অবহেলা নয়, গুরুত্ব দিতে হবে করোনাকে

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:৪৪

সম্পাদকীয়

করোনা এখনো যায়নি। আছে এবং তা বহাল তবিয়তেই। দেশে নতুন রোগী কমলেও মৃত্যু কমছে না। এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে যাচ্ছে এই ভাইরাসের সংক্রমণ। সংক্রমিত অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে অনেকটাই ভিন্ন আচরণ করছে এই ভাইরাস। আর সে কারণেই গত ৬ মাসেও ভাইরাসের সংক্রমনের গতি-প্রকৃতি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না।

বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) জিনোমিক রিসার্চ ল্যাবরেটরির পক্ষ থেকে বলা হয়, এ দেশে ভাইরাসটি অনেক দ্রুতগতিতে রূপ বদলেছে। বিশ্বে রূপান্তরের হার গড়ে ৭ দশমিক ২৩ শতাংশ, কিন্তু বাংলাদেশের চিত্র বেশ কিছুটা ভিন্ন। এখানে এই হার ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ। ইউরোপীয় দেশগুলোতে সংক্রমণের প্রথম ঢেউ শেষে দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। কিছু দেশে দ্বিতীয় ঢেউয়ের শেষ পর্যায়ে। সেখানে বাংলাদেশ প্রথম ঢেউয়ের মাঝেই ঘুরপাক খাচ্ছে। কবে নাগাদ এর শেষ হবে, তা ঠিক করে বলতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা। তবে শীত এলে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ আসার সম্ভাবনার কথা বলছেন তারা। তারা এটাও জানিয়েছেন, এ মুহূর্তে বাংলাদেশ সংক্রমণের প্রথম ঢেউয়ের তৃতীয় ধাপে অবস্থান করছে।

একটি পরিবারের মধ্যে যখন ভাইরাস বিস্তার ঘটে, তখন তাকে প্রথম ধাপ হিসেবে গণ্য করা হয়। এলাকায় ভাইরাস বিস্তার লাভ করলে তাকে ধরা হয় সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাপ। আর যখন সামাজিক পর্যায়ে বিস্তার ঘটে তখন তাকে বলা হয় তৃতীয় ধাপ। আমাদের দেশে সামাজিক সংক্রমণ চলছে। আর সে কারণেই আমাদের অবস্থান এখন প্রথম ঢেউয়ের তৃতীয় ধাপে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, করোনা বিদায় হওয়ার এখনো অনেক বাকি এবং বিশ্বের অনেক দেশেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউ লক্ষ করা যাচ্ছে। দ্বিতীয় ঢেউ প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে ভয়াবহ। তবে প্রথম ধাক্কার অভিজ্ঞতাকে যারা কাজে লাগিয়ে মোকাবিলা করছেন, তাদের কাছে সামলে নেওয়াটা সহজতর হচ্ছে।

বাংলাদেশের অবস্থা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি তথ্যমতে সংক্রমণের হার কমছে। তবে সংক্রমণ প্রথম ঢেউয়ের মধ্যেই আছে। যখন এই সংক্রমণ কমে গিয়ে আবার বাড়বে, তখন বলা যাবে দ্বিতীয় ঢেউ এসেছে। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলার কারণে করোনার প্রথম ঢেউ দীর্ঘ হচ্ছে। দ্বিতীয় ঢেউ প্রতিরোধ করতে আমাদের আরো বেশি সচেতন হওয়া দরকার। মাস্ক পরা হতে হবে বাধ্যতামূলক। এ ক্ষেত্রে মনে রাখা জরুরি, মাস্ক এই রোগের ৮০ ভাগ প্রতিরোধে সক্ষম। দ্বিতীয়ত, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। নিয়মিত হাত ধোয়াসহ পরিচ্ছন্ন থাকাটাও একটি প্রতিরোধ।

দ্বিতীয় ঢেউ আসুক বা না আসুক সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। আমরা বিকল্প খুঁজতে চাই না। সচেতনতাই হোক করোনা প্রতিরোধে এ মুহূর্তে আমাদের একমাত্র অবলম্বন। একটি কথা মনে রাখা খুবই জরুরি, আমরা কোনো ধনী দেশের নাগরিক নই। রাষ্ট্রের সমস্যা অনেক। আমাদের মতো দেশে একসঙ্গে সব সমস্যা মোকাবিলা করা সহজসাধ্য নয়। তাই কিছু কিছু দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেওয়া দরকার। বিশেষত করোনা প্রতিরোধের মতো কর্মকাণ্ডে । এ কাজে বাড়তি কোনো খরচ নেই। থাকলেও তা বহন করার ক্ষমতা সবারই আছে।

তাই আমরা মনে করি, দ্বিতীয় ঢেউ আসুক আর নাই আসুক, আমরা সচেতন হই, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে নিজেকে এবং পরিবারকে রক্ষার কাজে এগিয়ে যাই। সচেতনতাই সবাইকে রক্ষা করবে। আর এ ক্ষেত্রে আল্লাহ নিশ্চয়ই আমাদের সহায় হবেন।

পিডিএসও/হেলাল