সম্পাদকীয়

  ২৬ জুন, ২০২২

স্বপ্নই উন্নয়নের প্রথম পূর্বশর্ত

পদ্মা সেতুর স্বপ্নদ্রষ্টা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

খ্যাতিমান মহাকাশ বিজ্ঞানী এ পি জে আবদুল কালামের মতে, ‘যা ঘুমিয়ে দেখা হয়, তা স্বপ্ন নয়। সেটাই স্বপ্ন যা তোমাকে ঘুমাতে দেয় না।’ আসলে কি তাই! এ নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে তবে বিজ্ঞানীর চিন্তায় কোনো খাদ নেই। নীরেট সত্যকথন। আসলে মানুষ দুভাবে স্বপ্ন দেখে থাকে। এক. ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে। দুই. জেগে জেগে। আর এই জেগে জেগে স্বপ্ন দেখার ভেতরেই ঘুমিয়ে থাকে প্রতিটি আবিষ্কার। নতুন নতুন সৃষ্টি। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখার মাঝে সৃষ্টির কোনো উপাদান থাকে না। অনেকটা জড়ের মতো। সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা যেখানে থাকে, সেখানে ঘুমের অস্তিত্ত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না বলেই ‘স্বপ্ন সেটাই যা তোমাকে ঘুমোতে দেবে না’।

পদ্মা সেতুর স্বপ্ন সম্ভবত শেখ হাসিনাকে ঘুমাতে দেয়নি। ‘প্রমত্তা পদ্মায় সড়ক ও রেলসেতু নির্মিত হলে দক্ষিণাঞ্চলের কীর্তনখোলা নদীতীরের বিভাগীয় শহর বরিশালে বসবাস করেই প্রতিদিন রাজধানী ঢাকা শহরে অফিস করার স্বপ্নপূরণ হবে’। এ স্বপ্ন ছিল সাধারণ মানুষের। সুদীর্ঘ সময়ের লালিত স্বপ্ন। সাধারণ মানুষ যে স্বপ্ন দেখেছে তা ছিল ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখার মতো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেভাবে দেখেননি। তিনি সেই স্বপ্ন দেখেছেন যা তাকে ঘুমাতে দেয়নি। আর প্রধানমন্ত্রীকে ঘুমাতে দেয়নি বলেই জাতি আজ স্বপ্নের পদ্মা সেতুকে বাস্তবে দেখার সুযোগ পেল।

বিজ্ঞদের মুখে বলতে শোনা গেছে, ‘কেউ কেউ কবি, সকলেই নয়’। একইভাবে বলা যায়, ‘কেউ কেউ নেতা, সকলেই নয়’। জীবনের সবস্তরে বিষয়টি সর্বজনীন। কবিরা মানুষকে স্বপ্ন দেখায়। একইভাবে নেতারাও স্বপ্নদ্রষ্টা। স্বপ্নদ্রষ্টা তিনিই হতে পারেন যাকে সেই স্বপ্ন ঘুমাতে দেয় না। আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে সে রকম একজন স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে আখ্যা দেওয়া যায়। পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন আজ সে কথাই বলছে। শুরুতে এ সেতু নিয়ে অনেক নেতিবাচক ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার সততা এবং সাহসিকতা দিয়েই তা মোকাবিলা করেছেন। একে একে জঞ্জালমুক্ত করে এগিয়েছেন সামনের দিকে। ২০১২ সালের ২৯ জুন বিশ্বব্যাংক শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বকে জানিয়েছিল, ‘তাদের কাছে নিশ্চিত প্রমাণ রয়েছে যে পদ্মা বহুমুখী সেতুতে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র ঘটেছে। বাংলাদেশ সরকারের পদস্থ কর্মকর্তাসহ সরকারের বাইরে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি এবং এসএনসি লাভালিন এর সঙ্গে জড়িত।’ বিশ্বব্যাংক এখানেই থেমে থাকেনি। তাদের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্পে বাংলাদেশকে ঋণ পেতে হলে অনেক ধরনের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে, সে বিষয়েও শেখ হাসিনাকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী এর সমুচিত জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ঋণের প্রয়োজন হবে না। নিজস্ব অর্থায়নেই তৈরি হবে পদ্মা সেতু।’ তিনি কথা রেখেছেন। গতকাল শনিবার পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হয়ে গেল। লাখ লাখ মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে দেখল এক স্বপ্নদ্রষ্টা মহীয়সী নারীকে। দেখল স্বপ্নের পদ্মা সেতুকে। অনুভব করল নিজের অস্তিত্বকে। গর্ব এবং অহংকারে চোখের কার্ণিশে নেমে এলো বরষা শ্রাবণ। বরষায় কোনো বেদনার চিহ্ন ছিল না। যেখানে যেটুকু ছিল সবটাই যেন এক বিজয়ের কলতান।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
সম্পাদকীয়,পদ্মা সেতু,শেখ হাসিনা
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close