অর্থনীতির মন্দাভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে

প্রকাশ | ১০ আগস্ট ২০২০, ০৮:৩০

সম্পাদকীয়

বলাটা সহজ। করে দেখানো খুবই কঠিন। বিশেষ করে করোনার আক্রমণে যখন বিধ্বস্ত এ বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্দাবস্থার কথা মনে পড়ে, তখন শঙ্কিত না হয়ে থাকার কোনো উপায় থাকে না। এ অবস্থা আজ আর কারো একার নয়, পুরো বিশ্ববাসীর। এ ক্ষেত্রে সবাই একই নৌকার সহযাত্রী। বিপদটা ঘণীভূত হয়ে মানুষের জীবনযাপনে সৃষ্টি হয়েছে নানাবিধ জটিলতা। যার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যে একচ্ছত্র মন্দাভাব সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে। বেকারের সংখ্যা জ্যামিতিকহারে বেড়েই চলেছে। আবার অনেকের কাজ আছে কিন্তু নিয়মিত বেতন নেই। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের সংসারের খরচ মেটাতে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে টাকা ব্যাংকে না রেখে নিজের কাছে রাখাকেই ইতিবাচক মনে করছেন অনেকেই। ফলে গত ছয় মাসে ব্যাংকবহির্ভূত জনগণের হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, করোনায় ব্যবসা-বাণিজ্যের মন্দা, আর্থিক সংকট, আমানতের সুদহার কম হওয়ায় মানুষের সঞ্চয় কমে গেছে। আবার যাদের অর্থ আছে, তারাও নিজের হাতে অর্থ রাখতেই পছন্দ করছেন। এটা অর্থনীতির জন্য ভালো নয়। ব্যাংকে টাকা না রাখলে আমানত কমে যায়। এতে ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার সক্ষমতাও কমে যায়। ফলে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়। কর্মসংস্থান কমে যায়। দুর্ভোগ বাড়ে সাধারণ মানুষের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুন পর্যন্ত ব্যাংকবহির্ভূত অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৮৪ কোটি টাকা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ব্যাংকবহির্ভূত টাকার পরিমাণ বেড়েছে ৩৮ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা। অপর এক তথ্য মতে, মানুষের এখন আর আগের মতো আয়-রোজগার নেই। জমানো টাকা ভেঙে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকবে পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত। তবে শিগগির স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। এ কারণে আপদকালীন সময়ে মানুষ নগদ টাকা হাতে রাখার কথাই ভাবছেন। ব্যাংকে অর্থ জমানোর প্রবণতা থেকে সরে আসা শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জুন শেষে আগের বছরের একই মাসের তুলনায় আমানত প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। কিন্তু গত ডিসেম্বরেও এই প্রবৃদ্ধি ছিল সাড়ে ১২ শতাংশের ওপরে।

আমরা মনে করি, এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসাটা আজ দেশ ও জাতির জন্য খুবই জরুরি। তাই প্রয়োজন দেশপ্রেমিক মানুষের। বিশেষ করে বিত্তবান মানুষের। এ মুহূর্তে তারাই পারেন এ বিপদ থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে। তারা তাদের নতুন করে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে হবে। অলসভাবে তাদের অর্থকে ফেলে রাখা যাবে না। তাদের এই বিনিয়োগই পারে অর্থনীতির চাকাকে আবার গতিশীল করতে। আমরা বিশ্বাস করতে চাই বিত্তবানরা আমাদের এই চিন্তার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে সামনের কাতারে এগিয়ে আসবেন—আর এটাই জাতির প্রত্যাশা।

পিডিএসও/হেলাল