অশনি সংকেত দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

করোনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে মাস্ক ছাড়া চলাফেরা

প্রকাশ | ২৭ জুলাই ২০২০, ০৭:৫০ | আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২০, ১১:৪৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনা মহামারিতে ঘরের বাইরে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলেও মানছেন না অধিকাংশ মানুষ। এমন অসচেতনতাকে অশনি সংকেত বলছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। আর আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটির প্রধান অধ্যাপক ডা. সালাউদ্দিন। একজন রিকশাওয়ালা বলেন, মাস্ক পকেটে আছে। সবাই পরা বাদ দিছে অনেক আগে। তাই আমিও পরি না।

আরেকজন বলেন, মাস্ক পরলেই কি করোনাভাইরাস রোধ করা সম্ভব! এমন বিচিত্র সব অজুহাতে মাস্ক ছাড়াই চলছে আড্ডা, খোশগল্প, কেনাবেচা আর পথচলা। করোনা মহামারিতে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার পরও নগরবাসীর এমন অসচেতনতা চোখে পড়ার মতো। শুধু পথঘাট, দোকানপাট কিংবা বাজার নয়, হাসপাতালে অনেক রোগীর স্বজনদের দেখা গেছে মাস্ক ছাড়া। মানা হচ্ছে না নিরাপদ শারীরিক দূরত্বও। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। নির্দেশনা মানা নিশ্চিতে কঠোর হওয়ার তাগিদ তাদের।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রেদওয়ানুর রহমান বলেন, মাস্ক না পরার দায়ে খুব অল্প কিছু মানুষকেও কঠিন শাস্তি দিত তাহলে সবাই মাস্ক পরতে শুরু করত। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটির প্রধান অধ্যাপক ডা. সালাউদ্দিন। রাজধানীর মতিঝিল, মগবাজার, কারওয়ানবাজার, ধানমন্ডি, রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে অর্থাৎ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে যথেষ্ট অনীহা লক্ষ্য করা গেছে। অথচ ঘর থেকে বাইরে বের হলে মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করে পরিপত্র জারি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ মানুষের এমন উদাসীনতা ও অসচেতনতা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আরো বাড়িয়ে দেবে। সংশ্লিষ্টদের এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। মানুষের অভ্যাসগত ও আইনের কঠোর পদক্ষেপ না থাকায় মানুষ মাস্ক পরছে না বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. নেহাল করিম। তিনি বলেন, ধনী, গরিব, শিক্ষিত ও অশিক্ষিত শ্রেণির অনেক মানুষ মনে করেন করোনাভাইরাসে তাদের কিছুই হবে না। এ কারণে তারা মাস্ক পরেন না ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখেন না। এ ছাড়া বেশিরভাগ মানুষের মাস্ক পরার অভ্যাস নেই এবং করোনাভাইরাস সংক্রমণের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারছেন না।

তিনি বলেন, সংক্রমণ কমিয়ে আনতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। এজন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ দরকার। মাস্ক ব্যবহারে অনীহার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) ওয়ালিদ হোসেন বলেন, পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে গত বুধবার সমন্বয় সভা হয়েছে। সভায় জনসাধারণকে মাস্ক ব্যবহারে বাধ্য করতে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঈদ সামনে রেখে মাস্ক ছাড়া কেউ যাতে গণপরিবহনে উঠতে না পারে বা পশুর হাটে প্রবেশ করতে না পারে, সে পদক্ষেপ নিতে পুলিশ কমিশনার নির্দেশ দিয়েছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সবার বাধ্যতামূলক মাস্ক পরার সার্কুলার জারি হওয়ায় পুলিশকে আরো কঠোর হওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মতিঝিল ঘুরে আরো দেখা গেছে, শাপলা চত্বরের আশপাশে ফুটপাতে থাকা দোকানগুলোর বেশিরভাগ বিক্রেতার মাস্ক নেই। অনেকের মাস্ক থাকলেও তা থুতনিতে নামিয়ে রেখেছেন। কাপড় বিক্রেতা সালাম বলেন, মাস্ক পরলে গরম লাগে, ক্রেতারাও কথা শুনতে পান না। তাই মাস্ক নামিয়ে রাখি। পুলিশ এলে আবার মুখে দিই। একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে মতিঝিল থানার ১০০ গজের ভেতরের এলাকায়ও। থানার পার্শ্বেই চায়ের দোকানে একসঙ্গে আড্ডা দিচ্ছেন বেশ কয়েকজন। তাদের কারো মুখেই মাস্ক ছিল না। চা-পান খেতে খেতে খোশগল্পও করছিলেন তারা। এভাবে আড্ডা দেওয়ায় করোনা সংক্রমণ বাড়াতে পারে কিনা প্রশ্ন করা হলে তারা এক বাক্যে বলেন, ‘আমাদের কিছু হবে না। এভাবেই সবাই চলছে, আমরাও চলি।’ বাংলামোটর এলাকায় আহসানুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানার জন্য টাকা তুলছিলেন আবদুল করিম। বয়স্ক এই ব্যক্তি মুখে মাস্ক না পরেই সিগনালে থেমে থাকা গাড়িতে উঠে টাকা তুলছিলেন। মাস্ক না পরা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাবা আল্লাহর কাছে দোয়া করি, করোনা যেন আমাকে না ধরে। এখন পর্যন্ত আমার কোনো রোগবালাই হয়নি।

পিডিএসও/হেলাল