রোডশো ও আঁশ কল বিতরণ

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৭, ২১:১৮

রংপুর প্রতিনিধি

সেমি-অটোমেটেড মেশিন আঁশকলের  জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে রোডশো ও আঁশ কল বিতরণ করা হয়। মঙ্গলবার  এ উপলক্ষে আরডিআরএস  প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপ-সচিব মো: রুহুল আমিন মিয়া,বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরে  উপ-পরিচালক স.ম আশরাফ আলী , প্র্যাকটিক্যাল এ্যাকশন কান্ট্রিডিরেক্টর হাসিন জাহান, অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে করেন  আর ডি আর এস পরিচালক উন্নয়ন কর্মসূচী, মন্জুশ্রী সাহা,  এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্র্যাকটিক্যাল এ্যাকশন ড. ফারুক-উল- ইসলাম, রংপুর চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইনন্ডাস্ট্রিস সহ-সভাপতি আজাদ মিয়া , বাংলাদেশ পাটগবেষণা ইনস্টিটিউটের ড. আবুল ফজল মোল্লা ,কারুপন্য রংপুর লিমিটেড মাহবুব রহমান প্রমূখ। পরে একটি রোডশো শহর প্রদক্ষিণ করে । 
এই প্রকল্পের একটি অন্যতম লক্ষ্য পাটের আঁশের মান উন্নয়ন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পাটজাত পণ্যের চাহিদা তৈরি করা। একি সাথে সেমি অটো মেশিনের মাধ্যমে পাটের ছাল ছাড়ানো, তুলানামুলক ভাবে কম পরিশ্রমে এবংপরিবেশ বান্ধব এবং উন্নত পদ্ধতিতে পাট পচনের মাধ্যমে পাটের আঁশের মান উন্নয়ন করণ। পাট থেকে উন্নতমানের পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন গুণগত মানের পাট এবং সঠিক আঁশ সংগ্রহেরপদ্ধতি। কিন্তু অনুন্নত গতানুগতিক পদ্ধতিতে আঁশ সংগ্রহ করার ফলে পাটের গুণগত মান কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি সময়, শ্রম ও অর্থ অপচয় হচ্ছে। অতিরিক্ত শ্রম, অর্থ ও সময় বাঁচানোর লক্ষ্যে পাটচাষীদের সুবিধার জন্য সম্প্রতি আঁশকল’ নামে পাটের ছাল ছাড়ানোর যন্ত্রের ব্যবহার শুরু হয়েছে। এইঅটোমেটিক মেশিনে খুব সহজে, কম সময়ে পাটের ছাল ছাড়ানো যায়। এই মেশিনে গতানুগতিক পদ্ধতির তুলনায় খরচ প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ। এই মেশিনে অপচয় কম হয় এবং আঁশের গুণগত মানও ভালো থাকে।সাধারণত পাটের আশ পঁচাতে প্রচুর পরিমাণ পানি এবং জায়গার প্রয়োজন হয়। কিন্তু, আঁশকলে ছাড়ানো পাট পঁচাতে পানির প্রয়োজন হয় কম। পাটকাঠি টুকরা হয়ে যায় বলে এর ব্যবস্থাপনা সহজ হয়। এই মেশিনটির পরিচালনা পদ্ধতি খুবই সহজ, ফলে নারী বা পুরুষ, যে কেউ এটি চালাতে সক্ষম। এরমেরামত স্থানীয় মেকানিকরাই সহজে করতে পারে। টুকরা পাটকাঠি জ্বালানি হিসেবে, চারকোল ও পারটেক্স বোর্ড তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াওকার্বন পেপার, কম্পিউটার ও ফটোকপি মেশিনের কালি, আতশবাজি, প্রসাধন পণ্য, মোবাইলের ব্যাটারী,ক্ষেতের সার প্রভৃতি পাটকাঠির কার্বন থেকে তৈরি হয়। পাটের ছাল ছাড়ানো ছাড়াও মেশিনটিরবহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। এর ইঞ্জিনটিকে মূল মেশিন থেকে খুলে ধান/গম/ভূট্টা মাড়াইযন্ত্র, সেচযন্ত্র পরিচালনায় শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।
পাট বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় শিল্প। পাট ও পাটকাঠির বাণিজ্যিক ব্যবহার বাড়াতে এই আধুনিক পদ্ধতির আঁশকল এর ব্যবহার খুবই লাভজনক। এ পদ্ধতির ফলে সময়, শ্রম ও অর্থ সাশ্রয়ের মাধ্যমে পাটচাষী ওব্যবসায়ীরা সফল হতে পারে।প্র্যাকটিক্যাল এ্যাকশন বাংলাদেশ “জুট টেক্সটাইল ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরের মাধ্যমে বাংলাদেশেরউত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন” প্রকল্পটি আরডিআরএস বাংলাদেশ, রংপুর চেম্বারস অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ,কারুপণ্য রংপুর লিমিটেড, রংপুর জেলা লেদ মেশিন শ্রমিক ইউনিয়ন মিলে একসাথে ইউরোপিয়নইউনিয়ন এর আর্থিক সহযোগীতায় বাস্তবায়ন করছে।পাট বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় সেক্টর। পাট সেক্টরের বিভিন্ন পতিকূলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য অতিসম্প্রতি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ৪টি জেলায়, রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট এবং গাইবান্ধায় রোডশো আয়োজন করা হয়। 

পিডিএসও/রানা