প্রদীপ ও তার স্ত্রীর সম্পদ অনুসন্ধানে দুদক

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২০, ১৯:০২

অনলাইন ডেস্ক

মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার আসামি টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাস ও তার স্ত্রীর অবৈধ সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

রোববার বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত কার্যালয় ২-এর উপ-পরিচালক মো. মাহবুবুল আলম।

দুদক জানিয়েছে, এ অভিযোগটির অনুসন্ধান সম্প্রতি শুরু হয়। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব চেয়ে ওসি প্রদীপ কুমার দাস ও তার স্ত্রীর কাছে নোটিশ পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এই দম্পতি আলাদাভাবে তাদের সম্পদের হিসাব কমিশনে জমা দিয়েছেন।

দুদক সূত্র জানায়, দুদকের অনুসন্ধানে ওসি প্রদীপ কুমার ও তার স্ত্রীর নামে-বেনামে জ্ঞাত-আয় বহির্ভূত সম্পদ থাকার প্রমাণ মিলেছে। এর মধ্যে স্ত্রীর নামে চট্টগ্রাম মহানগরে ছয়তলা বাড়ি, প্লট, ফ্ল্যাট, একাধিক গাড়ি ও অন্যান্য সম্পদের প্রমাণ পাওয়া যায়।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে আসে, টেকনাফ থানার সদ্য বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ অবৈধ অর্থে চট্টগ্রামে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। স্ত্রী চুমকির নামে করেছেন মৎস্য খামার, বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি, বিপুল পরিমাণ কৃষি-অকৃষি জমি। স্ত্রীর নামে তিনি ব্যাংকে রেখেছেন বিপুল পরিমাণ টাকা। বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

এক বছর আগে প্রদীপ দাসের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেছিল দুদক। কিন্তু মাঝপথে সেই অনুসন্ধান কার্যক্রম স্তিমিত হয়ে পড়ে। মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় গ্রেফতারের পর প্রদীপের ব্যাপারে এখন নড়েচড়ে বসেছে দুদক। ইতোমধ্যে তার সম্পদের খোঁজখবর নেয়া শুরু করেছেন দুদক কর্মকর্তারা। তার দুর্নীতি অনুসন্ধানের ফাইলও সচল হয়েছে।

চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর উপ-পরিচালক মো. মাহবুবুল আলম বলেন, প্রদীপ কুমার দাস ও তার স্ত্রী চুমকির জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তদন্ত চলছে। তারা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত কোনো সম্পদ অর্জন করেছে কি না, সে বিষয়টি দেখা হচ্ছে। তাদের জমা দেয়া সম্পদ বিবরণী যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।