হালনাগাদ ভোটার ফরম সংকটে চকরিয়াবাসী

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৭, ১৮:২৬

নাজমুল সাঈদ সোহেল, চকরিয়া

ভোটার হওয়া  নাগরিকত্বের মৌলিক অধিকারের মধ্যে অন্যতম।  সরকারি  বিধি মোতাবেক ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া ভোটার হাল নাগাদ কার্যক্রম কক্সবাজারের চকরিয়ায় অন্তত ১০ সহস্রাধিক  তরুণ-তরুণী ভোটার হতে পারছেনা, বঞ্চিত হচ্ছে ন্যায্য অধিকার থেকে। জনসাধারণের চাহিদানুরুপ ফরম না পাওয়ায় এ সংকট দেখা দিয়েছে।কিন্তু তথ্য সরবরাহকারীদের উদৃতি দিয়ে বলা যায়, প্রাপ্ত ফরমের চেয়ে অন্তত তিনগুণ বেশি চাহিদায় ভোটার হতে ইচ্ছুক তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সি নারী-পুরুষরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছে। ভোটার গড় অনুপাতে দুই বছরের মধ্যে নয় শতাংশ নারী-পুরুষ ভোটার হতে চাওয়া অবিশ্বাস্য।  

মূলত এই অঞ্চলে পারিবারিক অসচেতনতা ও প্রকৃতিগতভাবে জন্মহার বেশি হলেও ভোটার হতে ইচ্ছুকের পরিমান এতো বেশি হওয়ার কথা নয় বলে ভোটার কার্যক্রম সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো.সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২০১৫ সালে সর্বশেষ ভোটার হালনাগাদ করা হয়। ওই সময়ের ভোটার সংখ্যার অনুপাতে সারাদেশের তিন দশমিক পাঁচ শতাংশ ভোটার করার পরিকল্পনা নিয়ে ফরম সরবরাহ করা হয়। চকরিয়ায় ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ৭১ হাজার ৪৫৩ জন। সারা দেশের সমিক্ষার অধিক চার দশমিক পাঁচ শতাংশ ভোটার করতে ১২ হাজার ফরম একটি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়নে ৩৯জন সুপারভাইজারের মাধ্যমে ১৯৬ জন তথ্য সংগ্রহকারীর কাছে পাঠানো হয়েছে। যারা এবার ভোটার হতে পারবেন না তারা আগামী জানুয়ারিতে ফের হালনাগাদকালে ভোটার হতে পারবেন বলেও তিনি জানান।

কিন্তু তথ্য সরবরাহকারীরা জানায়, প্রাপ্ত ফরমের চেয়ে অন্তত তিনগুণ বেশি ভোটার হতে ইচ্ছুক তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সি নারী-পুরুষরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছে। ভোটার অনুপাতে দুই বছরের মধ্যে নয় শতাংশ নারী-পুরুষ ভোটার হতে চাওয়া অবিশ্বাস্য। এই অঞ্চলে  প্রকৃতিগতভাবে জন্মহার বেশি হলেও ভোটার হতে ইচ্ছুকের পরিমান এতো বেশি হওয়ার কথা নয় বলে নির্বাচন কর্মকর্তার অভিমত।

দুই বছরের  ব্যাবধানে ভোটার হতে উচ্ছাসিত অভিভাবক মহল এলাকার জনপ্রতিনিধির সাথে এ প্রতিবেদকের আলাপ কালে জানা যায়, চকরিয়ায় ২০০৯ সালে ভোটার হতে ইচ্ছুক বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষকে ভোটার করা হয়নি। ২০১৪ ও ১৫ সালে যেসময় ভোটার হালনাগাদ করা হয় ওইসময় অল্পদিনের ব্যবধানেই এসএসসি, এইচএসসি, ডিগ্রী ও সমমানের মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ভোটার হয়নি। এবার বোর্ড পরীক্ষা পরবর্তী সময়ে ভোটার হালনাগাদ হওয়ায় বাদ পড়া শিক্ষার্থীরা একসাথে ভোটার হতে ইচ্ছে পোষন করায় আগ্রহী ভোটারের সংখ্যা অত্যাধিক বেড়ে গেছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কর্মকর্তাও সত্যতা স্বীকার করেন যে ভোটার হতে আগ্রহী ৯ -১০সহস্রাধিক  নারী-পুরুষ ফরম সংকটের কারণে ভোটার হতে পারছেনা। তবে, তথ্য সংগ্রহকারীদের কাছে কাগজপত্র জমা দেয় তথ্যাদি পাওয়ার পর বাদ পড়া ভোটারের সঠিক পরিমাণ জানা যাবে।

তবে উপজেলা নির্বাচন অফিস  এলাকার চাহিদামতো ফরম সরবরাহ দিতে না পারার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন মাত্র দুই বছররের মধ্যে ভোটর হালনাগাদ করতে গিয়ে অবিশ্বাস্য সংখ্যক তরুণ-তরুণী ভোটার হতে আগ্রহ প্রকাশ করায় পর্যাপ্ত ফরম দেয়া যাচ্ছেনা।

পিডিএসও/রিহাব