ভালুকায় মৎস বিপ্লব

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৭, ২০:১১

মো. আক্কাছ আলী, ভালুকা (ময়মনসিংহ)

ভালুকা সদর,বিরুনীয়া,মল্লিকবাড়ী ও ভরাডোবা ইউনিয়নসহ ভালুকার প্রায় সব ইউনিয়নে মাছের চাষ হচ্ছে। তবে এই চারটি ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশী মাছের চাষ হচ্ছে। এই চারটি ইউনিয়নে বছর দশেক আগেই বিভিন্ন প্রজাতীর ধান আবাদ হতো মৌসুম এলেই দেখা যেতো ওই ইউনিয়নের গ্রাম জুরে ধানের সমারোহ। এখন ওই ইউনিয়নের প্রায় সকল ধানের আবাদী জমিতে শুধু মাছের ফিসারীজ । যতদুর চোখ যায় বিসৃত ফিসারীশ চোখে পরে। যেখানে সরাসরি জড়িত রয়েছে প্রায় ৬ হাজার মাছের খামারী। আর কর্মসংস্থান হয়েছে অন্তত ২০হাজার লোকের। বেকারত্ব জীবনকে আকার আনতে আবার কেউ বা শখের বশে কেউবা ব্যাবসায়িক উদ্দেশ্যে এসব খামার ঘরে তুলছেন। ওই এলাকার যুবকরা নিজের জমিতে বা জমি লিজ নিয়ে ঘরে তুলছেন এসব ফিসারীজ। বর্তমানে ভালুকায় ছোট –বড় পুকুরের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার। ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালের পর পরই ভালুকার মাছের খামার এখন দেশব্যাপী সমাদৃত।

সরেজমিনে ভালুকা সদর ইউনিয়নের মেদিলা গ্রামের কয়েকজন ফিসারী মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই মাছের খামার করতে প্রথম দিকে বহু বাঁধা বিপত্তি এবং সীমাবন্ধতার মধ্য থেকেও এখন মোটামুটি সবাই লাভের মুখ দেখছে।বাশিঁল গ্রামের সফল মৎস্য চাষী ওমর হায়াত খান নইম জানান, আমি গত পনের বছর যাবত এই ফিসারীজ ব্যবসার সাথে জড়িত। আমার খামারের মাছ এখন যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তিনি জানান, বর্তমানে তার ফিসারীতে ২লক্ষ পাঙ্গাস ও ২/৩ লক্ষ দেশী জাতের বিভিন্ন মাছ আছে পুকুরে। এই ব্যবসায় আমি সফল। আমি কয়েকবছর আগে উপজেলা মৎস্য অফিস হতে সেরা খামারীর পুরস্কার পেয়েছি। তবে তিনি হতাশা নিয়ে বলেন, সামপ্রতিক ভালুকা সকল সড়কগুলোর নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর বর্তমানে মাছের খাদ্য আনা ও মাছ বিক্রি করার পরিবহন খরচ পরছে বেশী।

ভালুকা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শিহাব আমীন খান জানান,সদর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে কেউ না কেউ এই শিল্পের সঙ্গে জরিত। বিগত ১০বছর ধরে এই ইউনিয়নে মৎস্য শিল্পের যাত্রা শুরু হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা ঘরে ঘরে গিয়ে পৌছিয়েছে। তিনি আরও জানান, ভালুকায় এই পর্যন্ত প্রায় ৬/৭জন খামারী জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার পেয়েছে। তন্মধ্যে রেনু উৎপাদনেও একজন খামারী জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে।
ভালুকা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রুমানা শারমীন জানান,বর্তমানে ভালুকায় ৬০হাজার মেট্রিক টন পাঙ্গাস ও অন্যান্য অন্য জাতের ৮৪হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হচ্ছে।ভালুকায় উৎপাদিত মাছের বিপ্লব এখন আরও প্রসারিত করার জন্য ভালুকার পাঙ্গাস মাছ আমেরিকা সহ উন্নত দেশে রপ্তানীর জন্য কিছু স্যাম্পল কোয়ালিটি কন্ট্রোল ল্যাবে পাটানো হয়েছে। আমরা আশা করি ইতিবাচক সারা পাবো । বিদেশের বাজার পেলেই খামারীরা আরও খামার করতে উৎসাহিত হবে। তিনি আরও জানান, আমরা মৎস্য অফিস হতে চাষীদের বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করে থাকি।


পিডিএসও/রানা