়েছে অবৈধ সংযোগ নেওয়ার উৎসব। একই চিত্র এ জেলার বিভিন্ন উপজেলায়ও। দ্রুত এ অবস্থার অবসান হওয়া দরকার। এতে সরকার যেমন লাভবান হবে, তেমনি একে কেন্দ্র করে যেকোনো দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাবে সাধারণ মানুষ।

দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের অপচয় এবং রাজস্ব ফাঁকির একটি অন্যতম কারণ অবৈধ সংযোগ। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, মার্কেট, বাসাবাড়ি, হাউজিং কমপ্লেক্স, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি স্টেশনসমূহে চোরাই গ্যাসের লাখ লাখ অবৈধ সংযোগ দিয়ে এবং অনেক জায়গায় অনুমোদনের অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ করে দুর্নীতিবাজ চক্র প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এদের মধ্যে শুধু রাজধানীতেই এ রকম অবৈধ ও অনৈতিক সংযোগের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যাবে। ফলে এসব চোরাই অবৈধ সংযোগ থেকে সরকার এক টাকাও রাজস্ব পাচ্ছে না। অথচ প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা ভাগবাটোয়ারা করে খাচ্ছে লুটেরা চক্র।

আমরা আশা করি, সরকার গ্যাসের অবৈধ সংযোগ বন্ধের পাশাপাশি দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

পিডিএসও/হেলাল