সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

  ২৭ অক্টোবর, ২০২১

কর্তৃপক্ষের অনুরোধে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আন্দোলন স্থগিত

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এই সিদ্ধান্ত জানাতে আগামী ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সময় নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সে সময় পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত রাখবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) বিকাল ৪টা থেকে শুরু হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের হওয়া এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সভার মধ্যস্থতাকারী শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ মো. শামসুজ্জোহা ও আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থী আবু জাফর হোসাইন।

ইউএনও শাহ মো. শামসুজ্জোহা বলেন, মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রেজারার আব্দুল লতিফ এবং রেজিস্ট্রার মো. সোহরাব আলীর একটি বৈঠক হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে সুন্দর পরিবেশ ফিরে আনার স্বার্থে বৈঠকটি আমি নিজেই মধ্যস্থতা করেছি এবং সেখানে উপস্থিতও ছিলাম। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার সমাধানে আগামী ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত সময় নিয়েছে। শিক্ষার্থীরাও সেটা মেনে নিয়ে আন্দোলন স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, বুধবার (২৭ অক্টোবর) যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনার তদন্তে আসবে এবং এটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখনও কিছু নিয়ম ও আইন প্রণয়ন হয়নি, তাই সেগুলোও করতে হবে এই সময়ের মধ্যে।

সভায় থাকা একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, যদি অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে যে আইন প্রয়োগ করা হতে পারে সেটি এখনও এখানে নেই। তাই সেই আইনটি প্রণয়ন করতে হবে। ফলে চাইলেও এখন কোনও সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব নয়। তদন্তে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণ হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু জাফর হোসাইন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগামী ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত সময় নিয়েছে এবং আমরা সেই পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মাঝে সব পরীক্ষাতেও আমরা অংশগ্রহণ করবো।

সভার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদেরকে বলা হয়েছে, তদন্তে এ ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্থায়ীভাবে কোনও সিদ্ধাšন্ত নেওয়ার জন্য যে আইন দরকার সেটি এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রণয়ন হয়নি তাই সেটি করতে সময় দরকার।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ট্রেজারার আব্দুল লতিফের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
সিরাজগঞ্জ,রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়,ছাত্র আন্দোলন,স্থগিত
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close