মিজান রহমান

  ০১ অক্টোবর, ২০২১

এশিয়ার পর্যটন গন্তব্য হবে বাংলাদেশ

বৈশ্বিক মহামারি নভেল করোনাভাইরাসের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশের পর্যটন শিল্প। এই খাতে শুরু হয়েছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। নেওয়া হচ্ছে মহাপরিকল্পনা। বাস্তবায়ন হলে দেশের বাড়বে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান। জিডিপিতেও অবদান বাড়বে। বাংলাদেশ হবে এশিয়ার অন্যতম পর্যটন গন্তব্য। এখন দেশের জিডিপিতে পর্যটনের অবদান ২ শতাংশ, যা ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশে পর্যটনে অপার সম্ভাবনা থাকলেও আগে এ খাত নিয়ে ছিল না সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান বা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। যে কারণে পর্যটন থেকে গুণগত পরিবর্তন আসেনি। তবে ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইপিই গ্লোবাল লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল গেল জুন মাসে। কিন্তু মহামারির কারণে বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা বাংলাদেশ ত্যাগ করায় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এখন আবার পুরোদমে শুরু হচ্ছে কাজ।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২০ নভেম্বর বাংলাদেশের পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের ক্রয়সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদন হয়। একই বছর ২৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীও অনুমোদন দেন। ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইপিই গ্লোবাল লিমিটেডের সঙ্গে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের চুক্তি হয়। ভ্যাট ও এআইটিসহ চুক্তি মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকায়। লক্ষ্য ছিল মাস্টারপ্ল্যানটি তিনটি পর্যায়ে ১৮ মাসে শেষ হবে। ২০২০ সালের ১৯ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হয়। তবে শুরুতেই থমকে যায় করোনার দাপটে। ২০২০ সালের মার্চ থেকেই এতে যুক্ত বিদেশি বিশেষজ্ঞ এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ঢাকা ছেড়ে নিজ নিজ দেশে চলে যান। একপর্যায়ে কাজ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। পরে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মপরিকল্পনা দেয়। যা কিছু সংশোধনীসহ ২০২০ সালের ১১ নভেম্বরে অনুমোদন পায়। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড আশা করছে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হবে।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সূত্র মতে, তিনটি পর্যায়ে পর্যটন মহাপরিকল্পনার কাজ হবে। ১ম পর্যায়ে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেশের পর্যটন শিল্পের বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা, সংকট, দুর্বলতাসহ বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করা হবে। এ ছাড়া, বেসরকারি স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করে মতামত নেওয়া হবে প্রথম ধাপেই।

২য় পর্যায়ে দেশের পর্যটনের লক্ষ্য, পদক্ষেপ, কৌশলগত লক্ষ্য, অগ্রাধিকার ও যোগাযোগের ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হবে। পর্যটন উন্নয়ন, প্রমোশন এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৩, ৫ এবং ১৫ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনাও থাকবে ২য় পর্যায়ে।

৩য় পর্যায়ে দেশের নির্দিষ্ট অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা করা হবে। পর্যটন পণ্যের উন্নয়ন, অর্থায়ন ও বিনিয়োগের কৌশল নিয়ে কর্মপরিকল্পনা থাকবে এ পর্যায়ে। বিপণন ও প্রচারের কৌশলও উঠে আসবে এ ধাপে।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, পর্যটন নিয়ে বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করা হয়েছে। পুরো দেশের পর্যটন চিত্র বদলাতে হলে পরিকল্পনার প্রয়োজন আছে যা এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে সম্ভব। জাবেদ আহমেদ আরো বলেন, মহামারির কারণে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছি। তবে পুরোদমে কাজ চলছে। সবার অংশগ্রহণে কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে যাবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ রিকভারি প্ল্যান নেওয়া হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে। ফলে সংকট কাটিয়ে আবারও পর্যটন খাত ঘুরে দাঁড়াবে। আবারও কর্মচঞ্চল হয়ে উঠবে পর্যটন খাতসংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পর্যটন খাতকে আকর্ষণ ও বিকাশের যে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে সেটিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দেশের পর্যটন শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। মহাপরিকল্পনা না ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
পর্যটন,বাংলাদেশ,কর্মসংস্থান,সম্ভাবনা
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close