আবু হুরাইরা, ইবি প্রতিনিধি

  ২৫ মে, ২০২২

ভাতের টাকা বাঁচিয়ে মাদক ক্রয়, জড়িয়ে যাচ্ছে নবীন শিক্ষার্থীরাও!

নিরব ভূমিকায় প্রশাসন

ছবি: সংগৃহীত

বাবা প্রতিমাসে তিন হাজার টাকা পাঠান। সেই টাকা দিয়ে আমাকে চলতে হয়। যখন থেকে আমি মাদকের সাথে জড়িয়ে যাই, তারপরে আমি আর এই নেশা ছাড়তে পারি না। আমার তিন বেলা ভাত না খেলেও হয়, তবে ওটা না হলে চলে না। এভাবেই প্রতিবেদককে বলছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী।

এভাবেই একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে নিজেদের ভবিষ্যতকে অন্ধকারের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। তারা বিভিন্ন উপায়ে মাদক সংগ্রহ করছে বলে জানা গেছে। সন্ধ্যা হলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্রিকেট মাঠে, ফটবল মাঠে, লেক এলাকা ও স্মৃতিসৌধ এলাকয় দেখা যায় মাদকের আসর। মাদকের দৌরাত্মের কারণ হিসেবে প্রশাসনের নিরব ভূমিকাকেই প্রশ্ন তুলছে অনেকে।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান কোরাইশি নেশা জাতিয় দ্রব্য সেবন করার ফলে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। সেই অবস্থায় থেকে তার বন্ধুরা তাকে উদ্ধার করে মেডিকেলে নিয়ে যাই।

সুত্র জানিয়েছে, গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আশিক ও হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সাইমুন, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ওমর ফারুক হৃদয়, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ইমরান ও চঞ্চল এবং ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের অঙ্গন একসঙ্গে ছিলেন। সকলেই ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তারা কেন্দ্রীয় ক্রিকেট মাঠে ডেস্কপটেন পাস সিরাপ ও ডিসোপ্যান ট্যাবলেট একত্রে মিশিয়ে সেবন করেন। এসময় অতিমাত্রায় সেবন করার ফলে আশিক অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে তার সাথে থাকা বন্ধুরা আশিককে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক ওয়াহিদুর রহমান মিল্টন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ওই ছেলেটি সোমবার রাতে অতিমাত্রায় মাদক সেবনের ফলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আমরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে গত জানুয়ারিতে মাত্রাতিরিক্ত মাদক সেবনের ফলে মানসিক ভারসাম্য হারান বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষেও দস্তগির নামের আরেক শিক্ষার্থী। পরে তাকে পূর্নবাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। ঈদুল ফিতরের ছুটির পর তিনি ক্যাম্পাসে ফিরে ফের মাদক নিচ্ছেন বলে তার বন্ধুরা জানায়।

সূত্র জানায়, গন রুমে ২০২০-২১ শির্ক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন হলে উঠানো হচ্ছে। তাদের নিয়ে কথিত বড় ভাইয়েরা মাদক সেবন করছে। ফলে নবীন শিক্ষার্থীরা কিছু বুঝে উঠার আগেই মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ছে।

এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জিয়াউর বহমান হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘গাঁজা অনেক সহজলভ্য। এখন আমরা বাবা, ডাল, ঘুমের বড়ি, বিভিন্ন সিরাপ এবং দেশের বাহিরের নামি দামি ব্রান্ড খাই।’

মাদক থেকে ফিরে আসা বঙ্গবন্ধু হলের আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘খুব ইনটেনশোনালি মাদক সরবরাহ করা হয়। আল্লাহ আমাকে হেফাজত করেছে। আমি সেখান থেকে ফিরে এসেছি। যারা এটা করে তারা নতুন প্রজন্মকে মেধশূন্য করতে চায়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শেলিনা নাসরিন বলেন, এটা সামাজিকভাবে অবক্ষয় হয়েছে। এটাতো একদিনে হয় নি। আমাদেরও গাফিলতি আছে। আমরা চেষ্টা করছি কিভাবে কমানো যায়। প্রয়োজনে সচেতনতা প্রগ্রাম বৃদ্ধি করবো। প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। যেকোন ভাবেই আমরা এটা থামাবো। তোমাদেরে সকলের সহযোগীতা প্রয়োজন। আমি আরও বিশ্বাস করি এরা অনেক কম। প্রয়োজনে তাদের ধরে ফেলা যায়। যেকোন ভাবেই আমরা এর ব্যবস্থা নিব।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমি প্রশাসনের সাথে কথা বলে এর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমি ঢাকায় আছি। ক্যাম্পাসে আসার পরে প্রক্টর ও প্রশাসনের আরও যারা আছেন, তাদের সাথে কথা বলে এর ব্যবস্থা নেব।’

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
মাদক,শিক্ষার্থী,বিশ্ববিদ্যালয়
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close