শাকিল বাবু, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

  ১৩ আগস্ট, ২০২২

জালিয়াতির অভিযোগে আটক নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছু

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে সনদ ও পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে আটক হয়েছে মাহবুব হাসান নামের এক শিক্ষার্থী। আটক হওয়া শিক্ষার্থী নিজেকে কেন্দ্রীয় ওলামা লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রহীম পীর এর সন্তান দাবী করেন। যার সত্যতা নিশ্চিত করেছে ওলামা লীগ নেতা নিজেই।

আটক হওয়া শিক্ষার্থীর বাড়ি শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতি উপজেলার ছোট মালিঝিকান্দা গ্রামে।

শনিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ৬০১ নম্বর কক্ষ থেকে সন্দেহজনক অবস্থায় আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমান আদালতে নিয়ে গেলে অভিযোগ এবং অপরাধের ব্যপ্তী বেশী ও তদন্তের প্রয়োজনে তা সাধারণ মামলা হিসেবে পরিচালনা করতে পরামর্শ দেন ভ্রাম্যমান আদালত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেই অভিযোগ দায়ের করে ত্রিশাল মডেল থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আটক হওয়া শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৬ টি জাতীয় পরিচয় পত্র সহ ভুয়া সনদ, সিভি, রেজিস্ট্রেশন কার্ড উদ্ধার করেছে প্রশাসন। সনদ জালিয়াতির অভিযোগ স্বীকার করেছে আটক হওয়া শিক্ষার্থী মাহবুব আলম। জিজ্ঞাসাবাদের সময় ভিন্ন ভিন্ন তথ্য ও পরিচয় দেয় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদে স্নাতক পাসের সন হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ২০১৯ সাল। অন্যদিকে এইচ.এস.সি পাশের সনদের জায়গায় একটিতে ২০১৯ এবং অন্য একটিতে ২০২০ উল্লেখ রয়েছে। তবে অভিযুক্তের পিতার দেয়া তথ্য মতে তার ছেলে মাহবুব হাসান দুই থেকে ৩ বছর আগে এইচ এস সি পাশ করেছে। পিতার দেয়া তথ্য সঠিক হলে মাহবুব হোসেনের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহনের সুযোগ থাকে না।

সন্তানের নামে এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওলামা লীগ নেতা আব্দুর রহীম পীর বলেন, "আমার ছেলেকে সেইভ করেন। ওর সব ঠিক আছে। আমার ছেলেকে হেফাজত করেন আল্লাহ আপনাদের ভালো করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান জানায়, "জালিয়াতির কিংবা অনৈতিকতার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমাণিত হওয়ায় অধিকতর তদন্তের জন্যে সাধারন মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তার অপরাধের আওতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকায় সাধারণ ডায়েরি করা হচ্ছে। জব্দকৃত ভুয়া দলিলাদিসহ জিনিসপত্র থানা কতৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাইন উদ্দিন বলেন, "আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। পাশাপাশি মামলা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।"

অসাদুপায়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, "ভর্তি পরীক্ষা সুন্দর গোছালো ভাবে হয়েছে। আমরা হ্যাপী। আর একজন আটক হয়েছে । আইন অনুযায়ি ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমার প্রশাসন স্বচ্ছ, কোন অসংলগ্নতা পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, শনিবার দুপুর ১২টা থেকে মানবিক শাখার গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে আসন সংখ্যা ৭ হাজার ৭৮৩ জনের। পরীক্ষায় অংশ নেয়নি ৭০১ জন। পরীক্ষায় উপস্থিতির হাড় ৯১ শতাংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ অনুষদের ১২৫টি কক্ষে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়,জালিয়াতি,আটক,শিক্ষার্থী
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close