reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ০৩ এপ্রিল, ২০২১

অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূর জন্য ‘তাবিজ’ নিয়ে ফেরার পথে গণধর্ষণের শিকার শাশুড়ি

অসুস্থ অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূর জন্য কবরিাজের বাড়ি থেকে ‘তাবিজ’ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে এক গৃহবধূ সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় রাত ৮টার দিকে মধ্যনগর থানাধীন বংশিকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নে গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে বংশিকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ডুলপুষি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রতন চন্দ্র সরকারসহ পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- একই ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে আজাদ মিয়া (৪৮), পাশের রংচাতি গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে আর্শাদ মিয়া (৩৫), বংশিকুন্ডা গ্রামের সায়েব আলীর ছেলে ইউনুস মিয়া (৩৫) ও একই গ্রামের লালু মিয়ার ছেলে রফিকুল ইসলাম(৩৫)। তবে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই এখনো পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে বিষয়টি গোপন রেখে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদসহ এলাকার প্রভাবশালী একটি মহল মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে খবর পেয়ে ঘটনার পাঁচদিন পর গত বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ নিজ বাড়ি থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ওই রাতেই ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ভুক্তভোগী গত রোববার সন্ধ্যায় তার অন্তঃসত্ত্বা অসুস্থ পুত্রবধূর জন্য পাশের বাট্রা গ্রামের দ্বিনবন্ধু নামে এক কবিরাজের কাছ থেকে তাবিজ আনতে যান। পরে সেখান থেকে রাত ৮টার দিকে তাবিজ নিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে শিক্ষক রতন চন্দ্র সরকারসহ পাঁচজন মাদক সেবন করছিলেন। এসময় তারা ওই গৃহবধূকে একা দেখতে পেয়ে তাকে ডেকে ওই ঘরে নিয়ে যায় এবং সেখানে ওই গৃহবধূকে জোরপৃর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

পরে ভুক্তভোগী গৃহবধূ সেখান থেকে গিয়ে বিষয়টি তার স্বামীসহ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে জানান।

মামলার প্রধান আসামি শিক্ষক রতন চন্দ্র সরকারের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও মোবাইলটি বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে উপজেলার বংশিকুন্ডা দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'আমার কাছে গত দুইদিন আগে ওই ভিকটিম অভিযোগ নিয়ে আসলে আমি তাকে থানায় গিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে বিদায় করি।'

মধ্যনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নির্মল চন্দ্র দেব থানায় মামলা হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় শিক্ষক রতন চন্দ্র সরকারসহ পাঁচজনকে আসামি করে ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পাশাপাশি গতকাল শুক্রবার দুপুরে ভুক্তভোগী ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সুনামগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং আসামিদেরকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
ধর্মপাশা,অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূর জন্য,তাবিজ,গণধর্ষণ,শাশুড়ি
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close