ঢাকা-উত্তরবঙ্গ ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে ট্রেনচালক নিহত

প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০১৭, ১০:০১ | আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৭, ১১:৩১

অনলাইন ডেস্ক

গাজীপুরের বক্তারপুর এলাকার রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষের পর বন্ধ থাকা ট্রেন চলাচল ছয় ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হয়েছে। ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষের ওই ঘটনায় সহকারী ট্রেনচালক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫০ জনের মতো ট্রেন যাত্রী। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত দুটার দিকের ওই দুর্ঘটনায় ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে ধূমকেতু, সুন্দরবন, একতা, রংপুর এক্সপ্রেসসহ বেশ কয়েকটি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। ছয় ঘণ্টা পর সকাল আটটার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

দুর্ঘটনায় নিহত নূর আলম শরীফ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার শশা গ্রামের মমিন শরীফের ছেলে। তিনি ট্রেনের সহকারী চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর ইব্রাহিম চৌধুরী জানান, রাত দুটার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনটি কালিয়াকৈরের বক্তারপুর রেলক্রসিংয়ে পৌঁছলে রয়েল গ্রুপের একটি বিকল ট্রাকের সঙ্গে ট্রেনটির সংঘর্ষ হয়। এ সময় ট্রেনের সহকারী চালক ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত হয় অন্তত ৫০ ট্রেনযাত্রী। পরে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া সাতটি বগি রেখে চারটি বগি নিয়ে ট্রেনটি খাড়াজোড়া এলাকায় পৌঁছে।

দুর্ঘটনার পর ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনের বগিগুলো সরিয়ে নেয়া হলে ছয় ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বাইপাস সড়কের রেলক্রসিংয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটিবাহী ট্রাকটি বিকল আটকে যায়। ট্রেন আসতে দেখে ট্রাকের চালক ও হেলপার গাড়ি থেকে নেমে যায়। এর কিছুক্ষণ পর ভয়াবহ সংঘর্ষে ট্রাকটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় অনেক যাত্রী ট্রেন থেকে লাফ দিতে গিয়ে আহত হন।

লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনের চালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ট্রেনটি থামাতে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলাম। ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লাগার পরই ট্রেনের ব্রেকসিগন্যাল ও হাওয়া বের হয়ে যায় এবং পিলার এসে ট্রেনের ওপর পড়ে। এ সময় ট্রেনের চালক নূর আলম শরীফ ট্রেনের ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশের মধ্যে আটকা পড়ে মারা যান।

পিডিএসও/হেলাল