জড়ির কাজ করে সংসারে বাড়তি আয়

প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০১৭, ১১:০৬

ভূপেন্দ্র নাথ রায়

দিনাজপুরের খানসামায় নারীরা অবসরে লেহেঙার জড়ির কাজ করে সংসারে বাড়তি আয় করছে। উপজেলার দুবলিয়া গ্রাম ঘুরে এ মনোরম দৃশ্য চোখে পড়ে। ক্লান্ত দুপুরে চাষী যখন ব্যস্ত বিশ্রাম নিতে, ঠিক সে সময় কৃষাণী বাড়ির বাইরের উঠোনে গাছের ছায়ায় বাঁশের টং কিংবা ভাঙা টেবিলে কাপড় বিছিয়ে জড়ির পুঁতি বসাচ্ছে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষাণীর পাশাপাশি তাদের ছোট মেয়েরা কিংবা কোন কৃষাণীর স্বামীও এ কাজে তাকে সাহায্য করে যাচ্ছে। খানসামা উপজেলার নারীরা কিছুদিন আগে তাদের স্বামীদের কৃষিকাজে মাঠে-ঘাটে সাহায্য করেছিল। দিনমজুর হিসেবেও কাজ করে সংসারের ঘানি টেনে যাচ্ছিল। উন্নয়নে যে পিছিয়ে ছিল এ বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু আজ খানসামার চিত্র পুরোপুরি পাল্টে গেছে। গ্রামের নারী-পুরুষেরা বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত। তাদের পিছন ফিরে তাকানোর ফুরসত নেই। কেউ আবার পার্শ্ববর্তী উত্তরা ইপিজেড, নীলফামারীতে কর্মী হিসেবে কাজ করছেন। বাকি নারীরা অন্যান্য কাজের পাশাপাশি বাড়ির কাজের অবসরে লেহেঙায় জড়ির পুঁতি বসাচ্ছেন।  

কাজের ফাঁকে কথা হলো অঞ্চলা রানীর সঙ্গে। সে বললো, হামার (আমার) স্বামী জমিত কাম করে আর হামরা (আমি) আন্না-বাড়া করির পর লেহেঙার কাম করি। বাড়িত বসি ডেলি (দৈনিক) ৭০ থাকি ১৪০ টাকা কামাই করি। যখন কাম থাকে না তখন হামার বাড়িআলা (তার স্বামী) এই কাজত হেলেপ করে। জড়ির কাজ করা কনিকা নামের আরেক নারীর সঙ্গে কথা হলে সে জানায়, মোর বেটি মাঝেমাঝে জড়ি নাগাতে সাহায্য করে। হামরা দুই মা বেটিতে দিনে দুই খান পাটত (দুটি পার্টে) জড়ি নাগের পারি।

দেখা গেল, খানসামা উপজেলার দক্ষিণ-পূর্ব শেষ প্রান্তে দুবলিয়ার বাড়াই পাড়ায় কাকুলি, প্রতিমা, শিল্পী,পূর্নিমা, বিথী, শান্তনা, অনিতা, চাম্পা, সবিতাসহ ২৫-৩০টি পরিবারের নারীরা জড়ির কাজ করে যাচ্ছেন। এ কাজ করে তারা নিজেদের শখের জিনিসপত্র নেয়ার পর সংসারে বাড়তি আয় যুক্ত করছেন।  এও জানা যায়, সৈয়দপুর থেকে মহাজনরা লেহেঙার প্লেইন কাপড় পেন্সিল দিয়ে নকশা করে তাদের বাড়িতে দিয়ে যায়। এরপর তারা ফেভিকল আঠা দিয়ে নকশা অনুসারে বিভিন্ন সাইজের, বিভিন্ন রঙের জড়ির পুঁতি বসান। কাপড়ে পুঁতি বসানো শেষ হলে মহাজন এগুলো নিয়ে যায় এবং আবার নতুন কাপড় দিয়ে যায়।

পিডিএসও/হেলাল​