চকরিয়ায় সৃষ্ট যানজটের কারণে জনদূর্ভোগের সীমা ছাড়িয়ে গেছে

দায়িত্বে থাকা ট্রাফিকের সময় কাটে নিজেদের পকেট সরগরমে

প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০১৭, ১৮:৪৮ | আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৭, ১৬:০৩

নাজমুল সাঈদ সোহেল, চকরিয়া

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরশহরের চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে সৃষ্ট যানজটের কারণে জনদূর্ভোগের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। পথচারীদের মুখে মুখে একটাই প্রশ্ন, কবে আমরা যানজট থেকে মুক্তি পেতে পারি বা আদৌ পাব কিনা? সরকারি ব্যাবস্থাপনায় পৌর শহরকে যানজটমুক্ত রাখতে নির্দিষ্ট ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও যানজট নিরসনে যেন নির্বিকার।

চকরিয়া পৌরসভার গ্রেড উন্নিতকরণের পর থেকে নিয়মতান্ত্রিক সকল ব্যবস্থাপনা থাকার পরেও এর সুফল থেকে বঞ্চিত কিছু অসাধু শ্রেণীর কর্মকর্তার কারণে। ইতোমধ্যে চকরিয়া পৌর মেয়র মোঃ আলমগীর চৌধুরী ও চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাহেদুল ইসলাম যানজট নিরসনে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। যানজট নিরসনের ভিত্তিতে বেশ কয়েকবার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন ইউ এন ও সাহেদুল ইসলাম। কিন্তু তার পরের দিনই পরিলক্ষিত হয় সেই আগের চিত্র বিরাজমান।কারণ নিয়মিত দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক সদস্যের অবজ্ঞা ও অবহেলা ছাড়া আর কিছুই  নেই।

স্থানীয় জনসাধারণ জানান, শহীদ আব্দুল হামিদকে বাসটার্মিনাল চত্বরে ট্রাফিক পুলিশ হিসেবে ডিউটি করতে কখনো দেখিনি, প্রতিনিয়ত দেখা মিলে পৌর শহর জুড়ে পুরাতন বাস ষ্টেশন ঢাকা ব্যাংকের নীচে একটি গাড়ির কাউন্টারস্থ একটি দোকানে আড্ডারত অবস্থায় সার্জেন্ট নিজামসহ তার সহযোগীদের। তাদের অধীনস্থ  বেশ কয়েকজন দালাল রয়েছেন এদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বাস টার্মিনাল যাত্রী উঠানামার স্থান থাকলেও যাত্রী উঠানোর জন্য পুরাতন বাস ষ্টেশন চত্বরে এলোপাথারি গাড়ি ট্রাফিকদের সামনেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, বিনিময়ে গাড়িপ্রতি ৫০ টাকা করে নেয়। এর প্রেক্ষিত যানজট লেগে থাকে।

চকরিয়া পৌরশহরের বক্স রোডে ছারপোকা ও ম্যাজিক গাড়ি ইচ্ছেমত দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠানোর মাধ্যমে সৃষ্ট যানজটের আরেকটি কারণ। তাদের কাছ থেকে নেন মাসিক মাসোয়ারা। বক্স রোডের পশ্চিম পাশ থেকে বদরখালি, মানিকপুর, পূর্ব পাশ থেকে কৈয়ারবিল, ডুলাহাজারা তিন চাকার সিএনজি ও টমটমে ছাড়ার নির্দিষ্ট জায়গা ব্যবহৃত হওয়ায় সৃষ্ট যানজটের মূল কারণ। এসব লাইন পরিচালনার অফিস থেকে আসে মোটা অংকের মাসিক মাসোয়ারা সার্জেন্ট নিজামের পকেটে। তিন চাকাবিশিষ্ট কোন যানবাহন মেইন রোডে আসার অনুমতি না থাকলেও  মাসিক বিনিময়ের কারণে আইনের তোয়াক্কা করেনা কোন গাড়ির চালক।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) জানান, টমটমের কারণে সৃষ্টি হচ্ছে দূর্ঘটনা, যানজট। অনেকাংশ গাড়ির কন্ডিশন ভালো নেই। একদিন হঠাৎ একটি টমটম গাড়ির চাকা খুলে গিয়ে একটি দেওয়ালের সাথে ধাক্কা দেয়, চিরিংগা বানিজ্যিক এলাকায় ওয়ানওয়ে চলাচলের কথা থাকলেও চলতেছে একমূখী, যার ফলে সৃষ্টি হয় যানজট। রাস্তার মাঝখানে দাঁড় করিয়ে নেয় যাত্রি, কোনো ড্রাইভার নিয়ম মানে না। প্রশিক্ষিত কোনো ড্রাইভার নেই বললে চলে। এভাবে চললে দূর্ঘটনা বেড়ে যাবে। গাড়ির জায়গায় চলাচল করে মানুষ, আর মানুষের জায়গায় চলাচল করে গাড়ি।সাধারণ  চকরিয়াকে দূর্ঘটনা ও যানজটমুক্ত চাই, সবার যাত্রা নিরাপদ হোক।

পিডিএসও/রিহাব