আরিচায় যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০১৭, ১১:৩৭

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জ শিবালয় উপজেলার আরিচাঘাট পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে এই পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি ভাঙনও অব্যাহত আছে। নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমিসহ নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। রাস্তাঘাট ভেঙে ও ডুবে যাওয়ায় হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অভাব দেখা দিয়ে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির।

শিবালয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার (জিআর) মো. ফারুক হোসেন জানান, যমুনা নদীর এ পয়েন্টে গত কয়েকদিন ধরে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বুধবার সকাল নয়টা পর্যন্ত বিপদসীমা (৯.৪০ মিটার) এক সেন্টিমিটার নিচে ছিল। এর পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ১৩ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

নদী তীরবর্তী এলাকার জনপ্রতিনিধিরা জানায়, গত কয়েকদিন থেকেই যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। যমুনার পাশাপাশি এর শাখা নদী ইছামতি, কালিগঙ্গা ও ধলেশ্বরীতেও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারী, বাঁচামারা, বাঘুটিয়া, জিয়নপুর ও খলসী ইউনিয়নের ইসলামপুর, বাসাইল, মুন্সিকান্দি, জোতকাশি, বেপারীপাড়া, ফকিরপাড়া, রাহাতপুর, চুয়াডাঙ্গা, হাজিপাড়া, কাচারীপাড়া, উত্তরখন্ড, অহেল আলীর পাড়া, গোবিন্দপুর, নকের আলী মাদবরপাড়া, বাঘপাড়া, মন্ডলপাড়া, বড়টিয়া, আমতলী, কাটাখালি ও বৈন্যা এলাকার অনেক স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

শাখা নদী তীরবর্তী শ্রীধরনগর, কুস্তা, ঘিওর, মাইলাগি, জাবরা, তরা, বেউথা, নয়াকান্দিসহ প্রভৃতি নতুন নতুন এলাকাও ভাঙনের মুখে পড়েছে। অনেক স্থানে বাঁধ ভেঙে নদী তীরবর্তী এলাকাসমূহে পানি ঢুকে পড়েছে। নিম্নাঞ্চলের অনেক বাড়িঘর ইতোমধ্যেই ডুবে গেছে। ফসল ক্ষেতও প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার দুর্গতদের জন্য সরকারিভাবে খুব একটা ত্রাণ আসেনি বলেন জানান জনপ্রতিনিধিরা।

মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আলিমুজ্জামান মিয়া জানান, বন্যায় প্লাবিত এলাকার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা হচ্ছে। এদিকে বন্যা পরিস্থিতির খোঁজখবর নিতে ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষের টেলিফোন নম্বর ০২৭৭১১৫৯০ এবং মোবাইল নম্বর ০১৭১৩৫০২৮১৫ ও ০১৮৪১৫০০০১৫। বন্যাসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য উপরোক্ত টেলিফোন ও মোবাইল নম্বরে জানাতে সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করেছেন জেলা প্রশাসক নাজমুছ সাদাত সেলিম।

পিডিএসও/হেলাল