বুড়িমারীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৭, ১৩:২৫ | আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৭, ১৩:৩৫

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

দেশের অন্যতম স্থলবন্দর লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। রোববার ভোর থেকে বুড়িমারীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

লালমনিরহাটের রেলওয়ের সহকারী ট্রাফিক সুপারিয়েন্টেন্ট (এটিএস) সাজ্জাত হোসেন সাংবাদিকদের জানান, বন্যার পানি লালমনিরহাট বুড়িমারী রেলরুটের অনেক স্থানে রেললাইনের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রচণ্ড গতিতে পানি প্রবাহের কারণে বেশ কিছু স্থানে লাইনের নিচে সুড়ঙ্গ গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এ রুটের বুড়িমারী থেকে হাতিবান্ধা উপজেলার পারুলিয়া পর্যন্ত রেল চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ কারণেই বুড়িমারী স্থলবন্দর তথা পাটগ্রাম, হাতিবান্ধা ও কালীগঞ্জ উপজেলা সম্পূর্ণ রুপে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে লালমনিরহাটসহ সারাদেশের সঙ্গে।

তবে এ রুটে লালমনিরহাট থেকে  কালীগঞ্জের-কাকিনা পর্যন্ত ধীর গতিতে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক থাকবে। সৃষ্ট বন্যায় লাইনের কোথাও ভেঙে বা নষ্ট হতে দেখলে স্থানীয় রেলস্টেশনে খবর দিতে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান ওই রেল কর্মকর্তা।

আজ সকাল ৯টার দিকে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় বিপদসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার উপর। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজার রহমান জানান, গত শুক্রবার থেকে তিস্তার পানি প্রবাহ বিপদসীমা অতিক্রম করছে। উজানের ঢল ও টানা  কয়েকদিনের ভারি বর্ষণে শনিবার দিনভর বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও রাতে তা আরও বেড়ে যায়।

ব্যারাজ রক্ষার্থে তিস্তায় রের্ড এলার্ট জারি করে লোজনকে নিরাপদে সড়ে যেতে মাইকিং করে বলা হয়। গভীর রাতে ব্যারাজের ফ্লাড বাইপাস উপচে পানি প্রবাহিত হয়। ব্যারাজ রক্ষার্থে ফ্লাড বাইপাস কেটে দেয়া দরকার হলেও স্থানীয়দের বাঁধায় তা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য পুলিশ সদস্যরা এলেও কাজে আসছে না। ব্যারাজ রক্ষার্থে সেখানে সেনাবাহিনীর সহায়তা চান এ প্রকৌশলী। আজ সকাল ৯টায় ডালিয়া পয়েন্ট তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় (৫৩ দশমিক ০৫)। যা স্বাভাবিকের ( ৫২ দশমিক ৪০সেন্টিমিটার) ৬৫ সেন্টিমিটার উপরে।

পিডিএসও/হেলাল