রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে গাড়িতে তুলে দ্রুত উধাও পুলিশ

প্রকাশ | ০১ অক্টোবর ২০২০, ১৭:৪৪

অনলাইন ডেস্ক

আশঙ্কাই সত্যি হল। হাথরসের পথে গ্রেফতার করা হল রাহুল গাঁধীকে। তার আগে দেওয়া হল গলাধাক্কা। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ধাক্কায় মাটিতে পড়ে যান সোনিয়াপুত্র। শেষ খবর, হাথরসের নির্যাতিতার বাড়ি যেতে না দিয়ে রাহুলকে মাঝপথ থেকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তার আগে পথের মধ্যেই পুলিশের সঙ্গে রাহুলের তর্কাতর্কি শুরু হয়। কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার রাহুলকে বলে, ‘‘আপনি ১৪৪ ধারা ভাঙছেন।’’ পাল্টা রাহুল বলেন, ‘‘১৪৪ ধারার অপব্যবহার করছেন আপনারা।’’

একপ্রস্ত ধস্তাধস্তির পর রাহুল এবং প্রিয়ঙ্কা গাঁধীকে একটি সাদা রঙের মাহিন্দ্রা বোলেরো গাড়িতে তুলে যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে ধরে দ্রুতগতিতে উধাও হয়ে যায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। গাড়িটি পুলিশেরই। তার গায়ে লেখা, ‘বিটা ২’। দেখা যায়, সেই গাড়ির চালকের পাশের আসনে মুখে মাস্ক পরে বসে আছেন রাহুল। গাড়ির পাদানির উপরে ঝুলছেন দুই সাফারি পরিহিত নিরাপত্তারক্ষী। পিছনের আসনে ছিলেন প্রিয়ঙ্কা এবং রণদীপ সুরজেওয়ালা। গাড়ির পিছনের দরজা খোলা। সেখান থেকে ঝুলছেন উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এক কনস্টেবল। সেই গাড়ির পাশাপাশি ছুটতে দেখা যায় আরও কিছু এসইউভি-কে। অনুমান, সেগুলি কংগ্রেস নেতাদেরই গাড়ি। অন্য দিকে, কিছু কংগ্রেস কর্মী রাস্তা অবরোধ করে বসে পড়েন। তাদের বক্তব্য, যত ক্ষণ না রাহুলকে ছাড়া হচ্ছে, তারা অবরোধ তুলছেন না। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাহুল-প্রিয়ঙ্কাকে যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের পাশে একটি গেস্টহাউসে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।  

এ দিন প্রিয়ঙ্কা গান্ধীসহ কংগ্রেস নেতা-নেত্রীদের প্রতিনিধি দলের একটি কনভয় হাথরসের পথে রওনা হয়। মাঝপথে তাদের প্রথমে আটকে দেওয়া হয়। কিন্তু নাছোড় রাহুল-প্রিয়ঙ্কাও। তারা স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে হেঁটেই রওনা দেন হাথরসের দিকে। রাহুল-প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে ছিলেন বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরীও। দিল্লি-উত্তরপ্রদেশ হাইওয়ের উপরেই তাদের কনভয় আটকে দেওয়া হয়। 

আগে থেকেই রাহুল-প্রিয়ঙ্কা ঘোষণা করেছিলেন হাথরসে যাওয়ার কথা। কিন্তু বৃহস্পতিবার ১৪৪ ধারা জারি করে যোগী সরকার। তাতেও কর্মসূচি বাতিল করেননি কংগ্রেস নেতা-নেত্রীরা। রাহুল-প্রিয়ঙ্কার কনভয় গ্রেটার নয়ডায় আসতেই আটকে দেওয়া হয়। সেখানে গাড়ি থেকে নেমে উত্তরপ্রদেশ-দিল্লি হাইওয়ে ধরে হাঁটতে শুরু করেছেন তারা। রাহুল প্রিয়ঙ্কাকে যেখানে আটকানো হয়েছে, সেখান থেকে হাথরসের দূরত্ব প্রায় ১৪০ কিলোমিটার। সেখান থেকে কিছু দূরে এগনোর পরেই রাহুল-প্রিয়ঙ্কাদের আটকায় পুলিশ। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। রাহুলকে গলাধাক্কা দিতেও দেখা যায় পুলিশকে। পরে গ্রেফতার করা হয় কংগ্রেস সাংসদকে। 

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা